সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি: তিন দশকের বেশি সময় ধরে ঝুলে থাকা যমুনার জল বণ্টন বিতর্কে অবশেষে মিলল সমাধানের রাস্তা। কেন্দ্রীয় উদ্যোগে সোমবার হরিয়ানা (Haryana) এবং রাজস্থান (Rajasthan)-এর মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতাপত্রে স্বাক্ষর হল, যার সাক্ষী থাকলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। দীর্ঘদিনের টানাপোড়েনের পর এই সিদ্ধান্তকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে, কারণ এর ফলে খরাপ্রবণ শেখাবাটী অঞ্চলের বহু মানুষের জলসংকট কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রী সিআর পাটিল (CR Patil), রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী ভজনলাল শর্মা (Bhajanlal Sharma), হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রী নয়াব সিংহ সাইনি (Nayab Singh Saini) ও দুই রাজ্যের জলসম্পদ দফতরের একাধিক আধিকারিক। বৈঠক শেষে জানানো হয়, নতুন চুক্তির ভিত্তিতে বর্ষাকালে হরিয়ানার হাথনিকুণ্ড (Hathnikund) ব্যারাজ থেকে উদ্বৃত্ত যমুনার জল পাইপলাইনের মাধ্যমে রাজস্থানের শেখাবাটী অঞ্চলে পৌঁছে দেওয়া হবে।
চুক্তি অনুযায়ী, সীকর (Sikar), চুরু (Churu) এবং ঝুনঝুনু (Jhunjhunu) জেলার মতো দীর্ঘদিন ধরে জলাভাবের মুখোমুখি হওয়া এলাকাগুলি সরাসরি উপকৃত হবে। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, এই অঞ্চলগুলিতে পানীয় জল এবং কৃষিকাজের জন্য নির্ভরযোগ্য জলের উৎস তৈরি করা হবে, যাতে বারবার খরার পরিস্থিতি মোকাবিলা করা যায়। এই সমঝোতা নতুন হলেও এর শিকড় বহু পুরনো। ১৯৯৪ সালে ‘উচ্চ যমুনা বেসিন চুক্তি’ (Upper Yamuna Basin Agreement)-এর মাধ্যমে প্রথমবার এই জল বণ্টনের কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছিল। সেই চুক্তিতে বলা হয়েছিল, বর্ষার মরসুমে হাথনিকুণ্ড ব্যারাজ থেকে রাজস্থানের জন্য প্রায় ১,৯১৭ কিউসেক জল ছাড়া হবে। কিন্তু বাস্তবে সেই পরিকল্পনা কার্যকর হয়নি। অবকাঠামোর অভাব, বিশেষ করে খাল নির্মাণ নিয়ে দুই রাজ্যের মতবিরোধ, এই প্রকল্পকে বারবার আটকে দেয়।
দীর্ঘদিন ধরে হরিয়ানা থেকে রাজস্থানে জল পৌঁছে দেওয়ার জন্য নির্দিষ্ট খাল নির্মাণ নিয়ে আলোচনা হলেও কোনও বাস্তব অগ্রগতি হয়নি। ফলে শেখাবাটীর বিস্তীর্ণ এলাকায় জলাভাব ক্রমেই প্রকট হয়েছে। নতুন চুক্তিতে সেই সমস্যার বিকল্প সমাধান হিসেবে পাইপলাইনের মাধ্যমে জল সরবরাহের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বৈঠকের পরে অমিত শাহ বলেন, ‘দীর্ঘদিনের এই জট কাটাতে দুই রাজ্যের সদিচ্ছা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন, কেন্দ্রের তরফে এই প্রকল্পের বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে। তাঁর কথায়, ‘এটি শুধু দুই রাজ্যের মধ্যে চুক্তি নয়, বরং জলসম্পদের সঠিক ব্যবহারের একটি দৃষ্টান্ত।’ চুক্তিতে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। হরিয়ানা, রাজস্থান এবং উত্তরপ্রদেশ (Uttar Pradesh) যৌথভাবে যমুনার পরিবেশগত প্রবাহ বা ইকো-ফ্লো বজায় রাখার দায়িত্ব নেবে। নদীর স্বাভাবিক গতিপ্রবাহ বজায় রাখা এবং দূষণ নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রেও এই সিদ্ধান্তকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী ভজনলাল শর্মা বলেন, ‘আমাদের রাজ্যের বহু অঞ্চল দীর্ঘদিন ধরে জলের সমস্যায় ভুগছে। এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বহু মানুষের উপকার হবে।’ অন্যদিকে হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রী নয়াব সিংহ সাইনি জানান, ‘চুক্তি অনুযায়ী বর্ষার অতিরিক্ত জল সঠিকভাবে ব্যবহার করা হবে, যাতে কোনও রাজ্যের ক্ষতি না হয়।’ প্রশাসনিক সূত্রে খবর, পাইপলাইন প্রকল্পের জন্য প্রাথমিক সমীক্ষা দ্রুত শুরু হবে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ ও প্রযুক্তিগত পরিকল্পনা তৈরির কাজও শীঘ্রই শুরু করা হবে। প্রকল্প বাস্তবায়নের সময়সীমা নিয়ে এখনও বিস্তারিত ঘোষণা না হলেও, কেন্দ্র ও দুই রাজ্যের যৌথ উদ্যোগে দ্রুত কাজ এগোনোর আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
জল বণ্টন নিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বহু সময়েই বিরোধ দেখা যায়। সেই প্রেক্ষিতে হরিয়ানা-রাজস্থানের এই চুক্তিকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা কাটিয়ে প্রশাসনিক স্তরে সমঝোতার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান খোঁজার এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে অন্য রাজ্যগুলির কাছেও উদাহরণ হয়ে উঠতে পারে। এই চুক্তি কার্যকর হলে শেখাবাটী অঞ্চলের সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতেও পরিবর্তন আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। কৃষিকাজে জলের প্রাপ্যতা বাড়লে উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে, পাশাপাশি পানীয় জলের সমস্যাও অনেকটাই কমবে। ফলে গ্রামীণ জীবনে ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Amul Howrah plant 700 crore, Amit Shah Amul project West Bengal | হাওড়ায় আমূলের ৭০০ কোটির মেগা প্রকল্প! ১৪ জুন শিলান্যাসে অমিত শাহ বাংলার দুগ্ধ শিল্পে বড় বদলের ইঙ্গিত




