Europe Heatwave Crisis: 42°C in France, 20 Dead Including Children | ৪২ ডিগ্রির দাপটে দগ্ধ ইউরোপ, ফ্রান্সে ভয়াবহ তাপপ্রবাহে ২ শিশু-সহ মৃত ২০, বন্ধ শত শত স্কুল, বিপর্যস্ত জনজীবন

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি : অভূতপূর্ব তাপপ্রবাহে জ্বলছে গোটা ইউরোপফ্রান্স (France), জার্মানি (Germany), ইতালি (Italy), ব্রিটেন (United Kingdom), পর্তুগাল (Portugal) ও বেলজিয়াম (Belgium) প্রায় সব দেশেই পারদ ৩৫ থেকে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের উপরে উঠে গিয়েছে। কোথাও কোথাও সেই তাপমাত্রা ছুঁয়ে ফেলছে ৪২ ডিগ্রিও। এর জেরে জনজীবন বিপর্যস্ত, পরিবহণে সমস্যা, স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে উদ্বেগজনক হারে। প্রশাসন একের পর এক সতর্কতা জারি করলেও পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে উঠছে। সবচেয়ে সংকটজনক অবস্থা তৈরি হয়েছে ফ্রান্সে। দেশের অর্ধেকেরও বেশি অঞ্চল তীব্র তাপপ্রবাহের কবলে। সোমবারের তাপমাত্রা অতীতের একাধিক রেকর্ড ছাপিয়ে গিয়েছে। আবহাওয়া দফতরের তথ্য অনুযায়ী, বদোতে (Bordeaux)পারদ ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছয়। মধ্য ফ্রান্সের পইটিয়ার্স (Poitiers)-এ তাপমাত্রা ৪১.২ ডিগ্রি ছুঁয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ফ্রান্স প্রশাসন বাধ্য হয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিতে। ইতিমধ্যেই ৮৪৫টি স্কুলে পঠনপাঠন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, আর প্রায় ১৮০০টি স্কুলে ক্লাস হচ্ছে শুধুমাত্র সকালের দিকে।

আরও পড়ুন : Atmanirbhar Bharat Defence, PM Narendra Modi | আত্মনির্ভরতার জোরে বদলেছে ভারতের প্রতিরক্ষা শক্তি, বললেন মোদী

তাপপ্রবাহের মারাত্মক প্রভাব পড়েছে সাধারণ মানুষের জীবনে। প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, এখনও পর্যন্ত ফ্রান্সে দুই শিশু-সহ মোট ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে। গরমের তীব্রতায় অসুস্থ হয়ে পড়ছেন বহু মানুষ, বিশেষ করে বৃদ্ধ ও শিশুরা বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন। স্বাস্থ্য দফতর নাগরিকদের বাড়ির বাইরে কম বেরোনোর পরামর্শ দিয়েছে, পাশাপাশি পর্যাপ্ত জলপান ও শীতল পরিবেশে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইতালিতেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। সে দেশের আবহাওয়া দফতর ইতিমধ্যেই ১২টি শহরে তাপপ্রবাহের চূড়ান্ত সতর্কতা জারি করেছে। মিলান (Milan), ভেনিস (Venice), তুরিন (Turin), বলোনিয়া (Bologna), ফ্লোরেন্স (Florence) এবং রোম (Rome)-সহ একাধিক শহরে তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রির উপরে। সতর্ক করা হয়েছে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে এই সংখ্যা ১৬টি শহরে পৌঁছতে পারে। তাপপ্রবাহের প্রভাবে রোমে পরিবহণ ব্যবস্থায়ও সমস্যা তৈরি হয়েছে, যাত্রীদের দুর্ভোগ বাড়ছে।
জার্মানিতেও পরিস্থিতি একই রকম ভয়াবহ। গত কয়েক দিন ধরে সেখানে তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রির উপরে ঘোরাফেরা করছে। আবহাওয়া দফতর আশঙ্কা করছে, খুব শীঘ্রই তা ৪০ ডিগ্রির কাছাকাছি পৌঁছতে পারে। ইতিমধ্যেই তাপপ্রবাহে সেখানে পাঁচ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ফ্রাঙ্কফুর্ট (Frankfurt) বিমানবন্দরে পরিষেবা ব্যাহত হচ্ছে, কারণ অতিরিক্ত তাপমাত্রার কারণে রানওয়ে এবং যন্ত্রপাতিতে প্রভাব পড়ছে।

ব্রিটেনেও তাপমাত্রা অস্বাভাবিক ভাবে বেড়েছে। সোমবার দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৫ থেকে ৩৭ ডিগ্রির মধ্যে ঘোরাফেরা করেছে। কিছু এলাকায় তা ৩৯ ডিগ্রির কাছাকাছি পৌঁছতে পারে বলে পূর্বাভাস। এই ধরনের তাপমাত্রা ব্রিটেনের মতো দেশের জন্য অস্বাভাবিক, ফলে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। সরকার নাগরিকদের জন্য একাধিক নির্দেশিকা জারি করেছে, বিশেষ করে বয়স্কদের জন্য সতর্কতা বাড়ানো হয়েছে। বেলজিয়াম এবং পর্তুগালেও তাপপ্রবাহের সতর্কতা জারি হয়েছে। দক্ষিণ ইউরোপের একাধিক অঞ্চলে বনানলে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও বাড়ছে। গরম এবং শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়েছে। ইতিমধ্যেই কিছু এলাকায় আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে।

এই তাপপ্রবাহ শুধু দৈনন্দিন জীবন নয়, অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলছে। কৃষিক্ষেত্রে উৎপাদন কমার আশঙ্কা, বিদ্যুৎ ব্যবহারের চাপ বৃদ্ধি এবং পর্যটন শিল্পে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ইউরোপের বহু শহরে পর্যটকদের সংখ্যা কমতে শুরু করেছে, কারণ এই তীব্র গরমে বাইরে বেরোনোই কঠিন হয়ে পড়ছে। আবহাওয়াবিদরা জানাচ্ছেন, আগামী কয়েক দিন পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে। তাপমাত্রা আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে, ফলে মৃত্যুর সংখ্যাও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। প্রশাসন জরুরি পরিষেবা জোরদার করেছে, হাসপাতালগুলিকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। গোটা ইউরোপ জুড়ে এই তাপপ্রবাহ নতুন করে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। ক্রমাগত বাড়তে থাকা তাপমাত্রা ভবিষ্যতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। আপাতত নাগরিকদের একটাই লক্ষ্য—এই তীব্র গরমের মধ্যে নিরাপদ থাকা।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Solar Energy Agriculture India, Narendra Modi | সৌরশক্তিতে কৃষির বদল, ভারতের মডেল বিশ্বে তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন