সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ তিরুবন্তপুরম : কেরলের জনপ্রিয় অভিনেতা মোহনলালকে (Mohanlal) ঘিরে বহুদিনের বিতর্ক ফের নতুন করে আলোচনায় উঠে এল। বন্যপ্রাণ সংক্রান্ত মামলার বিচার চলাকালীনই তিনি কেরল বন দফতরের (Kerala Forest Department) কাছে নিজের কাছে থাকা আরও হাতির দাঁত ও আইভরি সামগ্রীর ঘোষণা করেছেন। এই ঘোষণার পর বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনিক ও আইনি মহলে নতুন করে তৎপরতা শুরু হয়েছে। কোচির (Kochi) মালায়াট্টুর ডিভিশনাল ফরেস্ট অফিস (Malayattoor Divisional Forest Office) -এর আধিকারিকরা জানিয়েছেন, বন দফতরের অ্যামনেস্টি স্কিমের আওতায় এই ঘোষণা করা হয়েছে। এই স্কিম অনুযায়ী, কোনও ব্যক্তি যদি নিজের কাছে থাকা অরেজিস্টার্ড বন্যপ্রাণ সামগ্রী স্বেচ্ছায় জানিয়ে দেন, তবে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে তা নথিভুক্ত করার সুযোগ থাকে। সেই সুযোগ নিয়েই মোহনলাল তাঁর সংগ্রহের বিস্তারিত তথ্য সামনে এনেছেন।
প্রশাসন সূত্রে খবর, অভিনেতা জানিয়েছেন তাঁর কাছে মোট ১০টি হাতির দাঁত রয়েছে। এর আগে তিনি চারটি দাঁতের কথা জানিয়েছিলেন, পরে আরও ছয়টির কথা উল্লেখ করেছেন। পাশাপাশি তাঁর কাছে ১৩টি আইভরি মূর্তি থাকার কথাও জানিয়েছেন তিনি। এই মূর্তিগুলির মধ্যে ভগবান কৃষ্ণ (Lord Krishna), রাম (Lord Rama) এবং তিরুপতি বালাজির (Tirupati Balaji) প্রতিমা রয়েছে। সব মিলিয়ে এই আইভরি সামগ্রীর মোট ওজন প্রায় ৪৬ কিলোগ্রাম বলে জানা গিয়েছে। মোহনলালের দাবি, তাঁর কাছে থাকা অধিকাংশ হাতির দাঁত তিনি উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছেন বা উপহার হিসেবে পেয়েছেন। তাঁর এই দাবি যাচাই করার জন্য বন দফতর ডিএনএ পরীক্ষা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আধিকারিকদের কথায়, ‘হাতির দাঁত ও আইভরি সামগ্রীর সত্যতা যাচাই করতে বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা করা হবে।’ এই পরীক্ষার ফলাফলের উপর নির্ভর করেই পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
উল্লেখ্য, মোহনলালের বিরুদ্ধে বন্যপ্রাণ সংক্রান্ত একটি মামলা দীর্ঘদিন ধরে চলছে। অভিযোগ, তিনি বেআইনিভাবে হাতির দাঁত নিজের কাছে রেখেছিলেন। ২০১১ সালে আয়কর দফতরের (Income Tax Department) তল্লাশির সময় তাঁর বাড়ি থেকে হাতির দাঁত ও আইভরি সামগ্রী উদ্ধার হয় বলে জানা যায়। এরপরই বন দফতর তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। মামলায় বলা হয়েছিল, যথাযথ অনুমতি ছাড়াই দুই জোড়া হাতির দাঁত তাঁর কাছে ছিল। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়। পরবর্তীতে কেরল সরকার এই মামলা প্রত্যাহারের চেষ্টা করলেও ট্রায়াল কোর্ট সেই আবেদন খারিজ করে দেয়। পরে কেরল হাইকোর্ট (Kerala High Court) সেই সিদ্ধান্ত বহাল রাখে এবং নির্দেশ দেয় যে মামলার বিচার চলবে।
গত বছর কেরল হাইকোর্ট আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়। আদালত মোহনলালের কাছে থাকা আইভরি সামগ্রীর মালিকানা সংক্রান্ত সার্টিফিকেট বাতিল করে দেয়। এর ফলে এই সামগ্রীগুলি রাখার ক্ষেত্রে তাঁর আইনি অবস্থান আরও জটিল হয়ে ওঠে। এই পরিস্থিতিতে নতুন করে হাতির দাঁত ও আইভরি মূর্তির ঘোষণা বিষয়টিকে আবারও শিরোনামে নিয়ে এসেছে। বন দফতরের অ্যামনেস্টি স্কিমের আওতায় এই ঘোষণা করা হলেও, চলমান মামলার উপর এর কী প্রভাব পড়বে, তা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে। আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী, ঘোষণা করা সামগ্রীর সত্যতা যাচাই ও সেগুলির উৎস সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার পরই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্ট এই ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
মোহনলালের মতো জনপ্রিয় অভিনেতাকে ঘিরে এই ধরনের বিতর্ক দক্ষিণী চলচ্চিত্র জগতেও আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। যদিও তিনি নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, তবুও আইনি প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে। বর্তমানে গোটা বিষয়টির দিকে নজর রয়েছে আদালত, প্রশাসন এবং সাধারণ মানুষের। মামলার পরবর্তী শুনানি ও পরীক্ষার ফলাফলের উপর নির্ভর করেই এই বিতর্কের ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Madhuri Dixit Ravi Kishan Interview, Maa Behen Movie OTT | ‘বৃষ্টি-ঝড়, অন্ধকার, কিছুতেই বদলায় না তাঁর হাসি’! মাধুরী দীক্ষিতকে নিয়ে আবেগঘন মন্তব্য রবি কিশানের




