সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা, বুধবার: আকাশে মেঘের ঘনঘটা কাটার লক্ষণ নেই, বরং আরও কয়েক দিন ধরে বৃষ্টির দাপট বজায় থাকবে দক্ষিণবঙ্গ জুড়ে। আবহাওয়ার সাম্প্রতিক পূর্বাভাসে এমনই ইঙ্গিত মিলেছে। আলিপুর আবহাওয়া দফতর (Alipore Meteorological Department) জানিয়েছে, বুধবার ও বৃহস্পতিবার রাজ্যের দক্ষিণাংশের প্রায় সব জেলাতেই বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সঙ্গে থাকতে পারে ঝোড়ো হাওয়ার দাপট, যার গতি ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছতে পারে। ফলে নাগরিক জীবনে বিঘ্নের আশঙ্কা বাড়ছে। শহর কলকাতা (Kolkata) সহ দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় গত কয়েক দিন ধরেই আকাশ মেঘাচ্ছন্ন। মাঝেমধ্যেই দফায় দফায় বৃষ্টি হচ্ছে, কখনও তা হালকা, আবার কোথাও ভারী বর্ষণও দেখা যাচ্ছে। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এই পরিস্থিতি আপাতত বদলাবে না। একইভাবে কিছু এলাকায় ভারী বৃষ্টির জন্য সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বজ্রপাতের আশঙ্কাও থাকায় সাধারণ মানুষকে সাবধানে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আবহাওয়ার এই পরিবর্তনের নেপথ্যে রয়েছে সক্রিয় দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু (Southwest Monsoon)। বর্তমানে পাঞ্জাব (Punjab) থেকে বিহার (Bihar) পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে মৌসুমি অক্ষরেখা। এর জেরে বঙ্গোপসাগর (Bay of Bengal) থেকে বিপুল পরিমাণ জলীয় বাষ্প ক্রমাগত রাজ্যের উপর প্রবেশ করছে। এই আর্দ্র পরিবেশই মেঘ সঞ্চার ও বৃষ্টিপাতের জন্য অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি করছে। আবহাওয়া দফতরের এক আধিকারিক জানান, ‘মৌসুমি অক্ষরেখার অবস্থান এবং সাগর থেকে জলীয় বাষ্প প্রবাহের কারণে আগামী কয়েক দিন বৃষ্টির প্রবণতা অব্যাহত থাকবে।’ দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলির মধ্যে হাওড়া (Howrah), হুগলি (Hooghly), পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর (East and West Midnapore), নদিয়া (Nadia), মুর্শিদাবাদ (Murshidabad), পূর্ব বর্ধমান (Purba Bardhaman) সহ একাধিক এলাকায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। শহরাঞ্চলে জল জমার সমস্যা দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। একইসঙ্গে গ্রামীণ এলাকায় ফসলের ক্ষতির সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
অন্যদিকে, উত্তরবঙ্গের (North Bengal) ক্ষেত্রে আবহাওয়ার কিছুটা পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিললেও সম্পূর্ণ স্বস্তি মিলছে না। গত কয়েক দিনে প্রবল বৃষ্টি ও পাহাড়ি এলাকায় ধসের কারণে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তা কিছুটা প্রশমিত হতে পারে বলে জানানো হয়েছে। তবে বৃষ্টি পুরোপুরি থামার কোনও সম্ভাবনা নেই। দার্জিলিং (Darjeeling), কালিম্পং (Kalimpong), জলপাইগুড়ি (Jalpaiguri) ও আলিপুরদুয়ার (Alipurduar)-এ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে। পাহাড়ি নদীগুলির জলস্তর নিয়েও সতর্ক দৃষ্টি রাখা হচ্ছে। আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, দক্ষিণবঙ্গে ঝোড়ো হাওয়ার প্রভাব বিশেষভাবে অনুভূত হতে পারে। বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সময় হাওয়ার বেগ ঘণ্টায় ৪০-৫০ কিলোমিটার ছুঁতে পারে, যা গাছপালা ভেঙে পড়া বা বিদ্যুৎ সংযোগে বিঘ্ন ঘটাতে পারে। প্রশাসনের তরফে প্রয়োজনীয় সতর্কতা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের জন্য কিছু সতর্কতামূলক পদক্ষেপের উপর জোর দেওয়া হয়েছে। বজ্রপাতের সময় খোলা জায়গায় না থাকা, জল জমা রাস্তায় অযথা চলাচল না করা এবং প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না বেরোনোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে না যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, কারণ সমুদ্রেও পরিস্থিতি অস্থির থাকতে পারে। আবহাওয়ার এই ধারা কবে বদলাবে, সে বিষয়ে এখনই নির্দিষ্ট করে কিছু বলা যাচ্ছে না। মৌসুমি বায়ুর সক্রিয়তা বজায় থাকলে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফলে আগামী কয়েক দিন রাজ্যের বাসিন্দাদের জন্য আবহাওয়া একটি বড় ফ্যাক্টর হয়ে উঠতে চলেছে।
দক্ষিণবঙ্গে টানা বর্ষণের ফলে শহর ও শহরতলির দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। অফিসগামী মানুষ থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী, সকলেরই ভোগান্তি বাড়ছে। রাস্তাঘাটে জল জমে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে, যার ফলে পরিবহণ ব্যবস্থাও চাপে পড়ছে। একইসঙ্গে স্কুল-কলেজে উপস্থিতির হারেও প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, দক্ষিণবঙ্গে এখনই বৃষ্টির হাত থেকে রেহাই নেই, আর উত্তরবঙ্গেও পুরোপুরি স্বস্তি মিলছে না। আবহাওয়ার এই অস্থির পরিস্থিতিতে সতর্কতাই একমাত্র ভরসা হয়ে উঠেছে।
ছবি : সংগৃহীত ও প্রতীকী
আরও পড়ুন : heatwave children India, UNICEF report 2026 | ভারতে জলবায়ু সঙ্কটে শিশুদের বড় ঝুঁকি: তাপপ্রবাহে বিপন্ন প্রায় ৯ কোটি, চাঞ্চল্যকর ইউনিসেফ রিপোর্টে উঠে এল উদ্বেগজনক চিত্র




