Egg oil benefits, egg yolk oil uses | ডিমের কুসুমের তেলেই লুকিয়ে ত্বক-চুলের যত্নের নতুন ঠিকানা! এগ অয়েল নিয়ে বাড়ছে আগ্রহ, জানুন কী কী উপকার

SHARE:

তনুজা বন্দ্যোপাধ্যায় ★ সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক, কলকাতা : ডিম খাওয়া নিয়ে বহুদিন ধরেই প্রচলিত নানা ধারণা রয়েছে। পুষ্টিগুণের জন্য ডিম প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় জায়গা করে নিয়েছে বহু মানুষের জীবনে। কিন্তু ডিমের কুসুম (Egg yolk) থেকে তৈরি তেল বা এগ অয়েল’ (Egg Oil) নিয়ে এখনও অনেকেই তেমন পরিচিত নন। অথচ এই তেলের ইতিহাস বেশ পুরনো ও আধুনিক সময়েও এর ব্যবহার ক্রমশ বাড়ছে, বিশেষ করে ত্বক ও চুলের পরিচর্যায়। প্রাচীন গ্রীক সভ্যতার নানা সূত্রে এই তেলের উল্লেখ পাওয়া যায় বলে উল্লেখ।

আরও পড়ুন : PM Matsya Sampada Yojana, fish farming subsidy India | মাছ চাষে ভর্তুকি ও ঋণ সুবিধা, প্রধানমন্ত্রী মৎস্য সম্পদ যোজনায় বড় সুযোগ

আরও পড়ুন : Sonakshi Sinha Maldives Vacation | স্বপ্নের গন্তব্য মালদ্বীপে রোম্যান্টিক ছুটির মেজাজে সোনাক্ষী সিনহা ও জাহির ইকবাল

বর্তমান সময়ে উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে ডিমের কুসুম থেকে নির্যাস সংগ্রহ করে এই তেল তৈরি করা হয়। এর বিশেষত্ব হল, খুব অল্প পরিমাণ তেল তৈরি করতে বিপুল সংখ্যক ডিমের কুসুমের প্রয়োজন হয়। জানা গিয়েছে, প্রায় ১৫০ গ্রাম তেল প্রস্তুত করতে প্রায় ৫০টি ডিমের কুসুম ব্যবহার করা হয়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই এই তেল তুলনামূলকভাবে মূল্যবান হিসেবে বিবেচিত। ত্বক ও চুলের যত্নে ‘এগ অয়েল’-এর ব্যবহার নিয়ে ইতিমধ্যেই নানা মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। এই তেলের মধ্যে থাকা প্রাকৃতিক ফ্যাট ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখতে সহায়ক। শুষ্ক ত্বক বা রুক্ষতার সমস্যায় যারা ভোগেন, তাঁদের জন্য এটি একটি কার্যকর বিকল্প হিসেবে উঠে আসছে। নিয়মিত ব্যবহারে ত্বকের মসৃণতা বাড়ে এবং স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা ফিরে আসে বলে দাবি করা হচ্ছে।

ত্বকের বিভিন্ন সমস্যার ক্ষেত্রেও এই তেলের ব্যবহার নিয়ে আগ্রহ বাড়ছে। ব্রণ, দাগছোপ বা ত্বকের অন্যান্য সমস্যায় ‘এগ অয়েল’ ব্যবহারের ফলে উপকার পাওয়া যেতে পারে বলে জানা গিয়েছে। এই তেলে থাকা অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টি-ফাঙ্গাল উপাদান ত্বকের সংক্রমণ রোধে সহায়ক বলে মনে করা হচ্ছে। ফলে দীর্ঘদিনের ত্বকের সমস্যায় ভোগা অনেকেই এখন এই তেলের দিকে ঝুঁকছেন। চুলের যত্নেও এই তেলের ব্যবহার উল্লেখযোগ্য। স্ক্যাল্পে এই তেল মালিশ করলে রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি পায় বলে জানা যায়। এর ফলে চুলের গোড়া মজবুত হয় এবং চুল পড়ার প্রবণতা কমতে পারে। পাশাপাশি খুশকির সমস্যাতেও কিছুটা উপশম মিলতে পারে বলে দাবি। অনেকে আবার নতুন চুল গজানোর ক্ষেত্রেও এই তেল ব্যবহার করছেন।

এই তেল ব্যবহারের একটি প্রচলিত পদ্ধতিও রয়েছে। প্রথমে স্ক্যাল্পে ভালো করে তেল মালিশ করতে হয়। এরপর গরম জলে ভেজানো তোয়ালে দিয়ে মাথা ঢেকে রাখা হয় কিছু সময়ের জন্য। এতে তেলের কার্যকারিতা বাড়ে বলে মনে করা হয়। এই পদ্ধতি অনেকেই নিয়মিত অনুসরণ করছেন। ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখার ক্ষেত্রেও ‘এগ অয়েল’-এর ভূমিকা নিয়ে আলোচনা চলছে। এতে থাকা ভিটামিন ‘A’, ‘B3’ এবং ‘E’ ত্বকের কোষকে সক্রিয় রাখতে সাহায্য করে বলে ধারণা। ফলে বয়সের ছাপ কিছুটা দেরিতে পড়তে পারে। ত্বকের স্থিতিস্থাপকতা বজায় রাখতেও এই তেল উপকারী হতে পারে। আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল অ্যালার্জি সংক্রান্ত বিষয়। অনেকেই ডিম খেলে অ্যালার্জির সমস্যায় ভোগেন। কিন্তু ‘এগ অয়েল’ -এর ক্ষেত্রে সেই ভয় তুলনামূলকভাবে কম বলে জানা গেছে। প্রক্রিয়াকরণের সময় অ্যালার্জি সৃষ্টিকারী উপাদানগুলি নষ্ট হয়ে যায় বলে দাবি করা হয়। ফলে যাঁদের ডিমে অ্যালার্জি রয়েছে, তাঁরাও এই তেল ব্যবহারে আগ্রহ দেখাচ্ছেন।

কিন্তু ত্বক বা চুলে কোনও নতুন উপাদান ব্যবহারের আগে সতর্কতা জরুরি। অনেকেই প্রথমে অল্প পরিমাণে ব্যবহার করে দেখার পরামর্শ দিচ্ছেন, যাতে কোনও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হলে তা দ্রুত বোঝা যায়। বর্তমানে সৌন্দর্যচর্চার বাজারে প্রাকৃতিক উপাদানের চাহিদা বাড়ছে। সেই প্রবণতার সঙ্গে তাল মিলিয়েই ‘এগ অয়েল’ নতুন করে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। ডিমের কুসুমের মতো সহজলভ্য উপাদান থেকে তৈরি এই তেল ভবিষ্যতে আরও বড় জায়গা করে নিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। ত্বক ও চুলের যত্নে নানা কেমিক্যালযুক্ত পণ্যের বিকল্প খুঁজতে গিয়ে অনেকেই এখন প্রাকৃতিক উপাদানের দিকে ঝুঁকছেন। সেই তালিকায় এগ অয়েল একটি নতুন সংযোজন হিসেবে উঠে এসেছে। নিয়মিত ব্যবহারে এর প্রভাব কেমন, তা নিয়ে আলোচনা চললেও আগ্রহের পারদ যে বাড়ছে, তা অস্বীকার করার উপায় নেই।

ছবি : সংগৃহীত ও প্রতীকী 
আরও পড়ুন : Egg Curry Bengali Style | ছোলার ডালে ডিম: ব্যস্ত জীবনে বাঙালির পেটপুজোর নতুন স্বাদ

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন