সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি/মুম্বাই: চলন্ত ট্রেনের ফার্স্ট এসি কুপেকে ‘হানিমুন স্যুট’ -এর আদলে সাজানোর একটি ভিডিও সামনে আসতেই দেশজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা। ১১০০২ নন্দীগ্রাম এক্সপ্রেস (Nandigram Express)-এ নবদম্পতির জন্য ফুল, বেলুন, আলো ও বিশেষ সাজসজ্জার এই দৃশ্য সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনাটি ৬ জুলাই ২০২৬-এ ঘটেছে বলে রেল সূত্রে জানা গিয়েছে। বিষয়টি সামনে আসার পরই কঠোর অবস্থান নেয় ভারতীয় রেল (Indian Railways)। সংশ্লিষ্ট ট্রাভেলিং টিকিট এক্সামিনারকে (Travelling Ticket Examiner বা TTE) সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে এবং শুরু হয়েছে বিভাগীয় তদন্ত। রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ট্রেনে বাইরের ডেকোরেশন সংস্থার প্রবেশ কোনওভাবেই অনুমোদিত নয়। নিরাপত্তা বিধি মেনে চলা বাধ্যতামূলক, সেখানে এই ধরনের কর্মকাণ্ড ‘নিয়ম লঙ্ঘন’-এর সামিল। একজন উচ্চপদস্থ আধিকারিকের কথায়, ‘রেলের কোচের ভেতরে এভাবে বাইরের লোক ঢোকা ও আগুন-সংক্রান্ত উপকরণ ব্যবহার করা নিরাপত্তার পক্ষে ঝুঁকিপূর্ণ’।
ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, নবদম্পতি ফার্স্ট এসি-এর একটি দুই শয্যার কুপে বুক করেছিলেন। ট্রেনটি মহারাষ্ট্রের জালনা (Jalna) স্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকার সময় একটি স্থানীয় ইভেন্ট ডেকোরেশন সংস্থার কয়েকজন কর্মী ট্রেনে উঠে ওই কুপেটিকে সাজিয়ে দেন। সূত্রের খবর, ওই দম্পতি ছত্রপতি সম্ভাজিনগর (Chhatrapati Sambhajinagar) থেকে সড়কপথে জালনায় এসে ট্রেনে ওঠেন ও তার আগেই সাজসজ্জার ব্যবস্থা করা হয়। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, কুপেটি গোলাপি ও সাদা বেলুনে ভরা, ফুলের মালা দিয়ে ঘেরা, পর্দা ও হৃদয় আকৃতির নকশায় সাজানো। বিছানা ও মেঝেতে ছড়িয়ে রয়েছে লাল গোলাপের পাপড়ি, পাপড়ি দিয়ে তৈরি করা হয়েছে হৃদয়ের আকৃতি। কুপের ভেতরে ফেয়ারি লাইট ঝুলছে, দেওয়ালে ‘LOVE YOU’ লেখা, এমনকী কিছু জায়গায় টি-লাইট বা মোমবাতিও দেখা যায়। এই মোমবাতির ব্যবহার নিয়েই সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন উঠেছে, কারণ তা অগ্নি-নিরাপত্তার দিক থেকে বিপজ্জনক হতে পারে।
ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকেই জানতে চান, রেল কী এই ধরনের ব্যক্তিগত সাজসজ্জার অনুমতি দেয়? রেল কর্তৃপক্ষ পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে, এই ধরনের কোনও পরিষেবা তারা দেয় না ও যাত্রীদের তরফেও এভাবে বাহিরের সংস্থাকে যুক্ত করা নিয়মবিরুদ্ধ। এক আধিকারিকের বক্তব্য, ‘রেলের সম্পত্তি নির্দিষ্ট নিয়মে ব্যবহার করতে হবে, ব্যক্তিগত অনুষ্ঠানের জন্য তা বদলে ফেলা যায় না’। ঘটনার জেরে সংশ্লিষ্ট টিটিই-র ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ, তাঁর জ্ঞাতসারেই ডেকোরেশন কর্মীরা ট্রেনে প্রবেশ করেন। যদিও তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি, তবুও প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে তাঁকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। রেল জানিয়েছে, ‘দোষ প্রমাণিত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে’।
এদিকে সামাজিক মাধ্যমে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মতভেদও দেখা গিয়েছে। একাংশের মতে, নবদম্পতির ব্যক্তিগত আনন্দের মুহূর্তকে একটু বিশেষ করে তুলতে এমন আয়োজন অস্বাভাবিক নয়। তবে অন্যদের মত, পাবলিক ট্রান্সপোর্টে নিরাপত্তা ও নিয়ম সবার আগে। এক ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘ব্যক্তিগত আনন্দের জন্য ট্রেনকে ঝুঁকিতে ফেলা যায় না’। আরেকজনের মন্তব্য, ‘রেল যদি অনুমতি না দেয়, তবে এই কাজ হওয়া উচিত হয়নি’। রেল নিরাপত্তা নিয়ে ইতিমধ্যেই একাধিক নির্দেশিকা রয়েছে। আগুন লাগার সম্ভাবনা থাকে এমন কোনও বস্তু ব্যবহার, বাইরের লোকের অনিয়ন্ত্রিত প্রবেশ, বৈদ্যুতিক সংযোগে পরিবর্তন, সবই নিষিদ্ধ। এই ঘটনার পর নতুন করে সেই নির্দেশিকা কঠোরভাবে কার্যকর করার কথা ভাবছে কর্তৃপক্ষ।
সূত্রের খবর, ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা ঠেকাতে স্টেশন ও কোচে নজরদারি আরও বাড়ানো হতে পারে। একজন রেলকর্তার কথায়, ‘যাত্রীদের আরাম ও নিরাপত্তা আমাদের কাছে সমান গুরুত্বপূর্ণ। কেউ নিয়ম ভাঙলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ একই সঙ্গে যাত্রীদেরও সচেতন থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যাতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে। উল্লেখ্য, নন্দীগ্রাম এক্সপ্রেসের এই ঘটনার পর প্রশ্ন উঠেছে, ব্যক্তিগত উদযাপন ও জনপরিবহনের সীমারেখা কোথায় টানা উচিত। নিয়মের বাইরে গিয়ে কিছু করলে তা যতই আকর্ষণীয় হোক, নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার দিকটি উপেক্ষা করা যায় না, এই বার্তাই সামনে আসছে এই বিতর্কের মাধ্যমে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Sonakshi Sinha wedding, interfaith marriage story | বিয়ের স্মৃতিতে ধর্মের মেলবন্ধন! সোনাক্ষী সিন্হার মুখে উঠে এল গায়ত্রী মন্ত্র ও আজানের অনন্য মুহূর্ত




