সাশ্রয় নিউজ স্পোর্টস ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি : ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ (FIFA World Cup 2026) মঞ্চে এক বহুল প্রতীক্ষিত দৃশ্যের অবশেষে বাস্তবায়ন হল। দীর্ঘ ৯৮১ দিন পর ব্রাজিল (Brazil) জাতীয় দলের জার্সি গায়ে মাঠে নামলেন নেমার (Neymar Jr.), আর সেই প্রত্যাবর্তন হয়ে উঠল আবেগে ভরা এক মুহূর্ত। স্কটল্যান্ড (Scotland)-এর বিরুদ্ধে ম্যাচে বদলি হিসেবে নামার পর থেকেই যেন নতুন করে প্রাণ ফিরে পেল ব্রাজিল সমর্থকদের উচ্ছ্বাস। তবে ম্যাচ শেষে যা ঘটল, তা ছুঁয়ে গেল গোটা ফুটবল বিশ্বকে, জার্সিতে মুখ ঢেকে চোখের জল ফেললেন ব্রাজিলের সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলার।
এই বিশ্বকাপে নেমারকে দেখা যাবে কি না, তা নিয়েই দীর্ঘদিন ধরে চলছিল জল্পনা। চোটের কারণে প্রায় তিন বছর মাঠের বাইরে ছিলেন তিনি। ফলে তাঁর ফিটনেস, ম্যাচ রিদম, সব কিছু নিয়েই প্রশ্ন ছিল। কিন্তু সেই সমস্ত অনিশ্চয়তার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে মাঠে ফিরলেন তিনি, আর ফিরেই জানিয়ে দিলেন, কেন এখনও তিনি ব্রাজিল ফুটবলের অন্যতম ভরসার নাম। মায়ামির (Miami) স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলছিল ব্রাজিল। প্রথম একাদশে জায়গা না পেলেও বদলি তালিকায় নেমারের নাম ছিল, যা থেকেই আশা জেগেছিল সমর্থকদের মনে। ম্যাচের ৬৫ মিনিটে যখন তাঁকে ওয়ার্ম আপ করতে দেখা যায়, তখনই গ্যালারিতে উত্তেজনা চরমে ওঠে। কয়েক মিনিট পর, ৭৬ মিনিটে মাঠে নামেন তিনি। সেই মুহূর্তে স্টেডিয়ামের গর্জন যেন আকাশ ছুঁয়েছিল। মাঠে নামার সময় ব্রাজিল তখন ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে। ফলে নেমারের উপর কোনও অতিরিক্ত চাপ ছিল না। বরং তিনি স্বাভাবিক ছন্দে খেলার চেষ্টা করেন, সতীর্থদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে কিছু পাসিং মুভে অংশ নেন। যদিও খুব বেশি সময় পাননি, তবুও তাঁর উপস্থিতিই ম্যাচের আবহ বদলে দেয়।
তবে আসল গল্পটা তৈরি হয় ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার পর। ব্রাজিলের ফুটবলাররা যখন জয় উদ্যাপনে মেতে উঠেছেন, তখনই দেখা যায়, নেমার এক কোণে দাঁড়িয়ে আবেগে ভেঙে পড়েছেন। সতীর্থরা তাঁকে জড়িয়ে ধরছেন, গ্যালারি থেকে ভেসে আসছে তাঁর নাম, আর তিনি জার্সিতে মুখ ঢেকে চোখের জল লুকোতে পারছেন না। এই দৃশ্য যেন তাঁর দীর্ঘ সংগ্রাম, প্রত্যাবর্তনের লড়াই এবং দেশের হয়ে ফের মাঠে নামার অনুভূতিকে এক মুহূর্তে প্রকাশ করে দেয়। মাঠে উপস্থিত ছিলেন নেমারের পরিবারের সদস্যরাও। ম্যাচ শেষে তাঁরা মাঠে নেমে এসে তাঁকে জড়িয়ে ধরেন। সেই পারিবারিক মুহূর্ত এবং দলের জয়ের আনন্দ একসঙ্গে মিশে যায়। ব্রাজিলের এই জয় দলের এক গুরুত্বপূর্ণ সদস্যের প্রত্যাবর্তনের সাক্ষী থাকা।
দীর্ঘ চোটের পরেও নেমারকে দলে রেখে দিয়েছেন ব্রাজিলের কোচ কার্লো আনচেলোত্তি (Carlo Ancelotti)। তাঁর অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার উপর আস্থা রেখেই ধীরে ধীরে তাঁকে ম্যাচে ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা নিয়েছেন কোচ। ১৬ বছরের আন্তর্জাতিক কেরিয়ারে ১২৯টি ম্যাচ খেলে ৭৯টি গোল করা এই ফুটবলার যে এখনও দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, তা বোঝাই যায়। ম্যাচ শেষে নিজের অনুভূতির কথা বলতে গিয়ে নেমার (Neymar Jr.) বলেন, ‘আমার হৃদ্স্পন্দন খুব বেড়ে গিয়েছিল। মাঠে নামার আগে আমি খুব চিন্তায় ছিলাম। কিন্তু এখন খুব খুশি। সব কিছু ভাল ভাবে হয়েছে। আমরা জিতেছি, দলের জন্য গর্ব হচ্ছে।’ তাঁর এই মন্তব্যে ফুটে ওঠে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ফিরে আসার স্বস্তি এবং আনন্দ।
ব্রাজিল দল এই ম্যাচ জিতে গ্রুপের শীর্ষে থেকে নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়েছে। সামনে আরও কঠিন লড়াই অপেক্ষা করছে। প্রতিটি ম্যাচ এখন মরণ-বাঁচনের সমান। সেই লড়াইয়ের আগে নেমারের ফিরে আসা দলের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছে। তাঁর অভিজ্ঞতা, বড় ম্যাচে পারফর্ম করার ক্ষমতা, সব কিছুই আগামী ম্যাচগুলিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। ফুটবল বিশ্বে নেমার সবসময়ই আলোচিত এক নাম। তাঁর ড্রিবলিং, গতি, গোল করার ক্ষমতা, সব কিছু মিলিয়ে তিনি এক সম্পূর্ণ প্যাকেজ। কিন্তু চোটের কারণে দীর্ঘদিন মাঠের বাইরে থাকা তাঁর কেরিয়ারে বড় ধাক্কা ছিল। সেই জায়গা থেকে আবার ফিরে এসে বিশ্বকাপের মঞ্চে দাঁড়ানো সহজ কাজ নয়। তাই এই প্রত্যাবর্তন শুধুই একটি ম্যাচে নামা নয়, বরং এক কঠিন যাত্রার সফল সমাপ্তি। উল্লেখ্য, মায়ামির সেই রাত, গ্যালারির গর্জন, সতীর্থদের আলিঙ্গন এবং চোখের জলে ভিজে যাওয়া এক তারকা, সব মিলিয়ে নেমারের এই প্রত্যাবর্তন বিশ্বকাপ ২০২৬-এর অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত হয়ে থাকবে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Cristiano Ronaldo Creates History with Goals in 6 World Cups | FIFA World Cup 2026 : ছ’টি বিশ্বকাপে গোল! ইতিহাসে একমাত্র নাম ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো! FIFA World Cup 2026-এ নতুন মাইলফলক



