Suvendu Adhikari budget news, WB economic policy | বাজেট পেশের পর আত্মবিশ্বাসী শুভেন্দু অধিকারী, নতুন পথের ইঙ্গিত রাজ্যের অর্থনীতিতে

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অঙ্গনে সোমবার এক গুরুত্বপূর্ণ দিন। বিধানসভায় নতুন সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশের পরেই আত্মবিশ্বাসী সুরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) জানালেন, ‘এই বাজেটে এমন কিছু নেই যা বাদ পড়েছে, বিরোধীদের কিছু বলার রয়েছে বলে মনে হয় না।’ তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। একইসঙ্গে তিনি তুলে ধরলেন সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার রূপরেখা এবং রাজ্যের উন্নয়নের দিশা। সোমবার রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত (Swapan Dasgupta) বিধানসভায় বাজেট পেশ করেন। তার পরেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর পাশে ছিলেন অর্থ প্রতিমন্ত্রী আনন্দময় বর্মণ (Anandamoy Barman)। সেখানে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী প্রথমেই পরিষ্কার করে দেন, এই বাজেটকে তিনি ১২ মাসের পূর্ণাঙ্গ বাজেট বলতে নারাজ। তাঁর যুক্তি, এটি আসলে অগস্ট থেকে আগামী মার্চ পর্যন্ত আট মাসের হিসাব। তবে সময়সীমা কম হলেও পরিকল্পনায় কোনও ঘাটতি নেই বলেই তিনি দাবি করেন। শুভেন্দুর কথায়, ‘এই বাজেটে এমন কোনও অংশ নেই যা বাদ গিয়েছে। বিরোধীদের কিছু বলার সুযোগ আছে বলে মনে হয় না।’ তিনি আরও জানান, বিরোধী দলের এক প্রবীণ বিধায়ক অশোক দেব (Ashok Deb) তাঁর সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে কথা বলে নাকি একই মন্তব্য করেছেন। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, অশোক তাঁকে বলেছেন, ‘বাজেট নিয়ে বলার তেমন কিছু নেই, তবে আইনজীবীদের জন্য কিছু থাকলে ভালো হত।’ এই প্রসঙ্গে শুভেন্দু আশ্বাস দেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে এবং প্রয়োজনে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।

আরও পড়ুন : Smriti Mandhana TIME 100, influential sports people 2026 | TIME 100 তালিকায় স্মৃতি মন্ধানা: বিশ্বের প্রভাবশালী ক্রীড়াবিদদের মধ্যে একমাত্র ভারতীয়

বাজেটের মূল দিকগুলি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, পাঁচটি ক্ষেত্রকে কেন্দ্র করে এই পরিকল্পনা তৈরি হয়েছে সেবা, শিল্প, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং কৃষি। পাশাপাশি রাজ্যের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে পুনরুজ্জীবিত করার দিকেও নজর দেওয়া হয়েছে। নাগরিক সুরক্ষা, মর্যাদা এবং ভয়মুক্ত পরিবেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। শিল্পোন্নয়নের প্রসঙ্গে শুভেন্দু বলেন, রাজ্যে বিনিয়োগের পরিবেশ তৈরি করতে প্রশাসনিক জটিলতা কমানো হবে। তাঁর বক্তব্য, ‘১০০ কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগ করলে স্থানীয় প্রশাসনের অনুমোদনের প্রয়োজন হবে না।’ এতে ব্যবসায়ীদের হয়রানি কমবে এবং দ্রুত প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব হবে বলে মনে করছে সরকার। পাশাপাশি আগের সরকারের সময় বন্ধ হয়ে যাওয়া ‘ইনসেনটিভ’ ব্যবস্থা ফের চালু করা হয়েছে। এই খাতে ৫০০০ কোটি টাকার বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

পরিকাঠামো উন্নয়নেও জোর দেওয়া হয়েছে। সড়ক, সেতু, রেলপথ, বিমানবন্দর ও সমুদ্রবন্দর নির্মাণের মাধ্যমে যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা রাজ্যের অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করে তুলবে। কৃষিক্ষেত্রে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছে। কৃষিকাজে ব্যবহৃত বিদ্যুতের ক্ষেত্রে প্রতি ইউনিটে ২ টাকা করে ছাড় দেওয়া হবে। এর জন্য ৮০০ কোটি টাকার বরাদ্দ রাখা হয়েছে। আলু চাষী ও ধানচাষীদের জন্য বিশেষ সহায়তার কথাও বলা হয়েছে। গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করাই এই পদক্ষেপের লক্ষ্য।

যুব সমাজের জন্যও বাজেটে রয়েছে বড় ঘোষণা। অক্টোবর মাস থেকে স্নাতক পাশ করা যুবকদের মাসে ৩০০০ টাকা এবং যারা স্নাতক নন, তাঁদের ২০০০ টাকা করে ভাতা দেওয়া হবে। তবে পরিবারের মাসিক আয় এক লক্ষ টাকার বেশি হলে এই সুবিধা পাওয়া যাবে না। এই প্রকল্পের গাইডলাইন শীঘ্রই প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। মহিলাদের ক্ষেত্রেও একাধিক পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। আইসিডিএস কর্মীদের সম্মানিক বৃদ্ধি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী আগের সরকারের সমালোচনা করে বলেন, ‘ওঁরা দাবি করেছিলেন, কিন্তু পাননি। এখন না চাইতেও পেয়েছেন।’ পাশাপাশি প্যারা-টিচারদের ক্ষেত্রেও তিনি ইতিবাচক পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছেন। সিভিক ভলান্টিয়ারদের প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী কিছু কড়া মন্তব্যও করেন। তাঁর কথায়, ‘ভুয়ো নিয়োগ হয়েছে, অনেকের শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং বয়স সংক্রান্ত নথি ঠিক নয়।’ যদিও তিনি জানিয়েছেন, বেতন ২০০০ টাকা বাড়ানো হয়েছে, তবে যাচাই-বাছাই চলবে। এতে কেউ চাকরি হারাবেন না বলেও তিনি আশ্বাস দিয়েছেন।

স্বাস্থ্য খাতেও বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। সরকারি হাসপাতালে রোগী পিছু খাবারের বরাদ্দ ৫৬ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১১০ টাকা করা হয়েছে। এতে রোগীদের পরিষেবা আরও উন্নত হবে বলে দাবি সরকারের। রাজ্যের সাংস্কৃতিক ও আদর্শগত দিশা প্রসঙ্গে শুভেন্দু বলেন, ‘শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় (Syama Prasad Mookerjee), স্বামী বিবেকানন্দ (Swami Vivekananda), রামকৃষ্ণ মিশন (Ramakrishna Mission), ভারত সেবাশ্রম (Bharat Sevashram Sangha), ইস্কন (ISKCON) -এর পথেই বাংলা এগোবে।’ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য করপাস ফান্ড এবং মিড-ডে মিল প্রকল্পে ইস্কনের অংশগ্রহণের কথাও তিনি উল্লেখ করেন।

অন্যদিকে, এই বাজেট নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিরোধী শিবির। তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh) বলেন, ‘খরচের কথা বলা হয়েছে, কিন্তু আয় কোথা থেকে আসবে তা পরিষ্কার নয়।’ তাঁর অভিযোগ, বাজেটে কেন্দ্রীয় সরকারের উল্লেখ এত বেশি যে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে। তবে তিনি এটাও জানিয়েছেন, নতুন সরকারকে কিছুটা সময় দেওয়া উচিত। রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই রাজ্যের নতুন বাজেট ঘিরে তৈরি হয়েছে এক নতুন আলোচনা। একদিকে সরকারের আত্মবিশ্বাস, অন্যদিকে বিরোধীদের প্রশ্ন, এই দ্বৈত পরিস্থিতির মধ্যেই আগামী দিনে বাজেট বাস্তবায়নের দিকেই এখন নজর রাজ্যবাসীর।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : West Bengal Budget 2026 hospital food allocation | পাতলা ডাল থেকে পুষ্টিকর থালা! West Bengal Budget 2026-এ সরকারি হাসপাতালে খাবারে বড় বদল, বরাদ্দ বেড়ে ১১০ টাকা

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন