সাশ্রয় নিউজ স্পোর্টস ডেস্ক ★ কলকাতা : আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বড় পরিবর্তনের আভাস মিলছে। এক দিনের ম্যাচের (ODI) গঠন বদলানো থেকে শুরু করে বিশ্বজুড়ে নতুন টি-টোয়েন্টি (T20) প্রতিযোগিতা চালুর পরিকল্পনা ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে ভাবছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (ICC)। চেয়ারম্যান জয় শাহ (Jay Shah)-এর নেতৃত্বে এই পরিবর্তনের প্রস্তাব সামনে আসতেই ক্রিকেটমহলে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা। সূত্রের খবর, স্কটল্যান্ডের এডিনবার্গ (Edinburgh)-এ আইসিসির পূর্ণ সদস্য দেশগুলির প্রতিনিধিদের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হতে চলেছে। সেখানে এক দিনের ক্রিকেটের ওভারের সংখ্যা ৫০ থেকে কমানোর বিষয়টি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকতে পারে। পাশাপাশি একটি গ্লোবাল টি-টোয়েন্টি লিগ চালুর সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। লক্ষ্য একটাই, তিনটি ফরম্যাটকেই টিকিয়ে রাখা এবং দর্শকের আগ্রহ ধরে রাখা।
গত এক দশকে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা যেভাবে বেড়েছে, তাতে সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছে এক দিনের ফরম্যাট। পাঁচ দিনের টেস্টের নিজস্ব ঐতিহ্য থাকলেও, দীর্ঘ সময়ের ম্যাচ এখন অনেক দর্শকের কাছে কম আকর্ষণীয়। কিন্তু ৫০ ওভারের ম্যাচ, যা এক সময় বিশ্ব ক্রিকেটের মূল আকর্ষণ ছিল, তা এখন মাঝামাঝি অবস্থায় আটকে রয়েছে। ম্যাচের সময় দীর্ঘ হওয়ায় অনেকেই পুরো খেলা দেখার আগ্রহ হারাচ্ছেন। এই প্রেক্ষাপটে ওভারের সংখ্যা কমানোর ভাবনা গুরুত্ব পাচ্ছে। ম্যাচের দৈর্ঘ্য কমলে সম্প্রচারযোগ্যতা বাড়বে এবং দর্শকের মনোযোগ ধরে রাখা সহজ হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এক দিনের ক্রিকেটকে নতুন রূপে ফিরিয়ে আনতেই এই পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।
একই সঙ্গে ক্রিকেটকে আরও বেশি দেশে ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যও সামনে রাখা হয়েছে। বর্তমানে ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা প্রধানত কয়েকটি দেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। যদিও নতুন দেশগুলি এই খেলায় যোগ দিচ্ছে, তবে মানের দিক থেকে এখনও অনেকটাই পিছিয়ে। বড় টুর্নামেন্টে সেই ব্যবধান স্পষ্ট হয়ে উঠছে। ভারতের স্পিনার রবিচন্দ্রন অশ্বিন (Ravichandran Ashwin) সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘ক্রিকেটকে যদি অলিম্পিক্সের মতো মঞ্চে বড় করে তুলতে হয়, তাহলে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটকে আরও গুরুত্ব দিতে হবে। এই ফরম্যাটই দ্রুত জনপ্রিয়তা পায়। তবে এক দিনের ক্রিকেট নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে।’ তাঁর এই মন্তব্য নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে।
আইসিসি নাকি ভবিষ্যতের সূচী নতুনভাবে সাজানোর পরিকল্পনাও করছে। বর্তমানে তিন বছরের একটি চক্রে আন্তর্জাতিক সিরিজ় ও টুর্নামেন্ট আয়োজন করা হয়। সেই কাঠামোয় পরিবর্তন এনে এক দিনের ক্রিকেটকে কম সময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার প্রস্তাব রয়েছে। অর্থাৎ, তিন বছরের বদলে দেড় বছরের মধ্যে ODI ফরম্যাটকে গুটিয়ে আনার চিন্তা চলছে। টেস্ট ক্রিকেটের ক্ষেত্রেও সময় ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা হতে পারে। নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে সিরিজ় আয়োজন, ম্যাচের গতি বাড়ানো, এই সব বিষয়ও আলোচনায় রয়েছে। যদিও টেস্ট ক্রিকেটের ঐতিহ্য বজায় রাখার দিকটিও মাথায় রাখা হচ্ছে।
অন্যদিকে, ফ্র্যাঞ্চাইজি টি-টোয়েন্টি লিগের সাফল্য আইসিসিকে নতুন পথে ভাবতে বাধ্য করেছে। আগে বিভিন্ন দেশের লিগের চ্যাম্পিয়নদের নিয়ে ‘চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টি-টোয়েন্টি’ (Champions League T20) আয়োজন করা হত। সেই ধাঁচে আরও বড় আকারে একটি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি প্রতিযোগিতা শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে বিভিন্ন দেশের সেরা দলগুলি অংশ নিতে পারে। এছাড়াও আঞ্চলিক প্রতিযোগিতার সংখ্যা বাড়ানোর কথাও ভাবা হচ্ছে। এশিয়া কাপ (Asia Cup) -এর মতো টুর্নামেন্টের আদলে অন্যান্য অঞ্চলেও প্রতিযোগিতা বাড়ানো হতে পারে। এতে ছোট দেশগুলির ক্রিকেট উন্নয়নের সুযোগ বাড়বে। ভবিষ্যতে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ (World Test Championship) -এর কাঠামোয় পরিবর্তন আনার কথাও আলোচনায় রয়েছে। বর্তমানে ন’টি দল অংশ নেয় এই প্রতিযোগিতায়। সেই সংখ্যা বাড়িয়ে ১২ করা হতে পারে বলে জল্পনা। আয়ারল্যান্ড (Ireland), জ়িম্বাবোয়ে (Zimbabwe) ও আফগানিস্তান (Afghanistan) -এর মতো দেশগুলিকে সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।
কিন্তু, এই সমস্ত পরিবর্তন দ্রুত কার্যকর করা সম্ভব নয় বলেই মনে করা হচ্ছে। আইসিসির বর্তমান সূচি অনুযায়ী আগামী কয়েক বছর আগেই নির্ধারিত। সেই সময়সীমা শেষ হওয়ার পরই নতুন পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হতে পারে। তবুও, এই আলোচনা থেকেই বোঝা যাচ্ছে, ক্রিকেটের কাঠামোতে বড় পরিবর্তনের পথে হাঁটতে চলেছে আইসিসি। ক্রিকেটের ক্রমবর্ধমান প্রতিযোগিতা এবং দর্শকের পরিবর্তিত অভ্যাসের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগোতে গেলে নতুন ভাবনা জরুরি হয়ে উঠেছে। ৫০ ওভারের ম্যাচের ভবিষ্যৎ, টেস্টের অবস্থান এবং টি-টোয়েন্টির বিস্তার—এই তিনটি দিকই এখন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের কেন্দ্রে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Sourav Ganguly: কোচের ভূমিকায় ‘মহারাজ’! প্রিটোরিয়া ক্যাপিটালসকে ফাইনালে তুলে সহকারী শন পোলকের প্রশংসায় ভাসলেন সৌরভ



