সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ ওয়াশিংটন: আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও কূটনীতির অঙ্গনে ফের আলোড়ন তৈরি করেছে আমেরিকার (US) সম্ভাব্য নতুন শুল্কনীতি। রাশিয়া (Russia) থেকে তেল ক্রয় করা দেশগুলির উপর কড়া আর্থিক চাপ সৃষ্টি করতে মার্কিন সেনেটের (US Senate) একদল সদস্য নতুন নিষেধাজ্ঞা বিল আনার উদ্যোগ নিয়েছেন। এই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে ভারত (India), চিন (China)-সহ মোট পাঁচটি দেশের উপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত আমদানি শুল্ক চাপানো হতে পারে। ইতিমধ্যেই হোয়াইট হাউস (White House) এই বিলের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে বলে সূত্রের খবর। মার্কিন সেনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথাল (Richard Blumenthal) মঙ্গলবার এই বিল প্রসঙ্গে বলেন, ‘রাশিয়া থেকে তেল আমদানি করা প্রধান দেশগুলিকে লক্ষ্য করেই এই প্রস্তাব তৈরি করা হয়েছে। নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে শুল্কের হার ১০০ শতাংশ পর্যন্ত যেতে পারে, যদিও কিছু ক্ষেত্রে ছাড়ের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।’ তাঁর এই মন্তব্য সামনে আসতেই আন্তর্জাতিক বাজারে জল্পনা শুরু হয়েছে, নতুন করে কি শুল্কযুদ্ধের পথে হাঁটছে আমেরিকা?
এই প্রস্তাবিত তালিকায় ভারত ও চিন ছাড়াও রয়েছে স্লোভাকিয়া (Slovakia), হাঙ্গেরি (Hungary) এবং আজ়েরবাইজান (Azerbaijan)। শুধু তেল নয়, রাশিয়া থেকে প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানির ক্ষেত্রেও নিষেধাজ্ঞা আরোপের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ রয়েছে খসড়া বিলে। ফলে জ্বালানি নির্ভরতা এবং কূটনৈতিক ভারসাম্য দুই দিকেই চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে সংশ্লিষ্ট দেশগুলি। উল্লেখ্য, এর আগেও মার্কিন কংগ্রেসে (US Congress) অনুরূপ একটি বিল উত্থাপন করা হয়েছিল। ২০২৫ সালের এপ্রিলে প্রয়াত রিপাবলিকান সেনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম (Lindsey Graham) একটি প্রস্তাব দেন, যেখানে বলা হয়েছিল, যে দেশগুলি আমেরিকার নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য চালিয়ে যাবে, তাদের পণ্যে ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করা হতে পারে। যদিও সেই প্রস্তাব কার্যকর হয়নি, বর্তমান বিলটিকে সেই উদ্যোগেরই সংশোধিত রূপ বলে মনে করা হচ্ছে।
মার্কিন প্রশাসনের অন্দরমহলে এই নতুন বিলকে ঘিরে সক্রিয় আলোচনা চলছে। সেনেট সূত্রে জানা যাচ্ছে, ইতিমধ্যেই ২৬ জন সেনেটর এই প্রস্তাবের পক্ষে সমর্থন জানিয়েছেন। আগামী দিনে আরও সমর্থন জুটতে পারে বলেও আশাবাদী প্রস্তাবদাতারা। অগস্ট মাসের মধ্যেই বিলটি পাশ হতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। তবে এই উদ্যোগ এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন আমেরিকার শুল্কনীতি নিয়ে আগেও আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছিল। প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) -এর আমলে জাতীয় জরুরি অবস্থার আইনের আওতায় বিভিন্ন দেশের উপর শুল্ক আরোপ করা হয়েছিল, যা পরে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট (US Supreme Court) বেআইনি বলে ঘোষণা করে। আদালতের সেই রায়ের পর সাময়িক ভাবে ১০ শতাংশ শুল্ক চালু করা হলেও, সেটিও পরে আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে। এই প্রেক্ষাপটে নতুন করে কঠোর শুল্কনীতি আনার পরিকল্পনা আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতে কী প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষত ভারত ও চিনের মতো বড় অর্থনীতির উপর এর প্রভাব কতটা পড়বে, তা নিয়ে কৌতূহল বাড়ছে। জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রে রাশিয়ার উপর নির্ভরতা কমানো কি আদৌ সম্ভব, নাকি বিকল্প বাজার খুঁজতে হবে, এই প্রশ্নও উঠছে সংশ্লিষ্ট দেশগুলির নীতিনির্ধারকদের মধ্যে।
ভারতের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়া থেকে সস্তায় অপরিশোধিত তেল আমদানির ফলে দেশের জ্বালানি খাতে উল্লেখযোগ্য সাশ্রয় হয়েছে। সেই পরিস্থিতিতে নতুন শুল্ক আরোপ হলে অর্থনৈতিক ভারসাম্যে চাপ তৈরি হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। চিনের ক্ষেত্রেও একই রকম পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। বিশ্ববাজারে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে জ্বালানি আমদানির কৌশল পুনর্বিবেচনা করতে হতে পারে বেইজিংকে। পাশাপাশি ইউরোপের কিছু দেশও এই তালিকায় থাকায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের (European Union) অভ্যন্তরীণ বাণিজ্যনীতিতেও প্রভাব পড়তে পারে। মার্কিন প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে অনেকেই ভূরাজনৈতিক চাপ তৈরির কৌশল হিসেবে দেখছেন। ইউক্রেন (Ukraine) যুদ্ধের পর রাশিয়ার বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা জোরদার করার লক্ষ্যে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও সংশ্লিষ্ট দেশগুলির তরফে এখনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি, তবে কূটনৈতিক স্তরে তৎপরতা শুরু হয়েছে বলেই খবর।
বিশ্ব অর্থনীতির বর্তমান পরিস্থিতিতে এই ধরনের পদক্ষেপ কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। তবে একটি বিষয় পরিষ্কার, রাশিয়া-আমেরিকা দ্বন্দ্বের প্রভাব এখন শুধু দুই দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা ছড়িয়ে পড়ছে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য ও জ্বালানি নীতির পরতে পরতে।
ছবি : সংগৃহীত ও প্রতীকী
আরও পড়ুন : Ashleigh Gardner affair, Australia women cricket controversy | অস্ট্রেলিয়া মহিলা ক্রিকেটে সম্পর্ক বিতর্কে ঝড়: অ্যাশলি গার্ডনারকে ঘিরে পরকীয়া অভিযোগ, দাম্পত্য ভাঙনের জল্পনায় তোলপাড়



