Siya Goyal mother statement Ketan Agrawal case | ‘মা হয়ে বলছি, দোষী হলে ফাঁসি দিন’ : সিয়া গয়ালের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অবস্থান পরিবারেরই, কেতন খুনে তীব্র শোক আর প্রশ্নে উত্তাল পুণে

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ পুণে : পুণের আলোচিত কেতন অগ্রবাল (Ketan Agrawal) খুন মামলায় আবেগ, অভিযোগ আর আইনি লড়াই তিন দিকেই নাটকীয় মোড়। এবার চাঞ্চল্য ছড়াল অভিযুক্ত সিয়া গয়াল (Siya Goyal)-এর নিজের পরিবারের বক্তব্যে। মেয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে কঠোরতম শাস্তির দাবি জানালেন তাঁর মা-বাবা। এমন অবস্থান সাধারণত বিরল, কিন্তু এই ঘটনায় শোক এবং ন্যায়বিচারের প্রশ্নে পরিবার যে কঠিন অবস্থান নিয়েছে, তা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। একটি সংবাদমাধ্যমকে সিয়ার মা বলেন, ‘আমার মেয়ে যদি দোষ করে থাকে, তবে ওর কঠোর শাস্তি হওয়া উচিত। সত্যি যদি ও দোষী হয়, ওকে ফাঁসি দিন। মা হয়েও আমি এই কথা বলছি।’ এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। কারণ, সাধারণত পরিবারের সদস্যরা অভিযুক্তের পক্ষে থাকেন, সেখানে এখানে উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে। সিয়ার বাবা প্রবীণ গয়াল (Praveen Goyal), যিনি বর্তমানে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি, তিনিও একই সুরে কথা বলেছেন। হাসপাতালের শয্যায় শুয়ে তিনি জানান, ‘এই ঘটনা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। আমরা এখনও বিশ্বাস করতে পারছি না। ওঁদের ছেলে আমাদেরও ছেলে ছিল। ওকে আমরা খুব ভালবাসতাম।’ এরপরই নিজের মেয়ের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এই ঘটনায় যে-ই দোষী হোক, সেটা যদি আমার মেয়েও হয়, তবে তার ফাঁসি হওয়া উচিত।’ তাঁর এই বক্তব্য পরিস্থিতির গভীরতা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

আরও পড়ুন : Varanasi international flight Air India, Narendra Modi aviation | ছোট শহর থেকে সরাসরি বিশ্বমুখী যাত্রা! নতুন ‘হাব-অ্যান্ড-স্পোক’ মডেলে বদলাচ্ছে ভারতের বিমান পরিষেবা

প্রসঙ্গত, গত ২৩ জুন হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন প্রবীণ। পরিবারের অন্য সদস্যরা তাঁর পাশে রয়েছেন। পুণেতে তাঁদের বাড়ি আপাতত বন্ধ রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে পরিবার মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত বলেই জানা যাচ্ছে। কেতন অগ্রবাল, পুণের এক ব্যবসায়ী পরিবারের সন্তান, যার সঙ্গে সিয়ার বিয়ে ঠিক হয়েছিল। ফেব্রুয়ারিতে তাঁদের বাগ্‌দান সম্পন্ন হয়। নভেম্বর মাসে জাঁকজমকপূর্ণ বিয়ের আয়োজনও পরিকল্পিত ছিল। কিন্তু সেই পরিকল্পনার মাঝেই ঘটে যায় মর্মান্তিক ঘটনা। ১৮ জুন মহারাষ্ট্রের লোণাবলার (Lonavala) লোহাগড় দুর্গ (Lohagad Fort)-এ ঘুরতে গিয়ে মৃত্যু হয় কেতনের। প্রায় ৪৫০ ফুট গভীর খাদ থেকে তাঁর দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। প্রথমে এই ঘটনাকে দুর্ঘটনা বলে মনে করা হয়েছিল। ধারণা ছিল, ছবি তুলতে গিয়ে পা পিছলে পড়ে যান কেতন। কিন্তু মৃতের পরিবারের সন্দেহের ভিত্তিতে তদন্তের দিশা বদলায়। পরে উঠে আসে খুনের অভিযোগ। পুলিশের দাবি, সিয়া এবং তাঁর প্রেমিক চেতন চৌধরী (Chetan Choudhary) মিলে পরিকল্পনা করে কেতনকে খাদে ঠেলে দেন।

তদন্তকারী আধিকারিকদের সূত্রে খবর, সিয়া ও চেতনের মধ্যে প্রায় তিন বছর ধরে সম্পর্ক ছিল। অভিযোগ, বাগ্‌দান হয়ে যাওয়ার পরও সিয়া এই বিয়ে নিয়ে অনিশ্চিত ছিলেন। সেই দ্বন্দ্ব থেকেই চরম সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থলের সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গিয়েছে, যা তদন্তে সহায়ক হয়েছে। বর্তমানে সিয়া এবং চেতন দু’জনেই পুলিশী হেফাজতে রয়েছেন। জিজ্ঞাসাবাদের সময় তাঁরা একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলছেন। চেতনের দাবি, তিনি খুন করতে চাননি; বরং সিয়াকে নিয়ে পালানোর পরিকল্পনা ছিল তাঁর। অন্যদিকে, সিয়ার বক্তব্য, খুনের পরিকল্পনা করেছিলেন চেতনই এবং তিনি চাপের মুখে এতে জড়িয়ে পড়েন। এই পরস্পরবিরোধী বক্তব্যের মাঝে সত্য খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে তদন্তকারী দল।

পুলিশ সূত্রে জানা যাচ্ছে, প্রথমবার পরিকল্পনা ব্যর্থ হওয়ার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। জেরায় সিয়া জানিয়েছেন, চেতন তখন মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েছিলেন এবং পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে চাপ সৃষ্টি করেন। তবে এই দাবিগুলির সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে। তদন্তকারীরা বলছেন, নিজেদের রক্ষা করতে অভিযুক্তরা একে অপরের ঘাড়ে দায় চাপানোর চেষ্টা করছেন। অন্যদিকে, চেতনের পরিবার দাবি করেছে, তাঁকে মিথ্যা মামলায় জড়ানো হচ্ছে। তাঁদের বক্তব্য, প্রকৃত ঘটনা সামনে এলেই সব পরিষ্কার হয়ে যাবে। এই মামলায় দুই পরিবারের অবস্থান সম্পূর্ণ বিপরীত, একদিকে সিয়ার পরিবার কঠোর শাস্তির দাবি করছে, অন্যদিকে চেতনের পরিবার নির্দোষ দাবি করছে। এই ঘটনার পর সমাজের বিভিন্ন স্তরে আলোচনা শুরু হয়েছে। সম্পর্ক, পারিবারিক চাপ, ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত সব কিছু মিলিয়ে এই মামলাটি এক জটিল চিত্র তুলে ধরছে। আইনগত দিক থেকে যেমন এটি গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই সামাজিক দিক থেকেও প্রশ্ন তুলছে।

কেতন অগ্রবাল খুন মামলা এখন জাতীয় স্তরে আলোচিত। প্রতিদিন নতুন তথ্য সামনে আসছে, যা মামলাটিকে আরও গভীর করছে। আদালতে শুনানি শুরু হলে আরও অনেক অজানা তথ্য প্রকাশ্যে আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিক হল, অভিযুক্তের নিজের পরিবারের অবস্থান। তাঁদের বক্তব্যে যেমন শোকের প্রতিফলন রয়েছে, তেমনই রয়েছে ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা। এখন দেখার, তদন্তের শেষে আদালত কী রায় দেয় এবং এই বহুচর্চিত মামলার শেষ পরিণতি কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Ketan Agarwal murder Lohagad Fort, Siya Goyal Chetan Choudhary case | প্রেম, প্রতারণা ও পরিকল্পিত খুন! পুনের লোহাগড়ে কেতন কাণ্ডে ফাঁসছে নতুন তথ্য

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন