সুজয়নীল দাশগুপ্ত ★ সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক, নতুন দিল্লি : ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য বড় খবর সামনে এল। আগামী বছরের এক দিনের ক্রিকেট বিশ্বকাপের (ODI World Cup) সূচী নিয়ে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটল। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল বা আইসিসি (ICC) -এর অভ্যন্তরীণ বৈঠকের পর টুর্নামেন্টের সম্ভাব্য দিনক্ষণ চূড়ান্ত হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকা (South Africa), জ়িম্বাবোয়ে (Zimbabwe) এবং নামিবিয়া (Namibia) এই তিন দেশ মিলেই আয়োজন করতে চলেছে আসন্ন বিশ্বকাপ। প্রাথমিক সূচী অনুযায়ী, প্রতিযোগিতা শুরু হবে ৪ অক্টোবর এবং ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে ২১ নভেম্বর। ক্রিকেটভিত্তিক ওয়েবসাইট ‘ক্রিকইনফো’ (Cricinfo) -এর প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, প্রায় দেড় মাস ধরে চলবে এই বহুল প্রতীক্ষিত প্রতিযোগিতা। মোট ৫৪টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে, যার মধ্যে অধিকাংশ ম্যাচই আয়োজন করবে দক্ষিণ আফ্রিকা। জানা গিয়েছে, ৪১টি ম্যাচ হবে এই দেশে। অন্য দিকে, জ়িম্বাবোয়ে আয়োজক হিসেবে ৮ থেকে ১০টি ম্যাচ আয়োজন করতে পারে, আর নামিবিয়ায় নির্ধারিত হয়েছে তিনটি ম্যাচ।
এই বিশ্বকাপ শুধু ম্যাচসংখ্যার জন্য নয়, পরিকাঠামোর দিক থেকেও বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। জ়িম্বাবোয়ের ক্ষেত্রে এবারের আসরে একটি নতুন ভেন্যু যুক্ত হতে চলেছে। হারারে স্পোর্টস ক্লাব (Harare Sports Club) এবং বুলাওয়ে (Bulawayo) -এর পাশাপাশি ভিক্টোরিয়া ফলস (Victoria Falls)-এ তৈরি হচ্ছে অত্যাধুনিক ‘মোয়া-ওয়া-তুনিয়া আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম’ (Mosi-oa-Tunya International Cricket Stadium)। এই স্টেডিয়ামের নির্মাণকাজ চলতি বছর শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। আগামী বছরের মে মাসে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের আগে সেখানে ঘরোয়া ম্যাচ আয়োজনের পরিকল্পনাও রয়েছে।
প্রাথমিকভাবে শোনা গিয়েছিল, এই নতুন স্টেডিয়ামে উদ্বোধনের আগে দক্ষিণ আফ্রিকা একটি প্রীতি ম্যাচ খেলতে পারে। যদিও শেষ পর্যন্ত সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হচ্ছে না বলেই খবর। তবে নতুন ভেন্যুর অন্তর্ভুক্তি জ়িম্বাবোয়ের ক্রিকেট পরিকাঠামোয় নতুন মাত্রা যোগ করবে বলেই মনে করা হচ্ছে। বিশ্বকাপের ফরম্যাটেও রয়েছে পরিবর্তনের ছাপ। এবারের আসরে অংশ নেবে মোট ১৪টি দেশ, যা আগের তুলনায় বেশি। দলগুলিকে দু’টি গ্রুপে ভাগ করা হবে, প্রতিটি গ্রুপে থাকবে সাতটি করে দল। গ্রুপ পর্ব শেষে প্রতিটি গ্রুপের সেরা তিনটি দল পৌঁছে যাবে সুপার সিক্স পর্বে। সেখান থেকে সেরা দলগুলি লড়াই করবে সেমিফাইনাল এবং ফাইনালে ওঠার জন্য।
যোগ্যতা অর্জনের দিক থেকেও ইতিমধ্যেই কিছু ছবি পরিষ্কার। পূর্ণ সদস্য দেশ হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকা এবং জ়িম্বাবোয়ে ইতিমধ্যেই জায়গা নিশ্চিত করেছে। অন্য দিকে, নামিবিয়া এখনও যোগ্যতা অর্জন পর্বের লড়াইয়ে রয়েছে। বাকি দলগুলিও যোগ্যতা নির্ধারণী প্রতিযোগিতার মাধ্যমে জায়গা করে নেবে মূল পর্বে। এই টুর্নামেন্ট আরও একটি কারণে গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৭-২০৩১ চক্রের আইসিসি ফিউচার টুরস প্রোগ্রাম বা এফটিপি (FTP) -এর অধীনে এটিই হতে চলেছে প্রথম বড় আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা। ফলে এই বিশ্বকাপ ঘিরে আগ্রহ যে অন্য মাত্রায় পৌঁছবে, তা বলাই যায়।
এফটিপি নিয়ে এখনও কিছু বিষয় চূড়ান্ত হয়নি। চলতি বছরের শেষে হংকং (Hong Kong)-এ আইসিসি-র আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে ভবিষ্যতের সূচি এবং কাঠামো নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। বিশেষ করে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ (World Test Championship)-এর কাঠামো ও সময়সীমা নিয়ে আলোচনা বাকি রয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকার ক্ষেত্রে এই বিশ্বকাপ আয়োজন একটি বিশেষ মাইলফলক। এর আগে ২০০৩ সালে পুরুষদের এক দিনের বিশ্বকাপ আয়োজন করেছিল তারা। তার পর ২০০৭ সালে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আয়োজন করা হয় সেই দেশে। যদিও এর মাঝে ২০০৯ সালে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি এবং ২০২৩ সালে মহিলাদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আয়োজন করেছে দক্ষিণ আফ্রিকা, তবুও পুরুষদের বড় মাপের ৫০ ওভারের বিশ্বকাপ আয়োজনে প্রায় দুই দশকের বিরতি কাটছে এবার। ক্রিকেট দুনিয়ায় ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে জল্পনা। কোন দল কেমন প্রস্তুতি নেবে, নতুন ফরম্যাটে কারা সুবিধা পাবে, কোন তরুণ ক্রিকেটার উঠে আসবে, এই সব প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে সমর্থকদের মধ্যে। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই টুর্নামেন্টে দলগুলির ধারাবাহিকতা, স্কোয়াডের গভীরতা এবং কৌশলগত পরিকল্পনাই বড় ভূমিকা নিতে চলেছে।
সূচী প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই সামাজিক মাধ্যমে উৎসাহ চোখে পড়ার মতো। অনেকেই মনে করছেন, একাধিক দেশে ম্যাচ হওয়ায় বৈচিত্র্য বাড়বে এবং পিচ ও আবহাওয়ার ভিন্নতা খেলায় নতুন মাত্রা যোগ করবে। অন্য দিকে, ১৪টি দলের অংশগ্রহণে প্রতিযোগিতা আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়ে উঠবে। বিশ্বকাপ মানেই আবেগ, ইতিহাস আর নতুন অধ্যায় লেখার মঞ্চ। ২০২৭ সালের এক দিনের বিশ্বকাপও সেই ধারার ব্যতিক্রম হবে না বলেই প্রত্যাশা। এখন শুধু অপেক্ষা, আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এবং তারপর মাঠে গড়ানো ক্রিকেট মহারণের।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Wilton Sampaio red card controversy, World Cup referee decisions | তিন লাল কার্ডে উত্তাল ম্যাচ, ‘খলনায়ক’ তকমা পেলেন সাম্পাইয়ো! বিশ্বকাপের শুরুতেই রেফারিকে ঘিরে বিতর্ক




