সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি, মঙ্গলবার: পশ্চিম এশিয়ার অস্থির পরিস্থিতির মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান (Masoud Pezeshkian) -এর সঙ্গে টেলিফোনে কথা বললেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের এই আলোচনায় উঠে আসে আঞ্চলিক নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং কূটনৈতিক সম্পর্কের একাধিক দিক। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) দিয়ে ভারতীয় জাহাজের অবাধ যাতায়াতের প্রশ্নটি এই আলোচনায় গুরুত্ব পায়। সরকারী সূত্রে উল্লেখ, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এই ফোনালাপ অনুষ্ঠিত হয়। প্রায় একই সময়ে পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে উত্তেজনা অব্যাহত থাকায় এই বৈঠককে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। ভারতীয় দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী মোদী জানান, আন্তর্জাতিক জলপথে বাণিজ্য ও নৌচলাচলের স্বাধীনতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। তাঁর কথায়, ‘হরমুজ় প্রণালী দিয়ে ভারতীয় জাহাজগুলির বাধাহীন যাতায়াত নিশ্চিত করা প্রয়োজন, কারণ এই পথ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধমনী।’
হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ, যার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল ও পণ্য পরিবহণ হয়। ভারতের মতো জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশের জন্য এই প্রণালীর গুরুত্ব অপরিসীম। ফলে এই পথের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিয়ে ভারতের অবস্থান যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা এই আলোচনায় আবার সামনে এল। শুধু ভারতের নয়, অন্যান্য দেশের ক্ষেত্রেও এই নৌপথের স্বাধীন ব্যবহার নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। ফোনালাপের সময় ইরান ও আমেরিকার (United States) মধ্যে চলমান কূটনৈতিক আলোচনার প্রসঙ্গও উঠে আসে। মোদী পেজেশকিয়ানকে জানান, ভারত এই আলোচনাকে স্বাগত জানাচ্ছে ও মনে করে, আন্তর্জাতিক সমস্যার সমাধান আলোচনার মাধ্যমেই হওয়া উচিত। তিনি বলেন, ‘দ্বিপাক্ষিক সংলাপ এবং কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমেই দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব।’ এই অবস্থান আন্তর্জাতিক মহলে ভারতের দীর্ঘদিনের নীতিরই প্রতিফলন। এই ফোনালাপের পর প্রধানমন্ত্রী মোদী সমাজমাধ্যমে তাঁর প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেন। সেখানে তিনি লেখেন, ‘আলোচনা ও ধারাবাহিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব বলে আমি মনে করি।’ তাঁর এই মন্তব্য পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
দুই দেশের সম্পর্কের দিক থেকেও এই বৈঠক গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। ভারত ও ইরানের মধ্যে ঐতিহাসিক ও কৌশলগত সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। জ্বালানি, বাণিজ্য এবং অবকাঠামো উন্নয়নসহ একাধিক ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতা রয়েছে। হরমুজ প্রণালী প্রসঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সেই সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার ইঙ্গিত মিলেছে। এদিকে, ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির কথাও এই আলোচনায় উঠে আসে। সম্প্রতি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই (Ayatollah Ali Khamenei) -এর মৃত্যু ঘিরে দেশজুড়ে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। তাঁর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া আগামী ৫ থেকে ৯ জুলাইয়ের মধ্যে সম্পন্ন হওয়ার কথা। এই উপলক্ষে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান প্রধানমন্ত্রী মোদীকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। এই আমন্ত্রণ দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের গুরুত্বকেই তুলে ধরে। উল্লেখ্য, পশ্চিম এশিয়ায় সাম্প্রতিক পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। এই প্রেক্ষাপটে ভারতের অবস্থান কী হবে, তা নিয়ে আগ্রহ রয়েছে বিভিন্ন মহলে। ফোনালাপে মোদীর মন্তব্যে বোঝা যাচ্ছে, ভারত সংঘাতের পরিবর্তে সংলাপ ও স্থিতিশীলতার পথেই জোর দিচ্ছে। হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে অতীতে একাধিকবার উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, যার প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক বাজারেও। তেলের দাম ওঠানামা থেকে শুরু করে বাণিজ্যিক অনিশ্চয়তা সব ক্ষেত্রেই এই প্রণালীর গুরুত্ব রয়েছে। তাই এই পথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্যও একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
ভারতের পক্ষে এই বিষয়ে সক্রিয় কূটনৈতিক ভূমিকা গ্রহণ করা নতুন নয়। অতীতেও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইস্যুতে ভারত সংলাপ ও শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতেও সেই ধারাই বজায় রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। ফোনালাপের মাধ্যমে ভারত-ইরান সম্পর্কের নতুন দিক উন্মোচিত হয়েছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা। বিশেষ করে বাণিজ্যিক পথের নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে দুই দেশের আলোচনা ভবিষ্যতে আরও সহযোগিতার পথ খুলে দিতে পারে।
ছবি: সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Narendra Modi Seychelles, India Seychelles relations | সেশেলসে ঐতিহাসিক মুহূর্ত, স্বাধীনতা দিবসের সুবর্ণজয়ন্তীতে প্রধান অতিথি নরেন্দ্র মোদী, ভারত-সেশেলস সম্পর্কে নতুন গতি




