সাশ্রয় নিউজ স্পোর্টস ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি : ফুটবল বিশ্বকাপ মানেই ট্রফি, সোনার পদক আর উচ্ছ্বাসে ভরা বিজয় উদ্যাপন। তবে ২০২৬ সালের বিশ্বকাপকে ঘিরে এক অভিনব উদ্যোগের কথা জানাল ফিফা (FIFA)। এবার থেকে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দল শুধু ট্রফি আর পদকই নয়, পাবে বিশেষ ‘চ্যাম্পিয়নশিপ রিং’। এই প্রথমবার বিশ্বকাপের ইতিহাসে যুক্ত হচ্ছে এমন এক স্মারক, যা এতদিন মূলত আমেরিকার ক্রীড়া সংস্কৃতিতেই সীমাবদ্ধ ছিল। ফিফার তরফে জানানো হয়েছে, ফাইনালের পর পুরস্কার বিতরণী মঞ্চেই চ্যাম্পিয়ন দলের ফুটবলার ও কোচদের হাতে তুলে দেওয়া হবে এই বিশেষ আংটি। সংস্থার এক আধিকারিক বলেন, ‘বিশ্বকাপের স্মৃতি আরও বিশেষ করে তুলতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’ ইতিমধ্যেই সমাজমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে এই রিংয়ের নকশা, যা ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে কৌতূহল তৈরি করেছে।
এই ‘চ্যাম্পিয়নশিপ রিং’ ধারণাটি নতুন হলেও ক্রীড়াজগতে একেবারেই অচেনা নয়। আমেরিকার জনপ্রিয় লিগ যেমন এনবিএ (NBA) বা এনএফএল (NFL)-এ দীর্ঘদিন ধরে চ্যাম্পিয়ন দলকে এমন আংটি দেওয়ার প্রচলন রয়েছে। সেই ধারাকেই এবার ফুটবল বিশ্বকাপে যুক্ত করা হচ্ছে, তাও আবার উত্তর আমেরিকার মাটিতেই অনুষ্ঠিত হতে চলা ২০২৬ বিশ্বকাপের মাধ্যমে। ফিফা জানিয়েছে, ২০২৬ বিশ্বকাপকে স্মরণীয় করে রাখতে মোট ২০২৬টি রিং তৈরি করা হবে। এর মধ্যে মাত্র ৩০টি থাকবে চ্যাম্পিয়ন দলের খেলোয়াড় ও কোচদের জন্য সংরক্ষিত। বাকি রিংগুলি বিশ্বজুড়ে সমর্থকদের জন্য লাইসেন্সপ্রাপ্ত পণ্য হিসেবে বাজারে আনা হবে। ফলে সাধারণ ফুটবলপ্রেমীরাও এই ঐতিহাসিক উদ্যোগের অংশীদার হতে পারবেন।
রিংয়ের নকশা নিয়েও রয়েছে বিশেষ পরিকল্পনা। আংটির এক পাশে থাকবে বিশ্বকাপ ট্রফির প্রতিরূপ, অন্য পাশে থাকবে চ্যাম্পিয়ন দলের পরিচয়, প্রতীক এবং রঙের ছাপ। চ্যাম্পিয়নদের জন্য নির্দিষ্ট আংটিগুলিতে আলাদা নম্বর খোদাই করা থাকবে, যা প্রতিটি প্রাপকের জন্য একান্ত ব্যক্তিগত স্মারক হয়ে উঠবে। জানা গিয়েছে, খেলোয়াড়দের আঙুলের মাপ অনুযায়ী বিশেষভাবে তৈরি করা হবে এই আংটি। ফিফা সূত্রে জানা যায়, ফাইনালের দিনই কোচ ও অধিনায়ককে অস্থায়ী রিং তুলে দেওয়া হবে। পরে প্রত্যেক খেলোয়াড় ও দলের সদস্যের মাপ নিয়ে স্থায়ী রিং তৈরি করে আনুষ্ঠানিকভাবে দেওয়া হবে। সংস্থার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘প্রতিটি রিং আলাদা করে তৈরি করা হবে, যাতে তা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির জন্য বিশেষ হয়ে থাকে।’
২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনাল ঘিরেও উত্তেজনা তুঙ্গে। ১৯ জুলাইয়ের ফাইনালে মুখোমুখি হতে চলেছে আর্জেন্টিনা (Argentina) এবং স্পেন (Spain)। গতবারের চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা, লিয়োনেল মেসির (Lionel Messi) নেতৃত্বে আবারও শিরোপা জয়ের লক্ষ্যে নামছে। অন্যদিকে, স্পেনও দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন দেখছে। যে দলই শেষ পর্যন্ত জিতুক, তারাই প্রথমবার এই নতুন ‘চ্যাম্পিয়নশিপ রিং’ পাওয়ার ইতিহাস গড়বে।
ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের স্মারক খেলোয়াড়দের কাছে আবেগঘন মূল্য বহন করে। ট্রফি দলগত সাফল্যের প্রতীক হলেও ব্যক্তিগতভাবে একটি রিং দীর্ঘদিন ধরে সেই অর্জনের স্মৃতি বহন করে। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, খেলোয়াড়রা তাদের ক্যারিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে এই ধরনের স্মারক সংরক্ষণ করেন। সমর্থকদের জন্য রিং বাজারে আনার সিদ্ধান্তও উল্লেখযোগ্য। এতে একদিকে যেমন বিশ্বকাপকে ঘিরে বাণিজ্যিক দিক আরও শক্তিশালী হবে, অন্যদিকে সমর্থকেরা নিজেদের প্রিয় দলের সাফল্যের অংশীদার হওয়ার সুযোগ পাবেন। ইতিমধ্যেই ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে এই রিং নিয়ে আগ্রহ বাড়ছে।
বিশ্বকাপ বরাবরই নতুনত্বের জন্য পরিচিত। প্রযুক্তির ব্যবহার, ভিএআর (VAR) ব্যবস্থা, স্টেডিয়ামের আধুনিকীকরণ, সব ক্ষেত্রেই পরিবর্তনের ছাপ দেখা গিয়েছে গত কয়েকটি আসরে। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হল ‘চ্যাম্পিয়নশিপ রিং’। এটি শুধু একটি স্মারক নয়, বরং বিশ্বকাপের ঐতিহ্যে নতুন অধ্যায় যোগ করার প্রচেষ্টা। ফিফার এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে স্থায়ী রূপ পাবে কি না, তা সময় বলবে। তবে ২০২৬ বিশ্বকাপ যে নানা দিক থেকে আলাদা হতে চলেছে, তা ইতিমধ্যেই পরিষ্কার। নতুন ফরম্যাট, একাধিক আয়োজক দেশ এবং এই ধরনের অভিনব সম্মান, সব মিলিয়ে আসন্ন বিশ্বকাপ নিয়ে আগ্রহ তুঙ্গে। বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমী এখন অপেক্ষা করছেন সেই মুহূর্তের জন্য, যখন ট্রফির পাশাপাশি বিজয়ী দলের হাতে ঝলমল করবে এই বিশেষ আংটি। ফুটবলের মঞ্চে নতুন এই সংযোজন কতটা জনপ্রিয়তা পায়, সেটাই এখন দেখার।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Cape Verde country profile, Cape Verde football team | ছোট দ্বীপ রাষ্ট্র কেপ ভার্দে: ফুটবল থেকে সমাজ সংগ্রাম, সংস্কৃতি ও সম্ভাবনার অনন্য গল্প


