সাশ্রয় নিউজ স্পোর্টস ডেস্ক ★ কলকাতা : ফুটবল ইতিহাসে আরও এক সোনালি অধ্যায় যোগ করলেন পর্তুগালের তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো (Cristiano Ronaldo)। FIFA World Cup 2026-এর মঞ্চে উজ়বেকিস্তান (Uzbekistan)-এর বিরুদ্ধে ম্যাচে গোল করে এমন এক নজির গড়লেন, যা আগে কেউ পারেননি। বিশ্বের প্রথম ফুটবলার হিসেবে টানা ছ’টি ভিন্ন বিশ্বকাপে গোল করার রেকর্ড এখন তাঁর দখলে। সমালোচনার মাঝেই এই সাফল্য রোনাল্ডোকে আবারও বিশ্ব ফুটবলের কেন্দ্রবিন্দুতে এনে দিয়েছে।
আরও পড়ুন :
বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে প্রত্যাশামতো পারফরম্যান্স করতে না পারায় সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন রোনাল্ডো। অনেকেই প্রশ্ন তুলছিলেন তাঁর ফিটনেস ও প্রভাব নিয়ে। তবে দ্বিতীয় ম্যাচেই সেই সব জবাব দিলেন মাঠে নেমে। উজ়বেকিস্তানের বিরুদ্ধে গোল করে তিনি শুধু দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেননি, নিজের নামও লিখে ফেললেন ইতিহাসের পাতায়। একই সময়ে আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিয়োনেল মেসিও (Lionel Messi) খেলছেন তাঁর ষষ্ঠ বিশ্বকাপ। তবে ২০১০ সালের বিশ্বকাপে মেসি গোল করতে পারেননি। ফলে টানা ছ’টি বিশ্বকাপে গোল করার এই বিরল কৃতিত্ব একমাত্র রোনাল্ডোর ঝুলিতেই রইল। যদিও বিশ্বকাপের মোট গোলসংখ্যার বিচারে মেসি সম্প্রতি শীর্ষস্থানে পৌঁছেছেন, তবুও এই বিশেষ রেকর্ডে রোনাল্ডো আলাদা জায়গা করে নিলেন।
রোনাল্ডোর বিশ্বকাপ যাত্রা শুরু হয়েছিল ২০০৬ সালে। জার্মানিতে অনুষ্ঠিত সেই বিশ্বকাপে অ্যাঙ্গোলা (Angola)-র বিরুদ্ধে প্রথমবার মাঠে নামেন তিনি। সেই ম্যাচে পুরো সময় খেলতে না পারলেও পরের ম্যাচেই ইরান (Iran)-এর বিরুদ্ধে করেন প্রথম গোল। সেই থেকেই শুরু হয় তাঁর বিশ্বকাপ গোলযাত্রা। সেই আসরে কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ড (England)-এর বিরুদ্ধে শুটআউটে তাঁর গোল পর্তুগালকে সেমিফাইনালে তুলেছিল, যদিও শেষ পর্যন্ত ফ্রান্স (France)-এর কাছে হারতে হয়। ২০১০ সালের দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে রোনাল্ডো অনেক বেশি পরিণত হয়ে খেলেন। সেই সময় তিনি বালঁ দ’অর ও চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ের অভিজ্ঞতা নিয়ে মাঠে নামেন। উত্তর কোরিয়ার (North Korea) বিরুদ্ধে একটি গোল করলেও পর্তুগাল বেশি দূর এগোতে পারেনি।
২০১৪ সালের ব্রাজিল বিশ্বকাপ রোনাল্ডোর জন্য কঠিন ছিল। যোগ্যতা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও চোটের কারণে মূল প্রতিযোগিতায় তাঁর সেরা ছন্দ দেখা যায়নি। জার্মানির (Germany) বিরুদ্ধে বড় ব্যবধানে হার এবং ঘানার (Ghana) বিরুদ্ধে একটি গোল, এই নিয়েই শেষ হয়ে যায় পর্তুগালের অভিযান।
২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপ রোনাল্ডোর অন্যতম স্মরণীয় অধ্যায়। স্পেন (Spain)-এর বিরুদ্ধে হ্যাটট্রিক করে বিশ্বমঞ্চে আলোড়ন সৃষ্টি করেন তিনি। সেই ম্যাচ আজও বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম সেরা পারফরম্যান্স হিসেবে বিবেচিত হয়। মরক্কো (Morocco)-র বিরুদ্ধেও একটি গুরুত্বপূর্ণ গোল করেন। ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে রোনাল্ডোর ভূমিকা কিছুটা সীমিত ছিল। ঘানার বিরুদ্ধে একটি গোল করলেও তিনি পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে আলোচনায় ছিলেন নানা কারণে। তবুও তাঁর উপস্থিতি দলকে মানসিকভাবে শক্তিশালী করেছিল। এবার ২০২৬ সালে এসে তিনি নতুন ইতিহাস লিখলেন। ছ’টি ভিন্ন বিশ্বকাপে গোল, এই কৃতিত্ব শুধু ধারাবাহিকতার নয়, দীর্ঘ সময় ধরে শীর্ষ পর্যায়ে নিজের অবস্থান ধরে রাখার প্রতীক। ফুটবলের মতো প্রতিযোগিতামূলক খেলায় এত বছর ধরে একই মান বজায় রাখা অত্যন্ত কঠিন কাজ।
রোনাল্ডোর এই সাফল্য নিয়ে ফুটবলমহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। তাঁর ফিটনেস, মানসিক দৃঢ়তা এবং জয়ের ক্ষুধা তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করে তুলেছে। বয়স বাড়লেও তাঁর পারফরম্যান্সে তার প্রভাব খুব একটা পড়েনি, যা তাঁকে আধুনিক ফুটবলের এক বিরল চরিত্রে পরিণত করেছে। পর্তুগাল দলের জন্যও এই গোল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা আবারও প্রমাণ করলেন রোনাল্ডো। দলের তরুণ ফুটবলারদের কাছে তিনি এখনও বড় ভরসা।
FIFA World Cup 2026-এ এই রেকর্ড ভবিষ্যতে ভাঙা কতটা কঠিন হবে, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে। বর্তমান ফুটবলে খেলোয়াড়দের ক্যারিয়ার দীর্ঘ হলেও ধারাবাহিকভাবে ছ’টি বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া এবং প্রতিটিতে গোল করা, এটি সত্যিই বিরল ঘটনা। ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো আবারও প্রমাণ করলেন, কেন তিনি ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা। সমালোচনা, চাপ, প্রত্যাশা, সবকিছুর মাঝেও তিনি নিজের কাজটা করে গেছেন নিরলসভাবে। বিশ্বকাপের মঞ্চে তাঁর এই নতুন কীর্তি আগামী দিনে বহু বছর ধরে আলোচনার কেন্দ্রেই থাকবে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Zurich Switzerland travel, study in Zurich Switzerland | তুষার, বিশ্ববিদ্যালয় আর সিনেমার স্মৃতিতে মোড়া, জুরিখ কেন ভারতীয়দের কাছে আজও ‘স্বপ্নপুরীর শহর’?



