সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ দুর্গাপুর: পশ্চিম বর্ধমানের কাঁকসা (Kanksa) এলাকায় ঈদগাহের জমি ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক। স্থানীয় মুসলিম ঈদগাহ কমিটির নামে নথিভুক্ত জমি দখল করে সেখানে দলীয় কার্যালয় গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছিল তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে। সেই অভিযোগকে সামনে রেখে এবার বিজেপি (BJP) কর্মীরা ওই জমি দখলমুক্ত করে ঈদগাহ কমিটির হাতে তুলে দেওয়ার দাবি করেছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তৈরি হয়েছে চাঞ্চল্য, পাশাপাশি রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে তীব্র বাকবিতণ্ডা।স্থানীয় সূত্রে উল্লেখ, কাঁকসার ওই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে একটি জমি নিয়ে বিতর্ক চলছিল। অভিযোগ, ওই জমি মুসলিম ঈদগাহ কমিটির নামে নথিভুক্ত হলেও সেখানে তৃণমূল কর্মীরা দখল নিয়ে অস্থায়ী কাঠামো তৈরি করে দলীয় অফিস চালাতেন। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার প্রশাসনের দ্বারস্থ হলেও কোনও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে দাবি কমিটির সদস্যদের।
এই পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার সকালে বিজেপির স্থানীয় কর্মী-সমর্থকেরা ওই জমিতে গিয়ে দখলমুক্ত করার উদ্যোগ নেন। জমিতে তৈরি থাকা অস্থায়ী কাঠামো ভেঙে ফেলা হয় এবং জমির নিয়ন্ত্রণ ঈদগাহ কমিটির হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত বিজেপি নেতাদের বক্তব্য, ‘দীর্ঘদিন ধরে অন্যায়ের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তাই স্থানীয় মানুষের দাবি মেনে আমরা জমি দখলমুক্ত করেছি।’ এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে। কেউ কেউ বিজেপির পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন, আবার অনেকে বিষয়টিকে রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে দেখছেন। এক কমিটি সদস্য বলেন, ‘আমরা বহুদিন ধরে জমি ফেরতের দাবি জানাচ্ছিলাম। আজ সেটা হয়েছে ঠিকই, কিন্তু কেন এতদিন লাগল, সেই প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।’
অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস (Trinamool Congress) এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। দলের স্থানীয় নেতৃত্বের বক্তব্য, ‘এটি একটি পুরনো জমি সংক্রান্ত বিরোধ। বিজেপি রাজনৈতিক স্বার্থে বিষয়টিকে অন্য রঙ দিতে চাইছে।’ তাঁদের দাবি, ওই জমিতে দলীয় অফিস তৈরির অভিযোগ ভিত্তিহীন এবং ঘটনাটিকে ইচ্ছাকৃতভাবে বড় করে দেখানো হচ্ছে। ঘটনার পর প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের একাংশের মতে, এতদিন ধরে অভিযোগ জমা পড়লেও প্রশাসন সক্রিয় হয়নি। আবার সাম্প্রতিক ঘটনার সময়ও প্রশাসনের উপস্থিতি বা হস্তক্ষেপ খুব একটা চোখে পড়েনি বলে অভিযোগ। ফলে আইনশৃঙ্খলা ও জমি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে প্রশাসনের কার্যকারিতা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। কাঁকসার এই ঘটনা রাজ্যের বৃহত্তর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। পশ্চিমবঙ্গে সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্ক দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূলের শক্ত ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত। সেই প্রেক্ষিতে বিজেপির এই পদক্ষেপকে রাজনৈতিক দিক থেকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন অনেকেই। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই ঘটনার মাধ্যমে বিজেপি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে একটি বার্তা পৌঁছে দিতে চাইছে যে, তাদের অধিকার রক্ষার ক্ষেত্রেও তারা সক্রিয় ভূমিকা নিতে পারে।
বিরোধী পক্ষের দাবি, এই ধরনের পদক্ষেপ আসলে ভোটের রাজনীতির অংশ। তাঁদের মতে, নির্বাচনের আগে বিভিন্ন ইস্যু তুলে ধরে জনমত প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে। যদিও বিজেপি এই অভিযোগ মানতে নারাজ। তাদের বক্তব্য, এটি সম্পূর্ণভাবে স্থানীয় মানুষের অধিকার রক্ষার বিষয়। ঘটনাস্থলে পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে থাকলেও উত্তেজনা পুরোপুরি প্রশমিত হয়নি। পুলিশ প্রশাসন নজর রাখছে এলাকায়, যাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে। একই সঙ্গে জমির মালিকানা এবং আইনি অবস্থান নিয়েও খতিয়ে দেখা হতে পারে বলে জানা গিয়েছে। এই ঘটনার পর কাঁকসা (Kanksa) এলাকা রাজ্যের রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। জমি দখল, ধর্মীয় সংবেদনশীলতা এবং রাজনৈতিক প্রভাব মিলিয়ে বিষয়টি আরও জটিল আকার নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। আগামী দিনে প্রশাসন কী পদক্ষেপ নেয় এবং রাজনৈতিক দলগুলি কীভাবে এই ইস্যুকে সামনে আনে, তার উপরই নির্ভর করবে পরিস্থিতির ভবিষ্যৎ। বর্তমান পরিস্থিতিতে একটি বিষয় পরিষ্কার যে, জমি নিয়ে এই বিরোধ শুধুমাত্র স্থানীয় স্তরে সীমাবদ্ধ নেই, তা রাজ্যের বৃহত্তর রাজনৈতিক সমীকরণেও প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। কাঁকসার এই ঘটনাকে ঘিরে যে আলোচনা শুরু হয়েছে, তা আগামী দিনে আরও বিস্তৃত হতে পারে।
ছবি : সংগৃহীত ও প্রতীকী
আরও পড়ুন : Samik Bhattacharya BJP statement, INDIA alliance controversy India | ইন্ডিয়া জোটকে ‘কাগুজে’ বলেই কটাক্ষ শমীক ভট্টাচার্যের



