সুজয়নীল দাশগুপ্ত, সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ মায়ামি গার্ডেন্স: ফুটবল বিশ্বকাপের (FIFA World Cup) মঞ্চে আবারও নজর কাড়লেন লিয়োনেল মেসি (Lionel Messi)। গোলের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে তিনি গড়লেন নতুন রেকর্ড, আর সেই সঙ্গে আর্জেন্টিনাকে (Argentina) তুলে দিলেন নাটকীয় জয়ে। নির্ধারিত সময় পেরিয়ে অতিরিক্ত সময়ে গড়িয়ে যাওয়া ম্যাচে কেপ ভার্দে (Cape Verde) -এর বিরুদ্ধে ৩-২ ব্যবধানে জয় পেল ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা। কিন্তু অবশ্যই এই জয় সহজ ছিল না। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই চালাতে হয়েছে মেসিদের। এই জন্য অবশ্য ফুটবল প্রেমীদের বাহবা কুড়লেন অত্যন্ত স্বল্প জনসংখ্যার দেশ কেপ ভার্দে।
ম্যাচের ২৯ মিনিটে মেসির পা থেকে আসে প্রথম গোল। সেটিই ছিল লিয়োর বিশ্বকাপ কেরিয়ারের ২০তম গোল, যা তাঁকে সর্বকালের তালিকায় আরও এগিয়ে দেয়। এই গোলের মমধ্যদিয়ে তিনি ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপেকে (Kylian Mbappé) টপকে গেলেন। শুরুটা দারুণ হলেও ম্যাচের গতিপ্রকৃতি দ্রুত বদলে যায়, আর কেপ ভার্দে লড়াইয়ে ফিরে এসে একাধিকবার সমতা ফেরায়।
প্রথমার্ধেই কয়েকটি সুযোগ তৈরি করেছিলেন মেসি। ১৫ মিনিটে তাঁর বাঁ পায়ের শট অল্পের জন্য পোস্টের বাইরে যায়। এরপর একটি ফ্রি-কিক নেন, যা প্রতিপক্ষ গোলরক্ষক ভোজিনহা (Vozinha) সহজেই আটকান। কিন্তু চাপ বাড়তেই থাকে, এবং ঠিক সময়ে ডিফেন্ডার লিসান্দ্রো মার্টিনেজ (Lisandro Martinez) -এর পাস থেকে বক্সের মধ্যে নিখুঁত রান করে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন মেসি। গোল করার পর হাত ছড়িয়ে সতীর্থ খেলোয়াড়কে তিনি কৃতিত্ব দেন। মেসি পরে বলেন, ‘আমরা অনেক ভাল মুহূর্ত তৈরি করেছি, তবে কিছু ভুলও হয়েছে, সেগুলো ঠিক করতে হবে।’ তাঁর কথায় ম্যাচের লড়াই এবং উন্নতির জায়গা দু’টিই উঠে আসে।
যদিও আর্জেন্টিনা ম্যাচের ফেভারিট ছিল, কেপ ভার্দে সহজে হার মানেনি। তারা একবার নয়, দু’বার ম্যাচে সমতা ফেরায় প্রথমে ১-১ এবং পরে ২-২। ফলে ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। সেখানেই মেসির কর্নার থেকে তৈরি হওয়া সুযোগে আসে জয়সূচক গোল। কর্নার কিকটি একাধিক খেলোয়াড়ের মাথা ছুঁয়ে জালে জড়িয়ে যায়, আর তাতেই জয় নিশ্চিত হয়। মেসির এই পারফরম্যান্স আরও একবার প্রমাণ করে, বড় মঞ্চে তিনি এখনও নির্ভরযোগ্য। এই বিশ্বকাপে তাঁর গোল সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭-এ, যা গোল্ডেন বুট (Golden Boot) দৌড়ে তাঁকে এগিয়ে রেখেছে। এমবাপের (Kylian Mbappé) থেকে লিয়োনেল মেসি এখন এক গোল বেশি করেছেন।
লিয়োনেল মেসির সতীর্থ রদ্রিগো দে পল (Rodrigo De Paul) বলেন, ‘ওর সঙ্গে খেলতে পারা আমার কাছে অনেক বড় ব্যাপার। আমরা সবাই ভাগ্যবান যে এই মুহূর্তগুলো একসঙ্গে ভাগ করে নিতে পারছি।’ দলের ভেতরে মেসির প্রভাব যে কতটা গভীর, তা তাঁর বক্তব্যেই পরিষ্কার। প্রসঙ্গত, বিশ্বকাপে টানা আটটি ম্যাচে গোল করার রেকর্ড গড়েছেন মেসি। ২০২২ সালের সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে এবারও তিনি একই ছন্দে রয়েছেন। এই আট ম্যাচে তিনি মোট ১২টি গোল করেছেন, যা তাঁর বর্তমান সময়ের অন্যতম সেরা পারফরমার হিসেবে তুলে ধরেছে। এবিষয়ে আর্জেন্টিনা কোচ লিয়োনেল স্কালোনি (Lionel Scaloni) এ দিনের ম্যাচের পর বলেন, ‘এই দল বারবার প্রমাণ করেছে যে তারা শেষ পর্যন্ত লড়াই করে যায়। কোনো প্রতিপক্ষকেই হালকা করে নেওয়া যায় না।’ তাঁর এই মন্তব্য ম্যাচের কঠিন বাস্তবতাকেই তুলে ধরে।
গোল্ডেন বুটের লড়াইও জমে উঠেছে। মেসি ও এমবাপের পাশাপাশি নরওয়ের এরলিং হলান্ড (Erling Haaland) ও ইংল্যান্ডের হ্যারি কেনও (Harry Kane) দৌড়ে রয়েছেন। তাঁদের প্রত্যেকেই একাধিক গোল করে প্রতিযোগিতাকে তীব্র করে তুলেছেন। তবে মেসির লক্ষ্য শুধু ব্যক্তিগত রেকর্ড নয়, দলকে আবারও বিশ্বকাপ জেতানো। তিনি বলেন, ‘আমরা শেষ পর্যন্ত লড়াই করেছি এবং জয় পেয়েছি।’ এই বক্তব্যে তাঁর লড়াইয়ের মানসিকতা ফুটে ওঠে।
কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনহা (Vozinha) বলেন, ‘আমরা জেতার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি।’ পরাজয়ের পরেও তাঁদের লড়াই যে প্রশংসনীয়, তা অস্বীকার করা যায় না। কিন্তু, এই ম্যাচে আর্জেন্টিনার জয় নিশ্চিত হলেও সামনে আরও কঠিন চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। নকআউট পর্বে প্রতিটি ম্যাচই হবে আরও কঠিন, যেখানে সামান্য ভুলও বড় ক্ষতির কারণ হতে পারে। অন্যদিকে, মেসির ফর্ম এবং দলের লড়াইয়ের মানসিকতা আর্জেন্টিনাকে আত্মবিশ্বাস দিচ্ছে। ফুটবলপ্রেমীদের নজর এখন পরবর্তী ম্যাচে, মেসি কি তাঁর জাদু বজায় রেখে দলকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবেন?
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Lionel Messi World Cup 2026, Messi seven consecutive matches goals | টানা ৭ ম্যাচে গোল, ফ্রিকিকে বিশ্বরেকর্ড : ২০২৬ বিশ্বকাপে মেসির দুরন্ত ফর্ম




