National e-Governance Awards 2026, Digital Panchayat India | ডিজিটাল গ্রামেই ভবিষ্যৎ! জাতীয় ই-গভর্ন্যান্স পুরস্কার ২০২৬-এ পঞ্চায়েতের নজির, সোনা জিতল মহারাষ্ট্র

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি: গ্রামীণ প্রশাসনে প্রযুক্তির ব্যবহারে নতুন দিগন্ত খুলে দিল জাতীয় ই-গভর্ন্যান্স পুরস্কার ২০২৬ (National e-Governance Awards 2026)। পঞ্চায়েত স্তরে ডিজিটাল পরিষেবা, স্বচ্ছতা এবং নাগরিক অংশগ্রহণের ভিত্তিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা উদ্যোগগুলির মধ্যে থেকে বেছে নেওয়া হয়েছে সেরাদের। এ বছরের প্রতিযোগিতায় স্বর্ণ পদক জিতেছে মহারাষ্ট্রের কাদেপুর গ্রাম পঞ্চায়েত (Kadepur Gram Panchayat) এবং নন্দুরবার জেলা পরিষদ (Nandurbar Zilla Parishad), অন্যদিকে রজত পদক পেয়েছে ত্রিপুরার বিজয়নগর গ্রাম পঞ্চায়েত (Bijoy Nagar Gram Panchayat)। পুরস্কারের সঙ্গে রয়েছে ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আর্থিক প্রণোদনা, যা ভবিষ্যতে আরও উন্নত প্রকল্প বাস্তবায়নে সহায়ক হবে। গ্রামোন্নয়নে প্রযুক্তির ব্যবহারকে কেন্দ্র করে এই পুরস্কার দেশের পঞ্চায়েত ব্যবস্থাকে নতুনভাবে ভাবতে উৎসাহ দিচ্ছে। পঞ্চায়েত উন্নতি সূচক বা পিএআই (Panchayat Advancement Index) -এর ভিত্তিতে এই মূল্যায়ন করা হয়েছে, যেখানে প্রশাসনিক দক্ষতা, আর্থিক স্বচ্ছতা, ডিজিটাল পরিষেবা এবং নাগরিক অংশগ্রহণকে গুরুত্ব দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন : Modi Meloni G7 Moment | জি৭ মঞ্চে ফের ভাইরাল ‘মেলোডি-মুহূর্ত’, মোদী-মেলোনির হাসির রসায়ন ঘিরে চর্চা

স্বর্ণজয়ী কাদেপুর গ্রাম পঞ্চায়েত একাধিক আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে নজির তৈরি করেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ব্লকচেন, ন্যানো প্রযুক্তি, বায়োটেকনোলজি এবং রোবোটিক্সের মতো উন্নত ক্ষেত্রগুলিতে আনুষ্ঠানিক নীতি গ্রহণ করা দেশের একমাত্র পঞ্চায়েত হিসেবে কাদেপুরের নাম উঠে এসেছে। প্রশাসনিক নথি সংরক্ষণে ব্লকচেন ব্যবহারের ফলে তথ্যের নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে। পাশাপাশি জিআইএস-ভিত্তিক সম্পত্তি জিও-ট্যাগিং ব্যবস্থার মাধ্যমে সম্পদের সঠিক মানচিত্র তৈরি করা হয়েছে, যা পরিকল্পনা গ্রহণে সাহায্য করছে। অন্যদিকে ত্রিপুরার বিজয়নগর গ্রাম পঞ্চায়েত অংশগ্রহণমূলক শাসন ব্যবস্থার একটি শক্তিশালী উদাহরণ তুলে ধরেছে। পিএআই ২.০-এ তাদের স্কোর দাঁড়িয়েছে ৮৮.৫৫ (গ্রেড এ), যা আগের সংস্করণের তুলনায় প্রায় ৩৮ শতাংশ বৃদ্ধি নির্দেশ করে। এই পঞ্চায়েতে নিজস্ব আয়ের উৎস প্রায় ১৯৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা আর্থিক স্বনির্ভরতার দিকটি তুলে ধরে। এখানে সম্পূর্ণ কার্যকর ই-অফিস ব্যবস্থার মাধ্যমে ১০০-র বেশি পরিষেবা অনলাইনে প্রদান করা হচ্ছে। ‘গ্রাম বার্তা’ নামে একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের সাহায্যে প্রতিটি পরিবারের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ সম্ভব হয়েছে। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, এই পঞ্চায়েতে মহিলাদের মধ্যে ১০০ শতাংশ ডিজিটাল সাক্ষরতা অর্জিত হয়েছে, যা গ্রামীণ সমাজে প্রযুক্তির বিস্তারকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছে।

মহারাষ্ট্রের নন্দুরবার জেলা পরিষদ স্বাস্থ্য পরিষেবায় ডিজিটাল রূপান্তরের জন্য স্বর্ণ পদক অর্জন করেছে। তাদের ‘ই-আরোগ্য ধামনী’ (e-Arogya Dhamani) উদ্যোগটি জেলা স্তরের ই-গভর্ন্যান্স বিভাগে সেরা হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে আধুনিক ডিজিটাল সরঞ্জাম ব্যবহার করে আদিবাসী ও দুর্গম এলাকার মানুষদের দ্রুত এবং উন্নত স্বাস্থ্য পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। দূরবর্তী অঞ্চলে চিকিৎসা পরিষেবার অভাব দূর করতে এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিচ্ছে।

এই পুরস্কার প্রবর্তনের পেছনে রয়েছে পঞ্চায়েতি রাজ মন্ত্রকের (Ministry of Panchayati Raj) উদ্যোগ, যারা গ্রামীণ স্তরে অনলাইন নাগরিক পরিষেবার স্বীকৃতি দেওয়ার লক্ষ্যে বিশেষ বিভাগ চালু করেছে। গত কয়েক বছরে এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৫ সালে ২৬টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল থেকে ১.৪৫ লক্ষের বেশি আবেদন জমা পড়েছিল। ২০২৬ সালে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩০টি রাজ্য থেকে ১.৬৫ লক্ষেরও বেশি গ্রাম পঞ্চায়েতে। এই পরিসংখ্যান গ্রামীণ প্রশাসনে ডিজিটাল রূপান্তরের প্রতি আগ্রহের একটি বড় ইঙ্গিত দেয়। পঞ্চায়েত স্তরে সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রশিক্ষণ এবং প্রযুক্তির প্রসারের জন্য সরকারের ধারাবাহিক উদ্যোগের ফলেই এই পরিবর্তন সম্ভব হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য যে, গ্রাম পঞ্চায়েতের জন্য আলাদা পুরস্কার বিভাগ প্রথম চালু হয় ২০২৫ সালে। সেই বছর স্বর্ণ পদক পেয়েছিল মহারাষ্ট্রের রোহিণী গ্রাম পঞ্চায়েত (Rohini Gram Panchayat), রজত পদক যায় ত্রিপুরার পশ্চিম মজলিশপুর গ্রাম পঞ্চায়েত (Paschim Majlishpur Gram Panchayat)-এর হাতে। পাশাপাশি গুজরাতের পালসানা (Palsana Gram Panchayat) এবং ওড়িশার সুকাটি (Sukati Gram Panchayat) জুরি পুরস্কার লাভ করে। বর্তমান সময়ে ডিজিটাল গভর্ন্যান্স শুধু শহরেই সীমাবদ্ধ নেই, গ্রামেও তার বিস্তার ঘটছে দ্রুত। নাগরিক পরিষেবা সহজলভ্য করা, দুর্নীতি কমানো এবং প্রশাসনিক কাজের গতি বাড়ানোর ক্ষেত্রে প্রযুক্তির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। জাতীয় ই-গভর্ন্যান্স পুরস্কার সেই প্রয়াসগুলিকে সামনে নিয়ে আসছে, যা অন্য পঞ্চায়েতগুলির জন্য পথ দেখাতে পারে। গ্রামীণ ভারতের পরিবর্তিত চেহারা এখন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের উপর দাঁড়িয়ে আরও শক্তিশালী হয়ে উঠছে। এই পুরস্কারপ্রাপ্ত উদ্যোগগুলি দেখিয়ে দিচ্ছে, সঠিক পরিকল্পনা ও প্রযুক্তির ব্যবহার থাকলে ছোট গ্রামও উন্নয়নের বড় উদাহরণ হয়ে উঠতে পারে।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Prime Minister Shri Narendra Modi to Lead Global Yoga Movement From Kolkata on International Day of Yoga 2026

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন