Tarapith hotel fire 2026 | তারাপীঠে আগুনে ভয়াবহ মৃত্যু! মেঘালয়ের একই পরিবারের দুই শিশু-সহ ৫ জন, হোটেল অগ্নিকাণ্ডে মৃত বেড়ে ৯

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ তারাপীঠ, বীরভূম ১৭ আগষ্ট ২০২৬ : তারাপীঠে পুজো দিতে এসে আর বাড়ি ফেরা হল না মেঘালয়ের একটি পরিবারের। সোমবার ভোরে বীরভূমের তারাপীঠে একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে (Tarapith Fire incident) একই পরিবারের পাঁচ সদস্যের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে রয়েছে দুই শিশুও। হোটেলের একেবারে উপর তলায় থাকা ওই পরিবারের সদস্যেরা আগুনের খবর পেয়ে একসঙ্গে নীচে নামার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু বেরোনোর পথেই তাঁদের সামনে আগুনের ভয়াবহতা বাধা হয়ে দাঁড়ায়। শেষ পর্যন্ত ওই পরিবারের কাউকেই জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। এই ঘটনায় মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৯। আহত অবস্থায় আরও কয়েক জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। প্রশাসন সূত্রে খবর, মেঘালয়ের সাউথ গারো হিলস (South Garo Hills) জেলার শিববাড়ি গ্রামের একটি পরিবার তারাপীঠে এসেছিল পুজো দিতে। সোমবার ভোরে তাঁদের থাকার হোটেল ‘বিদেশিনী’-তে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। মৃতদের মধ্যে রয়েছেন রাজেন্দ্র নাথ, তাঁর স্ত্রী আশা নাথ এবং তাঁদের আট বছরের ছেলে ঔষনাথ মদক। একই পরিবারের আরও এক সদস্য বুরান মদক ও তাঁর ১০ বছরের ছেলে শিবরাজ মদকেরও মৃত্যু হয়েছে। একসঙ্গে বেড়াতে এসে এমন মর্মান্তিক পরিণতি হবে, তা ভাবতে পারেননি কেউই।

আরও পড়ুন : Operation Sindoor latest news, Ajit Doval Operation Sindoor : ‘ভারতের সহনশীলতাকে দুর্বলতা ভাববেন না’, অপারেশন সিঁদুর নিয়ে পাকিস্তানকে কড়া বার্তা অজিত ডোভালের

মৃতদের তালিকায় মেঘালয়ের ওই পরিবারের পাঁচ সদস্য ছাড়াও আলিপুরদুয়ারের তিন বাসিন্দার নাম রয়েছে। তাঁরা হলেন কমল রায়, অমিত পাল এবং সুবীর সাহা। অগ্নিকাণ্ডে আরও এক জনের মৃত্যু হয়েছে। প্রশাসনের হিসাব অনুযায়ী, হোটেল থেকে ২৮ জনকে নিরাপদে বার করে আনা সম্ভব হয়েছে। সাত জন এখনও রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তারাপীঠ থানার কাছেই অবস্থিত হোটেল ‘বিদেশিনী’। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার ভোর সাড়ে ৪টে নাগাদ আচমকা হোটেলের নীচের তলায় আগুন লাগে। মুহূর্তের মধ্যে ধোঁয়ায় ভরে যায় হোটেলের একাধিক অংশ। আগুন মূলত নীচের তলা এবং দোতলা পর্যন্ত ছড়িয়েছিল। উপর দিকে আগুন না পৌঁছলেও ঘন ধোঁয়া পাঁচতলা পর্যন্ত চলে যায়। সেই সময় হোটেলের অধিকাংশ আবাসিক ঘুমের মধ্যে ছিলেন। আগুনের তাপ, ধোঁয়া এবং হইচইয়ে তাঁদের ঘুম ভেঙে যায়।

ঘটনার পর হোটেলের ভিতরে চরম আতঙ্ক তৈরি হয়। ঘুম থেকে উঠে অনেকেই প্রাণ বাঁচাতে দ্রুত নীচে নামার চেষ্টা করেন। হোটেলে বাইরে বেরোনোর জন্য দু’টি দরজা ছিল বলে সূত্রের খবর। কিন্তু আগুন লাগার পরে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। ফলে অন্ধকারের মধ্যে পিছনের দরজা খুঁজে পেতে সমস্যায় পড়েন অনেকে। সামনে রিসেপশনের দিকের পথ ধরে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করতে গিয়ে কয়েক জন সরাসরি আগুন ও ধোঁয়ার মধ্যে পড়ে যান। হোটেলের পিছনের দরজা বন্ধ ছিল বলেও কয়েক জন আবাসিক অভিযোগ করেছেন। সেই অভিযোগ ঘিরে প্রশ্ন উঠেছে হোটেলের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে। যদিও দমকলের তরফে জানানো হয়েছে, হোটেলের অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থায় কোনও ত্রুটি ছিল না। তবে আগুন লাগার সময় বেরোনোর পথ কতটা কার্যকর ছিল, দরজাগুলি খোলা অবস্থায় ছিল কি না এবং হোটেল কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনায় কোনও গাফিলতি হয়েছিল কি না, তা নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে।

অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় হোটেলের মালিক কল্যাণ পালকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে আগুন লাগার কারণ এবং ঘটনার সময় হোটেলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত কীভাবে হল, নীচের তলায় কী কারণে আগুন ছড়াল এবং আগুন লাগার পর আবাসিকদের নিরাপদে বের করে আনতে হোটেল কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ করেছিলেন, এসবই তদন্তের আওতায় রয়েছে।

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই তারাপীঠে পৌঁছন প্রশাসনের আধিকারিকেরা। উদ্ধারকাজের পাশাপাশি আহতদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীনদের অবস্থার উপর নজর রাখা হচ্ছে। মৃতদের পরিচয় শনাক্ত করে তাঁদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলেও প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) সমাজমাধ্যমে শোক প্রকাশ করেছেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও (Narendra Modi) বীরভূমের এই অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানির ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান ও আহতদের দ্রুত সুস্থতার কামনা করেন। স্থানীয় প্রশাসনের তরফে ক্ষতিগ্রস্তদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে।

রামপুরহাটের বিজেপি বিধায়ক ধ্রুব সাহা (Dhruba Saha) ঘটনাস্থলে গিয়ে হোটেলের নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। আগুন লাগার মতো পরিস্থিতিতে আবাসিকদের বেরিয়ে আসার জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা ছিল কি না, তা নিয়েও খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। অগ্নিকাণ্ডের পর তারাপীঠের সমস্ত হোটেল, গেস্ট হাউস ও হোমস্টের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে তৎপর হয়েছে বীরভূম জেলা প্রশাসন। জেলাশাসক ধবল জৈন (Dhawal Jain) তারাপীঠের সমস্ত আবাসনগুলিতে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা পরীক্ষা করার নির্দেশ দিয়েছেন। স্থায়ী অগ্নিনির্বাপণ পরিকাঠামো রয়েছে কি না, বিদ্যুৎ সংযোগ নিরাপদ কি না, জরুরি অবস্থায় বেরোনোর পথ খোলা রয়েছে কি না, প্রতিটি বিষয় খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে।

প্রশাসনের এই তৎপরতার পিছনে আরও একটি বড় কারণ রয়েছে। সামনে কৌশিকী অমাবস্যা। আগামী ৯ সেপ্টেম্বর কৌশিকী অমাবস্যা উপলক্ষে তারাপীঠে বিপুল সংখ্যক পুণ্যার্থীর সমাগম হওয়ার কথা। প্রতি বছর এই সময় কয়েক লক্ষ মানুষ তারাপীঠে পুজো দিতে আসেন। ফলে উৎসবের আগে হোটেল, গেস্ট হাউস ও হোমস্টেগুলির নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরীক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। তারাপীঠ শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের কাছে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তীর্থস্থান। বছরের বিভিন্ন সময়ে এখানে ভক্তদের ভিড় থাকলেও কৌশিকী অমাবস্যায় সেই সংখ্যা অনেকটাই বেড়ে যায়। এমন সময়ে আবাসিকদের নিরাপত্তায় সামান্য গাফিলতিও বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে। তাই সোমবারের মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডের পরে প্রশাসনের সামনে এখন সবচেয়ে বড় কাজ হল প্রতিটি আবাসনে অগ্নিনিরাপত্তার নিয়ম কতটা মানা হচ্ছে, তা পরীক্ষা করা।

একটি পরিবারের পাঁচ সদস্য-সহ ন’জনের মৃত্যু তারাপীঠের এই ঘটনা ভয়াবহ স্মৃতিতে পরিণত করেছে। পুজো দিতে আসা মানুষগুলির মধ্যে যে পরিবারটি ছিল, তাঁদেরই একসঙ্গে হারানোর ঘটনায় স্থানীয় এলাকাতেও শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। তদন্তে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ এবং হোটেলের নিরাপত্তা ব্যবস্থার কোনও গাফিলতি ছিল কি না, তার উত্তর খুঁজছে পুলিশ ও প্রশাসন।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Netaji Seva Kendra West Bengal, Suvendu Adhikari Announcement | প্রতি বিধানসভায় ‘নেতাজী সেবাকেন্দ্র’, মাসে ৩০ হাজার টাকা! প্রাক্তন বিধায়কদের চিকিৎসাভাতাও বাড়ল, বিধানসভায় বড় ঘোষণা শুভেন্দুর

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন