সাশ্রয় নিউজ স্পোর্টস ডেস্ক ★ দোহা: বিশ্বকাপ মানেই নতুন নায়ক, নতুন গল্প। এবারের আসরও তার ব্যতিক্রম নয়। টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচেই এমন এক নজির তৈরি হল, যা ফুটবল ইতিহাসে আলাদা করে লেখা থাকবে। মেক্সিকোর ১৭ বছরের তরুণ মিডফিল্ডার গিলবার্তো মোরা (Gilberto Mora) ভেঙে দিলেন ৯৬ বছরের পুরনো রেকর্ড। দক্ষিণ আফ্রিকার (South Africa) বিরুদ্ধে মাঠে নামার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি হয়ে উঠলেন দেশের হয়ে বিশ্বকাপে খেলা সবচেয়ে কম বয়সী ফুটবলার। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ২-০ ব্যবধানে জিতে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করেছে মেক্সিকো। ম্যাচটি মূলত আলোচনায় ছিল ব্রাজিলের রেফারি উইল্টন সাম্পাইয়ো (Wilton Sampaio) -এর তিনটি লাল কার্ড দেখানো নিয়ে। কিন্তু সেই উত্তেজনার মাঝেই নিঃশব্দে ইতিহাস লিখে ফেলেন মোরা। ৬৫ মিনিটে বদলি হিসেবে মাঠে নামার মুহূর্তেই তিনি ভেঙে দেন দীর্ঘদিনের এক রেকর্ড।
এর আগে ১৯৩০ সালের প্রথম বিশ্বকাপে ফ্রান্স (France) -এর বিরুদ্ধে মেক্সিকোর হয়ে খেলেছিলেন ম্যানুয়েল রোসাস (Manuel Rosas)। তখন তাঁর বয়স ছিল ১৮ বছর ১৩৪ দিন। প্রায় এক শতাব্দী ধরে সেই রেকর্ড অটুট ছিল। কিন্তু এবার ১৭ বছর ২৪০ দিন বয়সে মাঠে নেমে সেই রেকর্ড নিজের নামে করে নিলেন মোরা। মেক্সিকোর ফুটবল মহলে ইতিমধ্যেই এই তরুণকে ঘিরে প্রবল আগ্রহ তৈরি হয়েছে। তাঁকে দেশের অন্যতম সম্ভাবনাময় মিডফিল্ডার হিসেবে দেখা হচ্ছে। জাতীয় দলের কোচ জাভিয়ের আগুইরে (Javier Aguirre) তাঁর উপর আস্থা রেখেই বিশ্বকাপ দলে সুযোগ দিয়েছেন। কোচের সেই সিদ্ধান্ত যে অমূলক নয়, তা প্রথম ম্যাচেই প্রমাণ করে দিলেন মোরা।
ক্লাব স্তরে তিজুয়ানা (Club Tijuana) -এর হয়ে গত কয়েক মরসুম ধরে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স করে নজর কাড়েন তিনি। খুব অল্প বয়সেই মেক্সিকোর শীর্ষ লিগে ৫০টির বেশি ম্যাচ খেলে ফেলেছেন। শুধু ম্যাচ খেলা নয়, মাঝমাঠে তাঁর উপস্থিতি দলের ছন্দ গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। গোল করা এবং সতীর্থদের দিয়ে গোল করানোর ক্ষেত্রেও দক্ষতা দেখিয়েছেন তিনি। ২০২৫ সালে আন্তর্জাতিক ফুটবলে অভিষেক হয় মোরার। সেই সময়ই তিনি দেশের হয়ে সর্বকনিষ্ঠ ফুটবলারদের তালিকায় নিজের নাম তুলে ফেলেছিলেন। এক বছরের মধ্যে বিশ্বকাপের মঞ্চে এসে আবারও নজির গড়লেন তিনি। এই ধারাবাহিকতা অনেকের নজর কেড়েছে।
বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে এত কম বয়সে খেলার সুযোগ পাওয়া সহজ নয়। এর জন্য যেমন প্রতিভা প্রয়োজন, তেমনই প্রয়োজন মানসিক দৃঢ়তা। ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে মাঠে নামিয়ে কোচ যে তাঁর উপর ভরসা দেখিয়েছেন, তা থেকেই বোঝা যায়, দলের পরিকল্পনায় মোরার ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। ম্যাচে যদিও তিনি খুব বেশি সময় পাননি, তবুও তাঁর উপস্থিতি আলাদা করে চোখে পড়ে। বল কন্ট্রোল, পাসিং এবং পজিশনিং, সব জায়গায় তিনি নিজের দক্ষতার ঝলক দেখান। ভবিষ্যতে আরও বড় ভূমিকা নেওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
মেক্সিকো দলের জন্য এই জয় যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই নতুন প্রজন্মের একজন ফুটবলারের আত্মপ্রকাশও বড় বিষয় হয়ে উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে যে রেকর্ডটি অটুট ছিল, তা ভাঙা মানেই শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং দেশের ফুটবল কাঠামোয় নতুন প্রতিভার উত্থানের ইঙ্গিত। সমাজমাধ্যমেও মোরাকে নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে। অনেকেই তাঁকে ‘ফিউচার স্টার’ বলে অভিহিত করছেন। কেউ লিখেছেন, ‘১৭ বছর বয়সেই এমন আত্মবিশ্বাস, ভবিষ্যতে আরও বড় কিছু অপেক্ষা করছে।’ আবার কেউ বলছেন, ‘এই ধরনের প্রতিভাই ফুটবলকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যায়।’
বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই এমন একটি রেকর্ড তৈরি হওয়ায় টুর্নামেন্টের উত্তেজনা আরও বেড়েছে। সামনে আরও ম্যাচ রয়েছে, যেখানে মোরাকে আরও বেশি সময় মাঠে দেখা যেতে পারে। তাঁর পারফরম্যান্স কেমন হয়, সেটাই এখন নজরে থাকবে। মেক্সিকোর ফুটবল ইতিহাসে নতুন অধ্যায় লিখে ফেলেছেন গিলবার্তো মোরা। সামনে দীর্ঘ পথ, অনেক চ্যালেঞ্জ। কিন্তু শুরুটা যেভাবে হল, তা নিঃসন্দেহে মনে রাখার মতো।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Aadhaar Card Update Rules: আধারে ঠিকানা-মোবাইল কতবার বদলানো যায়? UIDAI-র নিয়ম জানলে এড়াবেন ঝামেলা



