শোভনা মাইতি ★ সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক, নতুন দিল্লি : দেশজুড়ে পাসপোর্ট (Passport) পরিষেবায় বড় পরিবর্তনের ঘোষণা করল কেন্দ্রীয় সরকার। দীর্ঘ ১২ বছর পর নতুন করে পাসপোর্ট তৈরির খরচ বৃদ্ধি করা হয়েছে। বিদেশ মন্ত্রক (Ministry of External Affairs) জানিয়েছে, আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন হারে ফি কার্যকর হবে। অর্থাৎ ওই দিন বা তার পরে যাঁরা আবেদন করবেন, তাঁদের নতুন নির্ধারিত খরচই বহন করতে হবে। এই ঘোষণার পর স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হয়েছে, কোন ধরনের পাসপোর্টে কত টাকা লাগবে, তৎকাল পরিষেবার খরচ কত বাড়ল, আর কোন ক্ষেত্রে কত অতিরিক্ত দিতে হবে। সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, নতুন করে ৩৬ পাতার পাসপোর্ট বানাতে এখন খরচ হবে ২,৫০০ টাকা। আগে এই খরচ ছিল ১,৫০০ টাকা। অর্থাৎ এক ধাক্কায় ১,০০০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। একইভাবে, ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী কেউ পাসপোর্ট পুনর্নবীকরণ করতে চাইলে তাঁরও একই পরিমাণ অর্থ দিতে হবে। এর পাশাপাশি তৎকাল (Tatkal) পরিষেবার ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি হয়েছে। আগে যেখানে ৩৬ পাতার পাসপোর্টের জন্য তৎকালে ৩,৫০০ টাকা দিতে হত, সেখানে এখন সেই খরচ দাঁড়িয়েছে ৫,০০০ টাকা।
৬০ পাতার পাসপোর্টের ক্ষেত্রেও খরচ বেড়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ৬০ পাতার পাসপোর্ট বানাতে এখন লাগবে ৩,৫০০ টাকা, যেখানে আগে এই খরচ ছিল ২,০০০ টাকা। তৎকাল পরিষেবায় ৬০ পাতার পাসপোর্ট পেতে এখন ৬,০০০ টাকা খরচ হবে, যা আগে ছিল ৪,০০০ টাকা। অর্থাৎ সব ক্ষেত্রেই ফি বৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে। শুধু নতুন পাসপোর্ট নয়, হারিয়ে যাওয়া বা ক্ষতিগ্রস্ত পাসপোর্টের ক্ষেত্রেও খরচ বেড়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ৩৬ পাতার পাসপোর্ট হারিয়ে গেলে বা নষ্ট হলে নতুন করে বানাতে ৫,০০০ টাকা দিতে হবে। তৎকাল পরিষেবায় সেই খরচ ৭,৫০০ টাকা। একইভাবে, ৬০ পাতার পাসপোর্টের ক্ষেত্রে হারানো বা ক্ষতির পর নতুন পাসপোর্ট পেতে ৬,০০০ টাকা এবং তৎকালে ৮,৫০০ টাকা দিতে হবে।
অপ্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রেও খরচে পরিবর্তন এসেছে। ১৮ বছরের কম বয়সীদের জন্য ৩৬ পাতার পাসপোর্ট বানাতে এখন ১,৭৫০ টাকা লাগবে। তৎকাল পরিষেবায় সেই খরচ দাঁড়িয়েছে ৪,২৫০ টাকা। যদি কোনও অপ্রাপ্তবয়স্কের পাসপোর্ট হারিয়ে যায় বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তবে নতুন করে পাসপোর্ট বানাতে ৪,২৫০ টাকা দিতে হবে ও তৎকাল পরিষেবায় ৬,৭৫০ টাকা খরচ হবে। এছাড়াও, পাসপোর্ট সংক্রান্ত অন্যান্য পরিষেবার ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট ফি ধার্য করা হয়েছে। যেমন পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট (PCC), পাসপোর্ট সারেন্ডার সার্টিফিকেট বা গ্লোবাল এন্ট্রি প্রোগ্রাম যাচাইকরণের জন্য ভারতীয় নাগরিকদের ৭৫০ টাকা দিতে হবে। বিদেশে বসবাসকারীদের ক্ষেত্রে এই পরিষেবার জন্য ৫০ মার্কিন ডলার ধার্য করা হয়েছে, যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৩,৭০০ টাকার কাছাকাছি।
বিদেশ মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, পাসপোর্ট (সংশোধনী) আইন ২০২৬-এর অধীনে এই পরিবর্তন আনা হয়েছে। ২০ জুন এই সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। এর আগে শেষবার ২০১২ সালে পাসপোর্ট পরিষেবার খরচ বৃদ্ধি করা হয়েছিল। তখন ৩৬ পাতার পাসপোর্টের ফি ১,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১,৫০০ টাকা করা হয়েছিল এবং তৎকাল পরিষেবার খরচ ২,৫০০ টাকা থেকে ৩,৫০০ টাকায় উন্নীত হয়েছিল। এই নতুন ফি বৃদ্ধির পাশাপাশি একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্যও সামনে এসেছে। বিদেশ মন্ত্রক পরিষ্কার করে জানিয়েছে, পাসপোর্ট কোনও পরিচয়পত্র নয়; এটি শুধুমাত্র আন্তর্জাতিক ভ্রমণের নথি। এই বক্তব্য অনেকের কাছে তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ অনেক ক্ষেত্রেই পাসপোর্টকে পরিচয়ের প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
ফি বৃদ্ধির ফলে সাধারণ মানুষের উপর আর্থিক চাপ বাড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে, বিশেষ করে যাঁরা তৎকাল পরিষেবার উপর নির্ভরশীল। তবে প্রশাসনের যুক্তি, পরিষেবার মান উন্নয়ন এবং প্রযুক্তিগত অবকাঠামো শক্তিশালী করার জন্য এই পদক্ষেপ প্রয়োজনীয়। এখন প্রশ্ন, এই নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার আগে যারা আবেদন করেছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে পুরনো ফি প্রযোজ্য হবে কি না। সূত্রের খবর, ১ জুলাইয়ের আগে জমা পড়া আবেদনগুলির ক্ষেত্রে পুরনো হারই বহাল থাকবে। তবে ১ জুলাই বা তার পরে আবেদন করলে নতুন ফি অনুযায়ী অর্থ দিতে হবে। দেশে এবং বিদেশে উল্লেখ্য যে, ভ্রমণের পরিকল্পনা যাঁরা করছেন, তাঁদের জন্য এই পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ। সময়মতো আবেদন এবং খরচের হিসাব মাথায় রেখে পরিকল্পনা করা এখন আরও জরুরি হয়ে উঠেছে। পাসপোর্ট পরিষেবার এই নতুন কাঠামো আগামী দিনে কী প্রভাব ফেলবে, তা সময়ই বলবে।:
ছবি : সংগৃহীত ও প্রতীকী
আরও পড়ুন : Narendra Modi Warships Launch, INS Dunagiri | গার্ডেনরিচে দেশীয় প্রযুক্তির তিন যুদ্ধজাহাজ উদ্বোধন, নৌশক্তি বাড়াতে বড় বার্তা দিলেন মোদী




