CJI Surya Kant equality law speech, access to justice India | ‘আইনের সমান সুযোগই ন্যায়ের প্রথম ধাপ’! রাশিয়ায় আন্তর্জাতিক মঞ্চে সিজেআই সূর্য কান্তের তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি : আন্তর্জাতিক আইনি মহলে ভারতের অবস্থান ও দৃষ্টিভঙ্গিকে নতুন করে তুলে ধরলেন দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত (Surya Kant)। রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গে (St Petersburg) অনুষ্ঠিত XIV আন্তর্জাতিক লিগ্যাল ফোরামে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি আইনের সামনে সমতার প্রশ্নে এক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেন। তাঁর মতে, ‘সমতার প্রথম ধাপ হল আইনের কাছে সমান প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা’, এবং এটি যেন শুধুমাত্র আনুষ্ঠানিক নিয়মে সীমাবদ্ধ না থাকে। বুধবার অনুষ্ঠিত এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বিভিন্ন দেশের বিচারক, আইনবিদ ও নীতি নির্ধারকরা উপস্থিত ছিলেন। সেই মঞ্চে দাঁড়িয়ে ভারতের বিচারব্যবস্থার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন সূর্য কান্ত (Surya Kant)। তিনি বলেন, ‘আমাদের নিজেদেরই প্রশ্ন করা উচিত, আইনের সামনে সমতা বাস্তবে রূপ নিতে কী প্রয়োজন? আমার অভিজ্ঞতা বলছে, এর সূচনা হয় আইনের কাছে সমান সুযোগ নিশ্চিত করার মধ্য দিয়ে।’ তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে যে এই সুযোগ কেবল কাগজে-কলমে থাকলেই চলবে না, বরং তা মানুষের বাস্তব অধিকারে প্রতিফলিত হওয়া জরুরি। প্রধান বিচারপতি আরও বলেন, ‘এই প্রবেশাধিকার শুধুমাত্র প্রক্রিয়াগত সৌজন্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না; এটি এমন হওয়া উচিত যাতে মানুষের হাতে প্রকৃত অধিকার পৌঁছায়, ফাঁপা আইনি ঘোষণা নয়।’ তাঁর এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে, কারণ অনেক দেশেই আইনি অধিকার থাকলেও বাস্তবে তা নাগরিকদের কাছে পৌঁছায় না।

আরও পড়ুন : স্পোর্টস ইউনিভার্সিটি ঘিরে চাকরির নতুন সুযোগ : West Bengal Budget 2026-এ ক্রীড়াক্ষেত্রে বড় ঘোষণা, নজর কর্মসংস্থানে

সূর্য কান্ত (Surya Kant) তাঁর বক্তব্যে ইতিহাসের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, আইনের সমতার ধারণার উৎস নিয়ে প্রচলিত ধারণাকে নতুনভাবে ভাবা প্রয়োজন। তিনি বলেন, ‘অনেকে মনে করেন ১২১৫ সালের ম্যাগনা কার্টা (Magna Carta) থেকেই সমতার ধারণার জন্ম। কিন্তু আমার ব্যক্তিগত মত, এর শিকড় আরও প্রাচীন, যা কৌটিল্যের অর্থশাস্ত্র (Kautilya’s Arthashastra)-এ পাওয়া যায়।’ তাঁর এই মন্তব্যে ভারতীয় প্রাচীন জ্ঞান ও আইনচিন্তার গুরুত্ব আন্তর্জাতিক মঞ্চে নতুন করে আলোচিত হয়েছে। ভারতের সংবিধানের প্রসঙ্গেও তিনি উল্লেখ করেন যে স্বাধীনতার পর দেশের সংবিধান নাগরিকদের এক নতুন ভোরের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। তিনি বলেন, ‘ভারতের সংবিধান মানুষের জন্য একাধিক মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করেছে, আইনের সামনে সমতা, মর্যাদাপূর্ণ জীবন এবং ন্যায়বিচারের অধিকার।’ তবে এই অধিকার বাস্তবে কার্যকর করা সবসময় সহজ ছিল না বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন। তিনি বলেন, ‘চ্যালেঞ্জটা ছিল শুধু এই অধিকারগুলি ঘোষণা করা নয়, বরং দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত তা পৌঁছে দেওয়া, যেখানে অর্থনৈতিক ও সামাজিক বৈষম্য, ভাষাগত বাধা এবং সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য রয়েছে।’ এই বক্তব্যে ভারতের মতো বৃহৎ ও বৈচিত্র্যময় দেশের বাস্তব সমস্যার প্রতিফলন দেখা যায়।

