সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ লখনউ: উত্তরপ্রদেশের রাজধানী লখনউতে (Lucknow) হৃদয়বিদারক অগ্নিকাণ্ডে মৃত্যু অন্তত ১৪ জনের। সোমবার দুপুরে আলিগঞ্জ (Aliganj) এলাকার একটি কোচিং সেন্টারে আচমকা আগুন লাগার পর মুহূর্তের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে পড়ুয়াদের মধ্যে। দোতলার ঘরে আটকে পড়ে প্রাণ বাঁচাতে জানলা ভেঙে নিচে ঝাঁপ দেন বহু ছাত্রছাত্রী। ভয়াবহ এই ঘটনায় গুরুতর জখম হয়েছেন আরও অনেকে, যাঁদের মধ্যে কয়েক জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গিয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, যে সময় আগুন লাগে, তখন কোচিং সেন্টারে বহু পড়ুয়া উপস্থিত ছিলেন। আচমকা আগুনের লেলিহান শিখা ছড়িয়ে পড়তেই হুড়োহুড়ি শুরু হয়ে যায়। অনেকেই বেরোতে না পেরে জানলা ভেঙে লাফিয়ে পড়েন। প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ানে উঠে এসেছে বিভীষিকার ছবি। তাঁদের কথায়, ‘মুহূর্তের মধ্যে পুরো ঘর ধোঁয়ায় ঢেকে যায়। কেউ কিছু বুঝে ওঠার আগেই সবাই ছুটতে শুরু করে।’ ঘটনাস্থলের বেশ কয়েকটি ভিডিয়ো ইতিমধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, আগুনে জ্বলছে পুরো বিল্ডিং, চারপাশে ঘন কালো ধোঁয়া। একাধিক পড়ুয়া দোতলার জানলা থেকে ঝাঁপ দিচ্ছেন। একটি ভিডিয়োতে দেখা যায়, এক ছাত্র জানলা ভেঙে বেরিয়ে এসে কার্নিশ ধরে ঝুলে থাকার চেষ্টা করছে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত ভারসাম্য রাখতে না পেরে নিচে পড়ে যায়। সেই দৃশ্য ঘিরে আতঙ্ক আরও বেড়ে যায়।
বিশেষ সূত্রে জানা গিয়েছে, কোচিং সেন্টারটি একটি বহুতলের দোতলায় অবস্থিত ছিল। নিচেরতলায় একটি পোষ্য প্রাণীর দোকান রয়েছে। প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে, নীচতলা থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে, যদিও এখনও তা নিশ্চিত নয়। কী কারণে আগুন লাগল, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে প্রশাসন। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় দমকল ও পুলিশ। প্রথম দিকে আগুনের তীব্রতা এতটাই ছিল যে তা নিয়ন্ত্রণে আনতে দমকলকর্মীদের বেশ বেগ পেতে হয়। ধোঁয়ায় ঢেকে যায় গোটা এলাকা। উদ্ধারকাজে নামেন দমকলের একাধিক দল। একে একে আটকে পড়া পড়ুয়াদের বাইরে নিয়ে আসা হয়। পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দারাও উদ্ধারকাজে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন। উত্তরপ্রদেশের উপমুখ্যমন্ত্রী ব্রজেশ পাঠক (Brajesh Pathak) ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন। তিনি বলেন, ‘আমি নিজের চোখে ১২-১৩ জনের দেহ দেখেছি। সকলকে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ভিতরে প্রচুর ধোঁয়া জমে গিয়েছিল, যার ফলে উদ্ধারকাজ কঠিন হয়ে পড়ে।’ প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।
আহতদের দ্রুত নিকটবর্তী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে কয়েক জনের অবস্থা গুরুতর। চিকিৎসকেরা তাঁদের বাঁচানোর চেষ্টা চালাচ্ছেন। অনেকের শরীরে মারাত্মক দগ্ধ চিহ্ন রয়েছে, আবার কেউ কেউ উচ্চতা থেকে পড়ে গুরুতর আঘাত পেয়েছেন।ঘটনায় গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। তিনি নিহতদের পরিবার পিছু ২ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা করেছেন। একই সঙ্গে আহতদের চিকিৎসার খরচ বহনের আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে। উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ (Yogi Adityanath) এই ঘটনার উচ্চপর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। কী কারণে আগুন লাগল এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনও ত্রুটি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
প্রশাসনের প্রাথমিক অনুমান, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার অভাব বা নিরাপত্তা মানদণ্ডের ঘাটতি এই দুর্ঘটনাকে আরও ভয়াবহ করে তুলতে পারে। দোতলার ঘরে একাধিক পড়ুয়া একসঙ্গে উপস্থিত থাকায় পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, ওই কোচিং সেন্টারে প্রায়ই ভিড় থাকত। নিরাপত্তা ব্যবস্থা কতটা পর্যাপ্ত ছিল, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। অনেকেই দাবি করেছেন, এমন ব্যস্ত এলাকায় এই ধরনের প্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা থাকা জরুরি। এই মর্মান্তিক ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে গোটা এলাকায়। বহু পরিবার তাদের প্রিয়জনকে হারিয়েছে। কেউ হাসপাতালে প্রিয়জনের খোঁজে দৌড়চ্ছেন, কেউ আবার প্রার্থনা করছেন আহতদের সুস্থতার জন্য।
লখনউয়ের এই অগ্নিকাণ্ড আবারও সামনে এনে দিল জনবহুল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা ব্যবস্থার গুরুত্ব। নিয়ম মেনে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা, জরুরি নির্গমন পথ ও সচেতনতার অভাব যে কত বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে, এই ঘটনা তারই কঠিন স্মারক হয়ে রইল।
ছবি: সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Solar Energy Agriculture India, Narendra Modi | সৌরশক্তিতে কৃষির বদল, ভারতের মডেল বিশ্বে তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী




