সাশ্রয় নিউজ স্পোর্টস ডেস্ক : ফিফা বিশ্বকাপ (FIFA World Cup) মঞ্চে নকআউট পর্ব যত এগোচ্ছে, ততই বাড়ছে চাপ, হিসাব-নিকাশ ও কৌশলগত সিদ্ধান্তের গুরুত্ব। সেই আবহেই নতুন করে বিতর্কে জড়াল ফ্রান্স (France) শিবির। দলের গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলার মাইকেল ওলিসে (Michael Olise) -এর হলুদ কার্ড বাতিলের দাবিতে সরাসরি ফিফা (FIFA) -এর কাছে আবেদন জানিয়েছে কিলিয়ান এমবাপেদের (Kylian Mbappé) দেশ। কোয়ার্টার ফাইনালের আগে এই পদক্ষেপ ফুটবল মহলে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। সম্প্রতি প্যারাগুয়ে (Paraguay) -এর বিরুদ্ধে ম্যাচে হলুদ কার্ড দেখেন ওলিসে। ম্যাচের এক পর্যায়ে প্যারাগুয়ের খেলোয়াড় মাতিয়াস গালার্জার (Matías Galarza) সঙ্গে তিনি দ্বৈরথে জড়ান। রেফারির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতিপক্ষের মুখে আঘাত করার অভিযোগে ওলিসেকে সতর্ক করা হয়। কিন্তু ম্যাচ-পরবর্তী রিপ্লে ফুটেজে ভিন্ন ছবি সামনে আসে। দেখা যায়, ওলিসে মূলত গালার্জার জার্সি টানেন, মুখে সরাসরি আঘাতের কোনও দৃশ্য ধরা পড়েনি।
এই পরিস্থিতিতে ফ্রান্স শিবিরের দাবি, ‘ওলিসের বিরুদ্ধে যে অভিযোগে হলুদ কার্ড দেখানো হয়েছে, তা বাস্তবের সঙ্গে মেলে না।’ তাদের বক্তব্য, রেফারির সিদ্ধান্ত ভুল ব্যাখ্যার উপর দাঁড়িয়ে রয়েছে। ফলে সেই কার্ড বাতিল করা উচিত। ইতিমধ্যেই বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে ফিফার কাছে। এই দাবির পেছনে একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ তুলে ধরছে ফ্রান্স। সম্প্রতি আমেরিকার (United States) ফুটবলার ফোলারিন বালোগুন (Folarin Balogun) -এর ক্ষেত্রে লাল কার্ড দেখানো হলেও পরে তাঁর সাসপেনশন প্রত্যাহার করা হয়। সেই নজির সামনে রেখেই ফরাসি শিবির মনে করছে, ‘একই ধরনের পরিস্থিতিতে ওলিসের ক্ষেত্রেও পুনর্বিবেচনা সম্ভব।’ এই প্রসঙ্গ ঘিরে মার্কিন প্রশাসনের অবস্থান নিয়েও আলোচনা তৈরি হয়েছে, যেখানে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) -এর ভূমিকার কথাও উঠে এসেছে বিভিন্ন মহলে।
ফ্রান্সের এই আবেদন যে শুধুমাত্র নীতিগত নয়, তার পেছনে রয়েছে বড় কৌশলগত হিসাব। বর্তমান স্কোয়াডে ওলিসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। তিনি নিজে গোল না করলেও ইতিমধ্যেই পাঁচটি গোলের পাস বাড়িয়েছেন। আক্রমণভাগে এমবাপে-সহ অন্যদের জন্য সুযোগ তৈরি করার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নকআউট পর্বে একটি হলুদ কার্ডের প্রভাব কতটা বড় হতে পারে, তা ভাল করেই জানে ফ্রান্স। নিয়ম অনুযায়ী, নির্দিষ্ট সংখ্যক কার্ড জমা হলে পরবর্তী ম্যাচে নিষেধাজ্ঞা জারি হয়। কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কো (Morocco) -এর বিরুদ্ধে ম্যাচে যদি ওলিসে আরও একটি হলুদ কার্ড দেখেন, তা হলে সম্ভাব্য সেমিফাইনালে তিনি খেলতে পারবেন না। আর সেই সেমিফাইনালে প্রতিপক্ষ হিসেবে স্পেন (Spain) -এর মতো শক্তিশালী দল থাকলে সমস্যায় পড়তে পারে ফ্রান্স।
এই কারণেই আগেভাগে ঝুঁকি কমাতে চাইছে দলটি। ফরাসি শিবিরের অভ্যন্তরে মত, ‘ওলিসের মতো প্লেমেকারকে হারালে দলের আক্রমণভাগে বড় প্রভাব পড়বে।’ এমবাপে, গ্রিজম্যান (Antoine Griezmann)-দের পাশে তাঁর উপস্থিতি ম্যাচের গতি বদলে দিতে পারে। অন্যদিকে, ফিফার নিয়ম অনুযায়ী ফাইনালে ওঠার পর আগের সব কার্ড বাতিল হয়ে যায়। ফলে কোয়ার্টার বা সেমিফাইনালে কার্ড পেলেও ফাইনালে খেলতে অসুবিধা হয় না। কিন্তু তার আগে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোতে পূর্ণ শক্তির দল নামানোই এখন প্রধান লক্ষ্য ফ্রান্সের। সেই কারণেই এই আবেদনকে ঘিরে তৈরি হয়েছে চাপানউতোর।
ফুটবল বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, ‘ভিডিয়ো অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (VAR) প্রযুক্তি থাকা সত্ত্বেও এমন সিদ্ধান্ত বিতর্ক তৈরি করছে।’ যদিও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার ফিফারই। তারা রিপ্লে, ম্যাচ রিপোর্ট এবং রেফারির বিবরণ খতিয়ে দেখে সিদ্ধান্ত নেবে। এখন নজর ফিফার দিকে। ফ্রান্সের আবেদন গ্রহণ করা হলে নকআউট পর্বের সমীকরণে বড় পরিবর্তন আসতে পারে। অন্যদিকে আবেদন খারিজ হলে কোয়ার্টার ফাইনালে ওলিসেকে বাড়তি সতর্কতা নিয়ে খেলতে হবে। বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে প্রতিটি সিদ্ধান্তের গুরুত্ব অপরিসীম। একটি হলুদ কার্ডই বদলে দিতে পারে ম্যাচের ফলাফল কিংবা পুরো টুর্নামেন্টের গতিপথ। সেই বাস্তবতার মধ্যেই নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে এমবাপেদের দল।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Lionel Messi World Cup 2026 News | ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬: মেসিকে নিয়ে ইংল্যান্ড তারকার মন্তব্যে ফুটবল মহলে তোলপাড়