প্রধান বিচারপতির মতে, সমতা প্রতিষ্ঠার পথে সবচেয়ে বড় বাধা আইনের অভাব নয়, বরং সমাজের ভৌগোলিক, অর্থনৈতিক এবং সামাজিক বৈষম্য। তিনি বলেন, ‘আইন থাকলেও সেই আইন সবার কাছে সমানভাবে পৌঁছায় না, এই বৈষম্যই সবচেয়ে বড় সমস্যা।’ তাঁর বক্তব্যে বোঝা যায়, আইনি কাঠামোকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক করে তোলার প্রয়োজনীয়তা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। ভারতের সাংবিধানিক আদালতগুলির ভূমিকা নিয়েও তিনি আলোকপাত করেন। তাঁর মতে, আদালতগুলি সংবিধানের ধারাগুলিকে বিস্তৃতভাবে ব্যাখ্যা করে এই বৈষম্য দূর করার চেষ্টা করেছে। তিনি বলেন, ‘আমাদের আদালতগুলি সংবিধানের গ্যারান্টিগুলিকে এমনভাবে ব্যাখ্যা করেছে, যাতে সব বাধা দূর করা যায় ও প্রত্যেক নাগরিক আইনের সুযোগ পায়।’ এই বক্তব্যের মাধ্যমে সূর্য কান্ত (Surya Kant) বোঝাতে চেয়েছেন যে ন্যায়বিচার কেবল আদালতের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা একটি বৃহত্তর সামাজিক প্রক্রিয়া। আইনের সমান সুযোগ নিশ্চিত করা মানে শুধু আইনি সহায়তা দেওয়া নয়, বরং এমন একটি পরিবেশ তৈরি করা যেখানে প্রত্যেকে নিজের অধিকার প্রয়োগ করতে পারে।

আন্তর্জাতিক লিগ্যাল ফোরামে তাঁর এই বক্তব্য ভারতের বিচারব্যবস্থার দর্শনকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরেছে। একই সঙ্গে এটি অন্যান্য দেশগুলিকেও ভাবতে বাধ্য করেছে যে আইনের সামনে সমতা বাস্তবে কতটা কার্যকর হচ্ছে। সেন্ট পিটার্সবার্গের এই মঞ্চে দাঁড়িয়ে ভারতের প্রধান বিচারপতির এই মন্তব্য শুধু আইনি মহলেই নয়, সাধারণ মানুষের মধ্যেও আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। আইনের সমান সুযোগ নিশ্চিত করা যে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের অন্যতম ভিত্তি, তা তাঁর বক্তব্যে নতুন করে প্রতিফলিত হয়েছে। বর্তমান সময়ে যখন সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্য নিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনা চলছে, তখন সূর্য কান্ত (Surya Kant)-এর এই বক্তব্য আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আইনের সামনে সমতা কেবল একটি আদর্শ নয়, বরং তা বাস্তব জীবনে কার্যকর হওয়া প্রয়োজন, এই বার্তাই তিনি তুলে ধরেছেন আন্তর্জাতিক মঞ্চে।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Atmanirbhar Bharat Defence, PM Narendra Modi | আত্মনির্ভরতার জোরে বদলেছে ভারতের প্রতিরক্ষা শক্তি, বললেন মোদী

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন