Kiren Rijiju statement, India China border news | অরুণাচলে চিনা অনুপ্রবেশ নয়, ‘ট্রান্সগ্রেশন’ : বিতর্কে সাফ জানালেন কিরেন রিজিজু

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি, বুধবার: অরুণাচল প্রদেশে চিনা সেনার অনুপ্রবেশের অভিযোগ ঘিরে দেশজুড়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, তা নিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু (Kiren Rijiju) স্পষ্ট অবস্থান জানালেন। তিনি জানিয়েছেন, ভারতীয় ভূখণ্ডে চিনের পিপলস লিবারেশন আর্মি (People’s Liberation Army বা PLA) -এর কোনও অনুপ্রবেশ ঘটেনি। সীমান্ত নির্ধারণের অস্পষ্টতার কারণেই এই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়, যা ‘ট্রান্সগ্রেশন’ হিসেবে চিহ্নিত করা উচিত, ‘অনুপ্রবেশ’ হিসেবে নয়। সম্প্রতি অরুণাচল প্রদেশের (Arunachal Pradesh) আপার সুবনসিরি (Upper Subansiri) জেলার একটি উপজাতি সংগঠন অভিযোগ তোলে, গত কয়েক বছর ধরে চিনা সেনা তাদের পৈতৃক কৃষিজমি ও চারণভূমি দখল করে রেখেছে। এই দাবি সামনে আসতেই দেশজুড়ে উদ্বেগ ছড়ায়। বিভিন্ন মহলে এই অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের দাবি ওঠে। সেই প্রেক্ষিতেই বিষয়টি নিয়ে মুখ খোলেন অরুণাচল পশ্চিম (Arunachal West) -এর সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রিজিজু।

আরও পড়ুন : West Bengal anti social activities bill 2026, Suvendu Adhikari new law details | ‘গুন্ডাদমনে’ কড়া পথে বাংলা! এক বছর আটক, সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত : নতুন আইনে বড় পদক্ষেপ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সরকারের

একটি সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘কোনও অনুপ্রবেশ হয়নি। সীমান্ত সম্পূর্ণ নির্ধারিত না থাকায় অনেক সময় দুই দেশের সেনার মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। একে অনুপ্রবেশ বলা ঠিক নয়।’ তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ভারত ও চিনের মধ্যে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা (Line of Actual Control বা LAC) পুরোপুরি নির্দিষ্ট নয়। ফলে উভয় দেশের সেনার অবস্থান নিয়ে ভিন্ন ধারণা কাজ করে, এবং সেই কারণেই মাঝে মধ্যে সীমান্ত লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটে। রিজিজু আরও উল্লেখ করেন, এই ধরনের ঘটনা নতুন নয়। অতীতেও বিভিন্ন সময়ে সীমান্তে এই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যা আলোচনার মাধ্যমে মিটিয়ে নেওয়া হয়েছে। তাঁর কথায়, ‘দুই দেশের মধ্যে যে সীমারেখা রয়েছে, তা সব জায়গায় স্পষ্ট নয়। তাই কখনও কখনও জওয়ানরা নিজেদের ধারণা অনুযায়ী এগিয়ে যান।’

এদিকে, ভারতীয় সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকেও অনুরূপ বক্তব্য সামনে এসেছে। একটি বিবৃতিতে সেনা জানিয়েছে, ‘কিছু সংবাদমাধ্যমে যে দাবি করা হয়েছে, তা ভিত্তিহীন। চিনা সেনার অনুপ্রবেশ বা স্থায়ী ক্যাম্প তৈরির খবরের কোনও বাস্তবতা নেই।’ এই মন্তব্যের পর পরিস্থিতি নিয়ে কিছুটা স্বস্তির বার্তা মিলেছে বলে মনে করা হচ্ছে। কিন্তু, সীমান্ত প্রশ্নে সতর্ক অবস্থান বজায় রাখছে ভারত। সেনা সূত্রে জানা গিয়েছে, ভারত-চিন সীমান্তে পরিস্থিতি বর্তমানে স্থিতিশীল হলেও সংবেদনশীল। দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষার জন্য একাধিক ব্যবস্থা চালু রয়েছে। প্রতি বছর প্রায় ১,১০০টি গ্রাউন্ড-লেভেল বৈঠকের মাধ্যমে সীমান্তে উদ্ভূত সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হয়। এছাড়াও হটলাইন এবং ফ্ল্যাগ মিটিংয়ের মাধ্যমে দ্রুত যোগাযোগ স্থাপন করা সম্ভব হচ্ছে।

সম্প্রতি বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত ‘ওয়ার্কিং মেকানিজম ফর কনসালটেশন অ্যান্ড কো-অর্ডিনেশন’ (Working Mechanism for Consultation and Coordination বা WMCC) -এর ৩১তম বৈঠকেও দুই দেশের মধ্যে সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বিদেশ মন্ত্রক সূত্রে জানা গিয়েছে, সেই বৈঠক ছিল গঠনমূলক এবং পারস্পরিক বোঝাপড়া বাড়াতে সহায়ক। অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় সরকার সীমান্ত পরিকাঠামো উন্নয়নের উপর বিশেষ জোর দিচ্ছে। রিজিজু অতীতে জানিয়েছেন, অরুণাচল প্রদেশের মতো কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে রাস্তা, সেতু ও যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়নের কাজ দ্রুতগতিতে চলছে। তাঁর বক্তব্য, ‘বর্তমান সরকার সীমান্ত অঞ্চলের উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে।’ যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির ফলে সেনার চলাচল এবং নজরদারি আরও শক্তিশালী হয়েছে বলেও দাবি।

সম্প্রতি অবসরপ্রাপ্ত সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী (Upendra Dwivedi) সম্প্রতি জানিয়েছেন, এলএসি-র পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রিত রয়েছে। তাঁর মতে, দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত আলোচনার ফলে বড় ধরনের সংঘাত এড়ানো সম্ভব হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, ‘ভারত তার আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষায় সম্পূর্ণ প্রস্তুত এবং সক্ষম।’ উল্লেখ্য, অরুণাচল ইস্যুতে সাম্প্রতিক এই বিতর্ক দেখিয়ে দিল, সীমান্ত সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ্যে এলে তা দ্রুত রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসে। যদিও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও সেনাবাহিনীর বক্তব্যে আপাতত পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ কিছুটা কমেছে, তবুও বিষয়টি যে সংবেদনশীল, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Narendra Modi Masoud Pezeshkian, India Iran relations | হরমুজ প্রণালী নিয়ে জোর, ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ফোনে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা মোদীর

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন