বাংলায় আবারও নতুন মুখ, ময়ূখ রঞ্জন ঘোষ? উপনির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার জল্পনায় তুঙ্গে রাজনৈতিক চর্চা.. বুদ্ধিদৃপ্ত কাজ বিজেপির

SHARE:

Reporter Mayukh Ranjan Ghosh

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা: বুদ্ধিদৃপ্ত কাজ বিজেপির কোনও সিনেমা বা বিনোদন জগতের নয় একদম সরাসরি সাংবাদিকদের উপর নজর রাজ্য বিজেপির। আর এটাই রাজ্যের উন্নয়নের পদক্ষেপে বড় নজীর। এমনি এক বিশেষ মিডিয়া হাউস -এর পরিচিত মুখ ময়ূখ রঞ্জন ঘোষকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক জল্পনা শুরু হয়েছে। গত রাত থেকেই তাঁর চ্যানেল ছাড়ার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছিল কানাঘুষো। এখন সেই জল্পনা আরও জোরাল হয়েছে। যদিও তাঁর বিজেপিতে যোগদানের বিষয়ে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা সামনে আসেনি। ওই বিশেষ চ্যানেলে দীর্ঘদিন ধরে সিনিয়র এডিটর, হেড অব ইনপুট এবং পরিচিত অ্যাঙ্কর হিসেবে কাজ করেছেন ময়ূখ রঞ্জন ঘোষ। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের সময় তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী -এর সাক্ষাৎকারও নিয়েছিলেন।

সাংবাদিক ময়ূখ রঞ্জন ঘোষ। ছবি : সংগৃহীত

তবে এবার তাঁর পেশাগত ভবিষ্যৎ নিয়েই তৈরি হয়েছে নতুন প্রশ্ন। সূত্রের দাবি, বাংলার সম্ভাব্য উপনির্বাচনে বিজেপির প্রার্থী হিসেবে ময়ূখ রঞ্জন ঘোষের নাম নিয়ে দলের অন্দরে আলোচনা চলছে। কোন কেন্দ্র থেকে তাঁকে প্রার্থী করা হতে পারে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ফলে আপাতত গোটা বিষয়টিই জল্পনার পর্যায়ে রয়েছে।

আরও পড়ুন : Narendra Modi Seychelles, India Seychelles relations | সেশেলসে ঐতিহাসিক মুহূর্ত, স্বাধীনতা দিবসের সুবর্ণজয়ন্তীতে প্রধান অতিথি নরেন্দ্র মোদী, ভারত-সেশেলস সম্পর্কে নতুন গতি

আলোচনায় উঠে আসছে নন্দীগ্রাম, রেজিনগর ও বসিরহাটের মতো কেন্দ্রের নাম। তবে কোনও কেন্দ্রেই তাঁর প্রার্থীপদ থাকবে তা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি। ফলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, বিজেপির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত কোনও একটি কেন্দ্রের নাম নিশ্চিত করে বলা ঠিক হবে না। ময়ূখ রঞ্জন ঘোষের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা রয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক ইস্যুতে তাঁর প্রকাশ্য অবস্থান ও সাংবাদিকতা নিয়ে একাধিকবার বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ফলে সাংবাদিকতা থেকে সরাসরি সক্রিয় রাজনীতিতে প্রবেশ করলে তা বাংলার রাজনৈতিক ও সংবাদমাধ্যমের জগতে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা হয়ে উঠতে পারে।

এরই মধ্যে তাঁর অফিস-সংক্রান্ত গতিবিধি নিয়েও নানা দাবি সামনে এসেছে। সূত্রের বক্তব্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার নিউজরুমে শেষবার দায়িত্ব পালনের পর তিনি একাধিক অফিসিয়াল প্রক্রিয়া থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন। অফিসিয়াল ই-মেল ব্যবহার বন্ধ করা ও বিভিন্ন অফিসিয়াল WhatsApp গ্রুপ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার কথাও দাবি করা হয়েছে। যদিও এই দাবিগুলির বিষয়ে তাঁর পক্ষ থেকে প্রকাশ্যে কোনও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁর বিজেপিতে যোগদানের সম্ভাবনা নিয়ে আরও একটি বিষয় রাজনৈতিক মহলে আলোচনায় এসেছে। অতীতে বামপন্থী ছাত্র সংগঠনের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ ছিল বলে বিভিন্ন মহলে দাবি করা হয়েছে। সেই অতীত রাজনৈতিক পরিচয়ের সঙ্গে বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থানের তুলনা টেনে ইতিমধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে অতীতের কোনও রাজনৈতিক যোগসূত্রের ভিত্তিতে তাঁর বর্তমান রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো ঠিক হবে না।

উপনির্বাচনে বিজেপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে ময়ূখের নাম উঠে আসার খবর সত্যি হলে তা নিঃসন্দেহে বঙ্গ রাজনীতিতে নজরকাড়া ঘটনা হবে। বিশেষ করে, একজন পরিচিত টেলিভিশন সাংবাদিকের সরাসরি নির্বাচনী রাজনীতিতে প্রবেশের সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক প্রচার ও জনসংযোগের ক্ষেত্রেও নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে। তবে আপাতত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন একটাই যে, ময়ূখ রঞ্জন ঘোষ কী সত্যিই সাংবাদিকতা ছেড়ে সক্রিয় রাজনীতিতে প্রবেশ করছেন? বিজেপির প্রার্থী হওয়ার জল্পনা কতটা সত্যি? নাকি অন্য কোনও পেশাগত পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর? এই প্রশ্নগুলির উত্তর মিলবে বিজেপির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ও ময়ূখ রঞ্জন ঘোষের নিজের বক্তব্য সামনে এলে। এখনও পর্যন্ত তাঁর পক্ষ থেকে কোনও নিশ্চিত প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তাই ‘বিজেপির প্রার্থী’ নয়, আপাতত তাঁকে ঘিরে বিজেপিতে যোগ ও উপনির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার জল্পনা হিসেবেই বিষয়টি দেখা হচ্ছে।

ছবি : সংগৃহীত 

আরও পড়ুন : An Enchanting Evening: Virtuosos Weave Magic with Their Performance

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন