সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : কলকাতার আকাশ সকাল থেকেই ছিল মেঘে ঢাকা। ধীরে ধীরে দুপুর গড়াতেই নেমে আসে ঝুম বৃষ্টি। শহরের ঐতিহাসিক ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল যেন মুহূর্তে ঢেকে যায় ধূসর জলরঙে। দর্শনার্থীদের ভিড় নেই, চারপাশে নিস্তব্ধতা। ফুচকা ও ভেলপুরির ঠেলাগাড়ি ত্রিপল টাঙিয়ে বৃষ্টির হাত থেকে নিজেদের রক্ষা করছে। ময়দানে সারি দিয়ে দাঁড়ানো ঘোড়ার গাড়ি, ভিজে যাচ্ছে প্রাণীগুলোও। এমন আবহেই শহরে পা রাখলেন বলিউডের জনপ্রিয় পরিচালক ইমতিয়াজ আলি (Imtiaz Ali)। নিজের নতুন ছবি ‘ম্যায় ওয়াপস আউঙ্গা’ (Main Wapas Aaunga)-এর প্রচারে কলকাতায় এসেছেন তিনি। তবে এ শহরে তাঁর আসা নতুন নয়। জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ সময় কাটিয়েছেন এখানে, সেই টান আজও অটুট। দিনভর শহরের একাধিক প্রেক্ষাগৃহে যাওয়ার ব্যস্ততার মাঝেও বিকেলে ভিক্টোরিয়ার সামনে দাঁড়িয়ে বৃষ্টির মধ্যে কথা বললেন তিনি।
খালি পায়ে, হাতে ছাতা এভাবেই ভিজে রাস্তা ধরে হাঁটতে দেখা গেল তাঁকে। পরনে কালো চেক শার্ট ও ডেনিম প্যান্ট। এই দৃশ্য দেখে আশপাশে জমে ওঠে ভিড়। অনুরাগীদের কৌতূহল, এমন বৃষ্টিতে খালি পায়ে হাঁটছেন কেন? হেসে পরিচালক বলেন, ‘এই শহরের রাস্তা আমার খুব চেনা। এখানে অসংখ্য স্মৃতি রয়েছে। কলকাতার বৃষ্টি আলাদা একটা অনুভূতি দেয়। মুম্বইয়ে এমনটা পাই না।’ তিনি আরও জানান, কলকাতার আবহাওয়া তাঁর কাছে বিশেষ প্রিয়। ‘এখানে সকালে রোদ থাকে, তারপর বৃষ্টি নামে, সন্ধ্যায় একটা ঠান্ডা হাওয়া। এই পরিবর্তনটা দারুণ লাগে। মুম্বইয়ে বৃষ্টি শুরু হলে টানা কয়েকদিন চলতেই থাকে,’ বলেন ইমতিয়াজ।
খাবারের ব্যাপারেও কলকাতার প্রতি তাঁর আলাদা টান রয়েছে। রাস্তার খাবার থেকে শুরু করে পাইস হোটেলের ভাত তাঁর পছন্দ। পাশাপাশি পার্ক স্ট্রিটের পুরনো রেস্তরাঁগুলিও তাঁর প্রিয় তালিকায় রয়েছে। এবারের সফরে রাসবিহারী অ্যাভিনিউয়ের এক জনপ্রিয় পাইস হোটেলে যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও বৃষ্টির কারণে তা আর হয়ে ওঠেনি। পরিবর্তে পার্ক স্ট্রিটেই খাবারের পরিকল্পনা করেন তিনি। উল্লেখ্য, বর্তমান ছবিতে দেশভাগের প্রেক্ষাপট তুলে ধরেছেন ইমতিয়াজ। তাঁর ছবিতে প্রেমের গল্পের সঙ্গে জুড়ে রয়েছে ইতিহাসের গভীর ক্ষত। তবে বাংলাভাগ নিয়ে আপাতত কোনও পরিকল্পনা নেই বলেই জানান তিনি। তাঁর কথায়, ‘আমি সদ্য দেশভাগ নিয়ে কাজ করেছি। তাই এখনই বাংলাভাগ নিয়ে ছবি করতে চাই না। তবে চাই, অন্য নির্মাতারা ১৯৭১ সালের কলকাতার সময়কে নিয়ে কাজ করুন।’
এই ছবিকে ঘিরে কিছু বিতর্কও তৈরি হয়েছে। একাংশের তরফে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ উঠেছে। সেই প্রসঙ্গে ইমতিয়াজ় বলেন, ‘এই ছবি এই সময়ের জন্য প্রয়োজনীয়। আমাদের দেশের ইতিহাসে দেশভাগ একটি বড় ঘটনা। যাঁরা সেই সময়ের মধ্য দিয়ে গিয়েছেন, তাঁদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরার চেষ্টা করেছি।’ এরপরই তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেন, ‘দেশভাগের মধ্যে দিয়ে যাঁরা গিয়েছেন, তাঁরা কিন্তু ঘৃণার কথা বলেন না। তাঁদের মনে থাকে ভালবাসা। সেই অনুভূতিটাই আমি দেখাতে চেয়েছি।’ তাঁর মতে, নতুন প্রজন্মের কাছে এই গল্প পৌঁছে দেওয়া জরুরি।ইমতিয়াজ জানান, তাঁর ছবিতে বাংলার প্রতি ভালবাসাও জায়গা পেয়েছে। একটি বাংলা গানও রাখা হয়েছে ছবিতে। তিনি বলেন, ‘এই শহর অনেক কিছু দেখেছে। নানা সময়ে উত্তাল পরিস্থিতির সাক্ষী থেকেছে। সেই অভিজ্ঞতা খুব গভীর।’
এদিন অভিনেতা দিলজীত দোসাঞ্জ (Diljit Dosanjh) -এর প্রসঙ্গও ওঠে। বর্তমানে নানা বিতর্কে জড়িয়েছেন তিনি। তবে ইমতিয়াজ় তাঁর প্রতি আস্থা রাখছেন। পরিচালক বলেন, ‘আমি ওর সঙ্গে আগেও কাজ করেছি। কাজের সময় যে স্বাচ্ছন্দ্য পেয়েছি, তার জন্যই এই ছবিতে ওকে নিয়েছি।’ প্রায় কুড়ি মিনিটের আলাপচারিতার পর অনুরাগীদের সঙ্গে ছবি তোলার অনুরোধ রাখেন তিনি। হাসিমুখে সাড়া দিয়ে সেই আবদার পূরণ করেন। তারপর ফের ‘ওয়াপস আউঙ্গা’র প্রতিশ্রুতি দিয়ে গাড়িতে উঠে পড়েন পরিচালক। প্রসঙ্গত, বৃষ্টিভেজা রাস্তা ধরে ধীরে ধীরে এগিয়ে যায় তাঁর গাড়ি। পিছনে পড়ে থাকে ভিক্টোরিয়ার ধূসর প্রেক্ষাপট, ময়দানের নীরবতা আর কলকাতার সেই চেনা আবেগ, যার টানেই বারবার ফিরে আসেন ইমতিয়াজ আলি।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Ranbir Kapoor Deepika relationship | রণবীরের এক বাক্যে ফাঁস দীপিকার ‘রাগী’ সত্তা, রাগে ফোন ভেঙে ফেলেন দীপিকা পাড়ুকোন




