প্রিয়াঙ্কা চতুর্বেদী, সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : বর্ষা নামলেই ঘরের ভেতর ঢুকে পড়ে স্যাঁতসেঁতে ভাব। জানলা-দরজা বন্ধ রাখলেও বাতাসের ভিজে গন্ধ যেন কোথাও আটকে থাকে না। এই সময়েই বহু বাড়িতে দেখা যায় এক অস্বস্তিকর সমস্যা, কাঠের দরজা বা আলমারির পাল্লা হঠাৎ করে আটকে যাচ্ছে (wooden door stuck solution)। যতই টানা হোক, খুলতেই চাইছে না। অনেকে আবার জোর করে টানতে গিয়ে দরজার কাঠামোই ক্ষতিগ্রস্ত করে ফেলছেন। দৈনন্দিন জীবনের এই বিরক্তিকর সমস্যার পেছনে রয়েছে সহজ বৈজ্ঞানিক কারণ, আর তার সমাধানও খুব জটিল নয়।
বর্ষাকালে বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেড়ে যায়। এই আর্দ্রতা বা জলীয় বাষ্প কাঠের ভেতরে ঢুকে পড়ে। কাঠের প্রকৃতি এমন যে, তা বাইরের পরিবেশ থেকে জল শোষণ করতে পারে। ফলে কাঠের আয়তন সামান্য বেড়ে যায়। দরজার ফ্রেম বা আলমারির কাঠামো আগে যেমন ছিল, তার সঙ্গে এই ফুলে ওঠা কাঠ খাপ খায় না। তাই দরজা আটকে যাওয়ার মতো সমস্যা তৈরি হয়। অনেকেই এটিকে সাধারণ ঘটনা ভেবে এড়িয়ে যান, কিন্তু দীর্ঘদিন এমন চললে কাঠের স্থায়িত্বও কমে যেতে পারে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য কিছু সহজ টোটকা কাজে লাগানো যেতে পারে। এগুলো নিয়মিত মেনে চললে বর্ষার ভিজে আবহাওয়াতেও কাঠের আসবাব অনেকটাই স্বাভাবিক থাকবে।
প্রথমেই নজর দিতে হবে আসবাবের অবস্থানের দিকে। অনেক সময় কাঠের আলমারি, খাট বা টেবিল সরাসরি মেঝের সংস্পর্শে থাকে। বর্ষায় মেঝেতে জমে থাকা আর্দ্রতা খুব সহজেই কাঠের ভেতরে ঢুকে পড়ে। তাই আসবাবের পায়ের নিচে প্লাস্টিক বা রবারের ক্যাপ ব্যবহার করা ভালো। এতে কাঠের সঙ্গে মেঝের সরাসরি সংযোগ কমে এবং নিচ থেকে জলীয় বাষ্প ওঠার সম্ভাবনাও কমে যায়। ছোট একটি পরিবর্তন হলেও এর প্রভাব বেশ কার্যকর।
ঘরের ভেতরের পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ করাও জরুরি। স্যাঁতসেঁতে ঘরে কাঠ দ্রুত জল টেনে নেয়। তাই ঘরের ভেতর যতটা সম্ভব শুকনো রাখার চেষ্টা করা উচিত। ন্যাপথলিন বা অনুরূপ উপকরণ ব্যবহার করলে অতিরিক্ত আর্দ্রতা কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। পাশাপাশি আলমারির কোণে শুকনো নিমপাতা বা লবঙ্গ রাখলে কাঠের ওপর ছত্রাক বা পোকামাকড়ের আক্রমণ কম হয়। এই পদ্ধতিগুলি ঘরোয়া হলেও বেশ কার্যকর বলে মনে করা হয়। পরিষ্কারের ক্ষেত্রেও সচেতন হওয়া প্রয়োজন। অনেকেই বর্ষাকালে ভেজা কাপড় দিয়ে আসবাব মুছতে অভ্যস্ত। এতে সাময়িকভাবে পরিষ্কার লাগলেও কাঠের ভেতরে আরও বেশি আর্দ্রতা ঢুকে যায়। ফলে সমস্যা বাড়ে। তার বদলে শুকনো, নরম সুতি কাপড় ব্যবহার করাই ভালো। এতে ধুলো পরিষ্কার হবে, কিন্তু কাঠ ভিজবে না। নিয়মিত পরিষ্কার রাখলে আসবাবের আয়ুও বাড়ে।
এছাড়াও কাঠের সুরক্ষায় মোম বা পলিশ ব্যবহার করা যেতে পারে। বাজারে পাওয়া যায় স্প্রে মোম, যা কাঠের ওপর একটি পাতলা আবরণ তৈরি করে। এই স্তর কাঠকে বাইরের আর্দ্রতার হাত থেকে রক্ষা করে। অনেকেই তার্পিন তেল ব্যবহার করেন, কিন্তু বর্ষার সময় এটি ব্যবহার না করাই ভালো। কারণ এতে কাঠের স্বাভাবিক গঠন ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তার বদলে স্প্রে মোম ব্যবহার করলে কাঠের উজ্জ্বলতা বজায় থাকে এবং সুরক্ষাও নিশ্চিত হয়। দরজা আটকে গেলে জোর করে টানাটানি করা ঠিক নয়। এতে দরজার ফ্রেম বেঁকে যেতে পারে বা কবজায় চাপ পড়তে পারে। বরং সমস্যার মূল কারণ দূর করাই বেশি কার্যকর। প্রয়োজনে দরজার প্রান্তে হালকা ঘষামাজা করে নেওয়া যেতে পারে, তবে সেটি কারিগরের সাহায্যে করাই ভাল।
একজন কাঠমিস্ত্রির (Carpenter) কথায়, ‘বর্ষায় কাঠের ফুলে ওঠা খুব সাধারণ ব্যাপার। তবে নিয়ম মেনে যত্ন নিলে এই সমস্যা অনেকটাই কমানো যায়।’ তাঁর কথায়, ঘরের ভেতরের আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণে রাখাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কিন্তু, বর্ষার দিনগুলোতে ঘরের আরাম বজায় রাখতে এই ছোট ছোট যত্নই বড় পার্থক্য গড়ে দিতে পারে। কাঠের আসবাব শুধু সৌন্দর্য বাড়ায় না, বাড়ির আবেগের সঙ্গেও জড়িয়ে থাকে। তাই সঠিক যত্ন নিলে বহু বছর ধরে একই রকম ব্যবহারযোগ্য রাখা সম্ভব।
ছবি : প্রতীকী ও সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Sohini Sarkar pregnancy | তৃতীয় বিবাহবার্ষিকীতেই সুখবর! ‘দুই থেকে তিন’ : সোহিনী ও শোভনের পরিবারে আসছে নতুন সদস্য




