Kalighat TMC rally, Mamata Banerjee protest | মিছিল ঘিরে টানাপোড়েন, হাই কোর্টে কালীঘাট তৃণমূল, বুধবার পথে নামার আগে আইনি লড়াইয়ে শিবির

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তাপ ছড়াল কালীঘাট (Kalighat) তৃণমূল (TMC) -এর উদ্যোগকে ঘিরে। বুধবার নির্ধারিত মিছিলের অনুমতি না মেলায় এ বার কলকাতা হাই কোর্ট (Calcutta High Court) -এর দ্বারস্থ হয়েছে শাসকদলের এই অংশ। মঙ্গলবার আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তারা জানায়, পুলিশ প্রশাসন অনুমতি দিচ্ছে না। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য (Sougata Bhattacharya)-এর বেঞ্চ মামলা দায়েরের অনুমতি দিয়েছে, এবং একই দিনেই শুনানির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সূত্রের খবর, বুধবারের এই মিছিলে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) উপস্থিত থাকতে পারেন। কিন্তু, প্রশাসনের পক্ষ থেকে অনুমতি না মেলায় কর্মসূচি ঘিরে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। কালীঘাট তৃণমূলের তরফে আদালতে জানানো হয়, গণতান্ত্রিক অধিকার অনুযায়ী তারা রাস্তায় নামতে চাইলেও সেই সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না।

আরও পড়ুন : Suvendu Adhikari, Mamata Banerjee | শুভেন্দুর তোপে মমতা, স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ধ্বংসের অভিযোগে তোলপাড় বাংলা

এই পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার পেছনে রয়েছে সোমবারের ঘটনাপ্রবাহ। বারুইপুর (Baruipur) কাণ্ডের প্রতিবাদে ওই দিন নিজ বাসভবনের সামনে থেকে মোমবাতি হাতে মিছিল শুরু করেন মমতা। কালীঘাটের গলি থেকে মূল রাস্তায় বেরোতে গেলে কেন্দ্রীয় বাহিনী (Central Forces) তাঁর মিছিল আটকে দেয় বলে অভিযোগ ওঠে। তবে সেই বাধা উপেক্ষা করে ব্যারিকেড টপকে তিনি মিছিল এগিয়ে নিয়ে যান। শেষ পর্যন্ত হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটে (Harish Chatterjee Street) পৌঁছে যায় মিছিল।

সোমবারের সেই কর্মসূচী ঘিরে রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার চেষ্টা ছিল বলেই মনে করা হচ্ছে। ওই দিনই বারুইপুরে পাঠানো হয় দলের প্রতিনিধিদল। রাজ্যসভার সাংসদ দোলা সেন (Dola Sen), প্রতিমা মণ্ডল (Pratima Mondal) ও প্রাক্তন স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় (Biman Banerjee) সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন এবং আক্রান্ত পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন। অন্যদিকে, বুধবারের মিছিলের উদ্দেশ্য নিয়ে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত জানানো হয়নি। তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, বারুইপুরের ঘটনার প্রতিবাদই এই কর্মসূচির অন্যতম কারণ হতে পারে। যদিও দলীয় স্তরে এই বিষয়ে নির্দিষ্ট বক্তব্য সামনে আসেনি।

মঙ্গলবার আদালতে কালীঘাটপন্থী তৃণমূলের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Kalyan Banerjee) জানান, ‘পুলিশ অনুমতি দিচ্ছে না, তাই আদালতের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।’ তাঁর বক্তব্যের পর বিচারপতি মামলার অনুমতি দেন। দুপুর ২টো নাগাদ শুনানি হতে পারে বলে জানা গিয়েছে। এখন আদালতের নির্দেশের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে দলীয় নেতৃত্ব। এই ঘটনার প্রেক্ষাপটে রাজ্যের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিও আলোচনায় উঠে এসেছে। নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে সংগঠনের ভিত মজবুত করতে বিভিন্ন ইস্যুতে পথে নামার চেষ্টা করছে তৃণমূলের একাংশ। সম্প্রতি হকার উচ্ছেদ ইস্যুতেও রাস্তায় নেমেছিলেন মমতা। যদিও সেই কর্মসূচিতে জনসমাগম তুলনামূলক কম ছিল বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়। এই প্রেক্ষাপটে বুধবারের মিছিলকে গুরুত্বপূর্ণ বলেই দেখা হচ্ছে। দলীয় কর্মী-সমর্থকদের উপস্থিতি কতটা হয়, তা নিয়েও নজর রয়েছে। একই সঙ্গে প্রশাসনের অনুমতি এবং আদালতের নির্দেশ, দুইয়ের উপরই নির্ভর করছে কর্মসূচীর ভবিষ্যৎ।

রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই ধরনের কর্মসূচি ঘিরে অনুমতি না দেওয়া এবং তা নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হওয়া—দুই পক্ষের মধ্যেই সংঘাতের ইঙ্গিত দেয়। অন্যদিকে, শাসকদলের তরফে দাবি করা হচ্ছে, ‘গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগের পথেই এগোচ্ছে তারা।’ এখন দেখার, আদালত কী নির্দেশ দেয় এবং সেই অনুযায়ী বুধবারের মিছিল আদৌ হয় কি না। কালীঘাট থেকে শুরু করে রাজ্যের বৃহত্তর রাজনীতিতে এই ঘটনার প্রভাব কতটা পড়বে, তা নিয়েও কৌতূহল বাড়ছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, আদালতের রায় এবং প্রশাসনের অবস্থান, এই দুইয়ের সমন্বয়েই পরিস্থিতির পরবর্তী দিক নির্ধারিত হবে।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : July 21 firing case Bengal, Kakoli Ghosh Dastidar letter CM | ২১ জুলাইয়ের গুলি-কাণ্ডে ‘নতুন করে বিচার’ দাবি, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে চিঠি কাকলি ঘোষ দস্তিদারের, মমতা সরকারের ভূমিকা নিয়ে তীব্র অভিযোগ

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন