সাশ্রয় নিউজ স্পোর্টস ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি : ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ (FIFA World Cup 2026)-এর উত্তেজনার আবহে এক মর্মস্পর্শী ঘটনার সাক্ষী রইল ফুটবল বিশ্ব। ব্যক্তিগত জীবনের গভীর শোকের মধ্যেও দেশের জার্সির প্রতি দায়বদ্ধতাকে অগ্রাধিকার দিলেন নেদারল্যান্ডস (Netherlands)-এর তারকা ফুটবলার কোডি গাকপো (Cody Gakpo)। সন্তানের মৃত্যুর খবর পেয়েও দল ছেড়ে না যাওয়ার সিদ্ধান্তে তিনি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন। সূত্রের খবর, গাকপোর সঙ্গিনী নোয়া ভ্যান ডার বিজ (Noa Van der Bij) অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। তাঁদের পরিবারে নতুন সদস্য আসার অপেক্ষায় ছিলেন দু’জনেই। কিন্তু বিশ্বকাপ চলাকালীনই সেই আনন্দ ভেঙে যায়। গর্ভস্থ পুত্রসন্তানের মৃত্যু হয়। এই খবর পৌঁছায় মার্কিন মুলুকে থাকা নেদারল্যান্ডস শিবিরে। হঠাৎ এই ঘটনায় মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন গাকপো।
দলের সতীর্থেরা তাঁকে সাময়িকভাবে দেশে ফিরে গিয়ে পরিবারের পাশে থাকার পরামর্শ দেন। নেদারল্যান্ডস ফুটবল সংস্থার কর্তারা-ও তাঁকে সেই সুযোগ দিতে প্রস্তুত ছিলেন। কিন্তু নকআউট পর্বের আগে শিবির ছাড়তে রাজি হননি ২৭ বছরের এই ফরোয়ার্ড। তিনি দলের সঙ্গেই থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, যাতে বিশ্বকাপ প্রস্তুতিতে কোনও বিঘ্ন না ঘটে। নোয়া ভ্যান ডার বিজ সামাজিক মাধ্যমে এই দুঃসংবাদ জানান। তিনি লেখেন, ‘ভারাক্রান্ত হৃদয়ে জানাচ্ছি, গর্ভাবস্থাতেই আমাদের পুত্রসন্তানটি আর বেঁচে নেই। আপনাদের ভালবাসা ও সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ। এলাইজা রাফায়েল গাকপো আমাদের হৃদয়ে চিরকাল থাকবে। আমাদের সন্তান হিসাবেই থাকবে।’ এই পোস্ট সামনে আসতেই সমবেদনার বার্তায় ভরে যায় নেটদুনিয়া। নিজেও একটি বিবৃতি দেন কোডি গাকপো। তিনি বলেন, ‘আমাদের পরিবারের জন্য সময়টা অত্যন্ত কঠিন। আমরা সকলের কাছে অনুরোধ করছি, আমাদের ব্যক্তিগত পরিসরকে সম্মান করা হোক। আশা করি এই পরিস্থিতি সবাই বুঝবেন।’ তাঁর এই সংযত প্রতিক্রিয়া ফুটবলমহলে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
নেদারল্যান্ডস ফুটবল সংস্থা (KNVB) এক বিবৃতিতে জানায়, ‘এই ব্যক্তিগত ক্ষতির পরেও গাকপো পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করে দলের সঙ্গেই থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বান্ধবীর সঙ্গে কথা বলেই সে এই সিদ্ধান্ত নেয়। আমরা এই কঠিন সময়ে গাকপো ও তার পরিবারের পাশে আছি। তাদের গোপনীয়তাকে সম্মান জানানোই এখন প্রধান বিষয়।’ সংস্থার এই অবস্থানও সমর্থন কুড়িয়েছে। চলতি বিশ্বকাপে দুরন্ত ফর্মে রয়েছেন গাকপো। গ্রুপ পর্বে তাঁর পারফরম্যান্স ইতিমধ্যেই নজর কেড়েছে। বিশেষ করে সুইডেন (Sweden)-এর বিরুদ্ধে ম্যাচে জোড়া গোল করে দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন তিনি। আক্রমণভাগে তাঁর গতি, পজিশনিং ও ফিনিশিং দক্ষতা নেদারল্যান্ডসের অন্যতম শক্তি হয়ে উঠেছে। এমন পরিস্থিতিতে ব্যক্তিগত শোকের মধ্যেও দলের সঙ্গে থাকার সিদ্ধান্ত সতীর্থদের মধ্যেও বিস্ময় তৈরি করেছে। অনেকেই তাঁর মানসিক দৃঢ়তার প্রশংসা করেছেন। দলের অভ্যন্তরে তাঁর এই সিদ্ধান্ত এক ধরনের প্রেরণা জুগিয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে।
বিশ্বকাপের মতো প্রতিযোগিতায় মানসিক চাপ সামলানোই বড় চ্যালেঞ্জ। তার মধ্যে ব্যক্তিগত জীবনের এমন আঘাত সামলে মাঠে নামা অত্যন্ত কঠিন। গাকপোর ক্ষেত্রে সেই কঠিন বাস্তবতাই সামনে এসেছে। তবে তিনি যেভাবে পরিস্থিতি সামাল দিচ্ছেন, তা ফুটবল বিশ্বে আলাদা করে নজর কেড়েছে।
নেদারল্যান্ডস দল বর্তমানে নকআউট পর্বের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত। এই পর্যায়ে গাকপোর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে। কোচিং স্টাফও তাঁর পাশে রয়েছে এবং মানসিক ভাবে স্থির রাখার চেষ্টা করছে। দলের অন্য সদস্যেরাও তাঁকে ঘিরে সমর্থন জুগিয়ে চলেছেন।
ফুটবল শুধু খেলা নয়, অনেক সময় জীবনের কঠিন বাস্তবতার সঙ্গেও জড়িয়ে থাকে। কোডি গাকপোর ঘটনা সেই দিকটিই সামনে নিয়ে এসেছে। একদিকে ব্যক্তিগত শোক, অন্যদিকে দেশের দায়িত্ব এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য রাখার কঠিন পরীক্ষায় তিনি নিজেকে ধরে রেখেছেন। বিশ্বকাপ ২০২৬-এ নেদারল্যান্ডসের অগ্রযাত্রায় গাকপোর পারফরম্যান্স বড় ভূমিকা নিতে পারে। তাঁর মানসিক শক্তি ও দলের প্রতি দায়বদ্ধতা আগামী ম্যাচগুলিতে প্রভাব ফেলতে পারে বলেই ধারণা করা হচ্ছে। ফুটবলপ্রেমীদের কাছে এই ঘটনা শুধু একটি খবর নয়, বরং মানবিকতার এক গভীর দিক তুলে ধরেছে। মাঠের বাইরের এই লড়াইও সমান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Jay Shah on Women Cricket Policy, Motherhood and Cricket | মা হওয়ার পরও থামবে না ক্রিকেট, আইসিসির ১৬ সপ্তাহের বিশেষ পরিকল্পনা



