BJP joining news Bengal | তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে সুখেন্দু-সুস্মিতা-প্রকাশ, রাজ্য রাজনীতিতে নতুন সমীকরণে জোর জল্পনা

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মঞ্চে নতুন আলোড়ন তৈরি করল তিন প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদের বিজেপিতে যোগদান (BJP Joining)। বৃহস্পতিবার সল্টলেকের বিজেপি দফতরে আনুষ্ঠানিকভাবে দলীয় পতাকা হাতে তুলে নিলেন সুখেন্দুশেখর রায় (Sukhendu Sekhar Roy), সুস্মিতা দেব (Sushmita Dev) এবং প্রকাশচিক বরাইক (Prakash Chik Baraik)। রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Samik Bhattacharya) -এর উপস্থিতিতে এই যোগদানকে ঘিরে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা, বিশেষ করে রাজ্যসভার ভবিষ্যৎ সমীকরণ নিয়ে। বিজেপি সূত্রে খবর, রাজ্যসভার তিনটি আসনে নির্বাচনের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের ঠিক পরের দিন এই পদক্ষেপকে রাজনৈতিক দিক থেকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। যোগদানের মঞ্চে শমীক বলেন, ‘আজকের এই ঘটনা ব্যতিক্রমী, কিন্তু দলের অবস্থান থেকে কোনও বিচ্যুতি নয়।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘যাঁরা দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত নন, মানুষের অধিকার কেড়ে নেননি, তাঁদের আমরা আগেই পাশে চাইছিলাম। তাঁরা আমাদের আহ্বানে সাড়া দিয়েছেন।’

আরও পড়ুন : PM Modi Indonesia, Modi crowd Jakarta | ইন্দোনেশিয়ায় মোদী ম্যাজিক! রাস্তায় জনতার ঢল, ফাইটার জেটের এসকর্টে বিদায়, আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের শক্ত উপস্থিতি

এই মন্তব্য ঘিরেই নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। কারণ, অতীতে তৃণমূল থেকে আসা নেতাদের দলে নেওয়া নিয়ে বিজেপির অবস্থান কঠোর ছিল। এমনকি ভোট-পরবর্তী পরিস্থিতিতে তৃণমূলের কেউ যাতে দ্রুত দলে ঢুকতে না পারেন, তার জন্য তিন সদস্যের একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছিল। সেই প্রেক্ষাপটে এই যোগদানকে কেন্দ্র করে দলের অভ্যন্তরেও নানা প্রশ্ন উঠছে। যদিও শমীক ভট্টাচার্য পরিষ্কার ভাষায় বলেন, ‘তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের জন্য দরজা বন্ধ, এই অবস্থান আগেও ছিল, এখনও আছে। তবে এই ধরনের ঘটনা আলাদা গুরুত্ব বহন করে।’ তিনি একটি ইংরেজি প্রবাদ উল্লেখ করে বলেন, ‘এক্সেপশন প্রুভস দ্য ল’, অর্থাৎ ব্যতিক্রমই নিয়মকে আরও দৃঢ় করে।

