সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : কলকাতার সোনাগাছি (Sonagachi) এলাকায় নাবালিকা পাচারের চাঞ্চল্যকর অভিযোগে তীব্র আলোড়ন তৈরি হয়েছে। উত্তর ২৪ পরগনা (North 24 Parganas) থেকে এক কিশোরীকে প্রতারণার মাধ্যমে এনে যৌনপল্লিতে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তারই ঘনিষ্ঠ পরিচিত এক যুবকের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি সামনে আসতেই দ্রুত পদক্ষেপ করে বড়তলা থানার (Burtolla Police Station) পুলিশ, এবং মাত্র এক ঘণ্টার অভিযানে উদ্ধার করা হয় ওই ১৬ বছরের কিশোরীকে। এই ঘটনায় ইতিমধ্যে গ্রেফতার হয়েছে দু’জন অভিযুক্ত। পুলিশ সূত্রে খবর, ৭ আগস্ট রাতে জরুরি পরিষেবা নম্বর ১০০-এ একটি ফোন আসে। ফোনের মাধ্যমে জানানো হয়, এক নাবালিকাকে সোনাগাছিতে আটকে রাখা হয়েছে ও তাকে দেহব্যবসায় নামানোর চেষ্টা চলছে। একই সময়ে চাইল্ড হেল্পলাইন (Child Helpline) থেকেও একটি ইমেল পাঠানো হয় পুলিশকে। খবর পাওয়ার পরই তৎপর হয়ে ওঠেন তদন্তকারীরা। দেরি না করে বড়তলা থানার একটি দল সোনাগাছির উদ্দেশে রওনা দেয়।
অভিযান শুরু হয় রাতেই। পুলিশ কর্মীরা এলাকার বিভিন্ন বাড়িতে গিয়ে তল্লাশি চালাতে থাকেন। প্রত্যেকটি ঘরে খোঁজ নেওয়া হয়। তদন্তকারীরা জানান, ‘প্রতিটি দরজায় কড়া নেড়ে তথ্য যাচাই করা হয়, যাতে কোনও সূত্র বাদ না যায়।’ প্রায় এক ঘণ্টার মধ্যেই ১৯ নম্বর দুর্গাচরণ মিত্র স্ট্রিট (Durga Charan Mitra Street)-এর একটি ঘর থেকে উদ্ধার করা হয় ওই কিশোরীকে। পরে তার পরিচয় যাচাই করে নিশ্চিত হয় পুলিশ।
সূত্রের খবর, তদন্তে উঠে আসে, কিশোরীকে উত্তর ২৪ পরগনা থেকে কলকাতায় নিয়ে আসে তার পরিচিত বাবুল নামে এক যুবক। পরে জানা যায়, তার আসল নাম শফিকুল মোল্লা (Shafiqul Molla)। অভিযোগ, তিনি পরিকল্পনা করে ওই কিশোরীকে সোনাগাছিতে এনে শাহরুখ নামে এক ব্যক্তির হাতে তুলে দেন। এই শাহরুখের প্রকৃত নাম শাহরুল লশকর (Shahrul Laskar)। যৌনপল্লিতে তাঁর তত্ত্বাবধানেই রাখা হয়েছিল কিশোরীকে। পুলিশ সূত্রে খবর, ‘কিশোরীকে কাজে লাগিয়ে দেহব্যবসা চালানোর উদ্দেশ্য ছিল অভিযুক্তদের।’ এই অভিযোগের ভিত্তিতে দ্রুত গ্রেফতার করা হয় শফিকুল মোল্লা এবং শাহরুল লশকরকে। তাঁদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (Bharatiya Nyaya Sanhita), পকসো আইন (POCSO Act) এবং অনৈতিক পাচার প্রতিরোধ আইনের একাধিক ধারায় মামলা রুজু হয়েছে।
আইন অনুযায়ী অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অপহরণ, ধর্ষণ, মানবপাচার, নাবালিকাকে যৌন ব্যবসায় যুক্ত করার চেষ্টা এবং অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। শনিবার তাঁদের আদালতে তোলা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ‘অভিযুক্তদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে, যাতে পুরো চক্রের তথ্য সামনে আসে।’ এই ঘটনার পর বড় প্রশ্ন উঠছে, কীভাবে এত সহজে একটি নাবালিকাকে অন্য জেলায় এনে যৌনপল্লিতে রাখা সম্ভব হল। তদন্তকারীরা মনে করছেন, এর পেছনে একটি সংগঠিত পাচার চক্র কাজ করছে। গ্রেফতার হওয়া দু’জনের মাধ্যমে সেই চক্রের বিস্তার এবং অন্যান্য জড়িত ব্যক্তিদের খোঁজ পাওয়ার চেষ্টা চলছে।
উদ্ধার হওয়া কিশোরী বর্তমানে সুরক্ষিত স্থানে রয়েছে। তার শারীরিক ও মানসিক অবস্থার দিকে নজর রাখা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়ার পাশাপাশি কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থাও করা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। তদন্তকারীদের একাংশের বক্তব্য, ‘এই ধরনের ঘটনায় দ্রুত পদক্ষেপ অত্যন্ত জরুরি, না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে যেতে পারে।’ এই ঘটনা আবারও সামনে আনল নাবালিকা পাচারের ভয়াবহ বাস্তবতা। বিশেষ করে পরিচিতদের মাধ্যমে প্রতারণার ফাঁদে পড়ে কিশোরী বা তরুণীরা কীভাবে বিপদের মুখে পড়ছে, তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। প্রশাসন জানিয়েছে, এ ধরনের অপরাধ রুখতে নজরদারি আরও জোরদার করা হবে।
পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, ‘যে কোনও সন্দেহজনক ঘটনা দেখলে বা তথ্য পেলে দ্রুত ১০০ নম্বরে জানানো উচিত। সাধারণ মানুষের সহযোগিতাই অনেক সময় বড় অপরাধ ঠেকাতে সাহায্য করে।’ এই ঘটনার ক্ষেত্রেও সেই ফোন কলই দ্রুত উদ্ধার অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। পুরো ঘটনার তদন্ত চলছে। অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদ করে আরও তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। সোনাগাছি এলাকায় এর সঙ্গে যুক্ত অন্য কোনও ব্যক্তি বা চক্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজর এখন এই পাচার নেটওয়ার্ক ভাঙার দিকে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Imtiaz Ali Kolkata visit, Main Wapas Aaunga film | বৃষ্টিভেজা কলকাতায় ইমতিয়াজ আলির আবেগঘন স্বীকারোক্তি, ‘দেশভাগ দেখেছেন যাঁরা, তাঁরা ঘৃণার কথা বলেন না’