যোগদানের পর সুস্মিতা দেব নিজের অবস্থান স্পষ্ট করতে গিয়ে বলেন, ‘আমার সমালোচকরা নানা কথা বলতে পারেন, কিন্তু কেউ বলতে পারবেন না যে আমি দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলাম।’ তিনি আরও বলেন, ‘তৃণমূলে এসে এমন কিছু বিষয় কাছ থেকে দেখেছি, যা ভাবনাতেও ছিল না।’ তাঁর এই মন্তব্যে শাসক দলের বিরুদ্ধে পরোক্ষে আক্রমণের ইঙ্গিত মিলেছে। একই সুর শোনা যায় সুখেন্দুশেখর রায়ের বক্তব্যেও। যদিও তিনি দীর্ঘদিন ধরেই তৃণমূলের নীতির বিরোধিতা করে আসছিলেন। রাজ্যসভার সাংসদ পদ এবং দলীয় সদস্যপদ ছাড়ার পর থেকেই তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে নানা জল্পনা চলছিল। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah) -এর সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)-র তরফে তাঁর পরিবারের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন, এই সব ঘটনাও সেই জল্পনাকে আরও উস্কে দিয়েছিল। সুস্মিতা দেবের ক্ষেত্রেও একই রকম রাজনৈতিক গতিপ্রকৃতি দেখা গিয়েছে। তৃণমূল ছাড়ার পর অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা (Himanta Biswa Sarma) -এর সঙ্গে তাঁর বৈঠক হয়। সেই সময় অনেকেই মনে করেছিলেন, তিনি অসমের রাজনীতিতেই সক্রিয় হবেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি বিজেপিতে যোগ দিয়ে জানান, ‘আমি কোথা থেকে যোগ দেব, সেটা নেতৃত্বই ঠিক করে। তাই তাঁদের নির্দেশেই এখানে এসে যোগদান করেছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘বাংলা আমাকে দু’বার রাজ্যসভায় পাঠিয়েছে, তাই বাংলার প্রতি আমার দায়বদ্ধতা রয়েছে।’ প্রকাশচিক বরাইকও এই যোগদানের মাধ্যমে নতুন রাজনৈতিক অধ্যায় শুরু করলেন। যদিও তাঁর বক্তব্য সংক্ষিপ্ত ছিল, তবে তিনি দলের প্রতি আস্থা রেখে কাজ করার কথা জানান।

এই তিন নেতার বিজেপিতে অন্তর্ভুক্তি রাজ্য রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা। বিশেষ করে রাজ্যসভার আসনকে কেন্দ্র করে তাঁদের ভবিষ্যৎ ভূমিকা কী হতে পারে, তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। যদিও শমীক এই প্রসঙ্গে সরাসরি কিছু না বলে বলেন, ‘চর্চা চলুক।’ অন্যদিকে, বিজেপির অন্দরে অতীতে এই ধরনের সিদ্ধান্ত নিয়ে মতভেদও দেখা গিয়েছিল। প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh) প্রকাশ্যে এমন অবস্থানের বিরোধিতা করেছিলেন। পরে শমীক ব্যাখ্যা দেন যে, তিনি কোনও নির্দিষ্ট তত্ত্ব দিচ্ছেন না, বরং পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এখন প্রশ্ন উঠছে, এই যোগদান কি শুধুই প্রতীকী, নাকি এর পিছনে বড় কোনও রাজনৈতিক পরিকল্পনা রয়েছে? বিশেষ করে রাজ্যসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে এই পদক্ষেপ কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে আগ্রহ বাড়ছে রাজনৈতিক মহলে। বিজেপি নেতৃত্বের বক্তব্যে পরিষ্কার যে, অতীতের পরিচয়ের থেকে বর্তমান দলীয় পরিচয়কেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। শমীক বলেন, ‘অতীত সবারই থাকে। এখন তাঁদের একটাই পরিচয়, তাঁরা বিজেপি কর্মী।’ এই মন্তব্যে দলীয় ঐক্যের বার্তাই তুলে ধরতে চেয়েছেন তিনি। উল্লেখ্য, তৃণমূল থেকে বিজেপিতে এই তিন প্রাক্তন সাংসদের যোগদান পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করল। আগামী দিনে এই পদক্ষেপ কতটা প্রভাব বিস্তার করে, তা এখন দেখার অপেক্ষা।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : BJP training Mahaabhiyan 2026 West Bengal, cadre training BJP India | ক্ষমতায় এসে নতুন রণকৌশল বিজেপির! ‘প্রশিক্ষণ মহাঅভিযান’-এ ২৪ ঘণ্টার আবাসিক শিবিরে গড়ে উঠবে দক্ষ কর্মী বাহিনী

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন