সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা: ডিজিটাল যুগে যোগাযোগের প্রধান ভরসা হঠাৎই ভেঙে পড়ল। বিশ্বের কোটি কোটি ব্যবহারকারীর দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে ওঠা মেটা (Meta) -এর একাধিক প্ল্যাটফর্মে বড়সড় প্রযুক্তিগত বিভ্রাট দেখা দিল শুক্রবার। ফেসবুক (Facebook), ইনস্টাগ্রাম (Instagram), মেসেঞ্জার (Messenger) এবং থ্রেডস (Threads) সব ক’টি পরিষেবাতেই একযোগে সমস্যা তৈরি হওয়ায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ভারত (India), বাংলাদেশ (Bangladesh), আমেরিকা (United States), ব্রিটেন (United Kingdom), অস্ট্রেলিয়া (Australia) সহ একাধিক দেশের ব্যবহারকারীরা একই সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন। বিকেলের পর থেকেই সমস্যার সূত্রপাত। অনেক ব্যবহারকারী জানান, আচমকা তাঁদের অ্যাকাউন্ট থেকে লগ-আউট করে দেওয়া হচ্ছে। কেউ লগ-ইন করতে পারলেও স্বাভাবিক ভাবে ব্যবহার করতে পারছেন না। নিউজফিড রিফ্রেশ হচ্ছে না, পোস্ট লোড হচ্ছে না, এমনকি অনেকের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ সাদা বা ফাঁকা স্ক্রিন দেখা যাচ্ছে। অ্যাপ খুললেও কাজ করছে না প্রত্যাশিত ভাবে। ফলে সাধারণ ব্যবহারকারীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়তে থাকে।
প্রথমে অনেকেই ভেবেছিলেন তাঁদের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে সমস্যা হয়েছে। কেউ কেউ মনে করেন, হয়তো পাসওয়ার্ড সংক্রান্ত জটিলতা বা অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়েছে। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই পরিষ্কার হয়, সমস্যাটি ব্যক্তিগত নয়, বরং বৈশ্বিক স্তরের একটি প্রযুক্তিগত ত্রুটি। একই সময়ে বিভিন্ন দেশের লক্ষ লক্ষ ব্যবহারকারী একই অভিজ্ঞতার কথা জানাতে শুরু করলে বিষয়টি আরও গুরুত্ব পায়। বিশ্বব্যাপী আউটেজ ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মগুলির তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক সময় অনুযায়ী দুপুরের পর থেকেই অভিযোগ বাড়তে থাকে। ভারতীয় সময় অনুযায়ী বিকেল থেকে সন্ধ্যার মধ্যে সমস্যার তীব্রতা বাড়ে। সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে। মেসেঞ্জার ও থ্রেডস ব্যবহারকারীরাও একই ধরনের সমস্যার কথা জানিয়েছেন।
কিছু অঞ্চলে হোয়াটসঅ্যাপ (WhatsApp) -এর ক্ষেত্রেও ধীরগতির অভিযোগ উঠে এসেছে। যদিও সেই সমস্যা তুলনামূলক কম এবং সীমিত পরিসরে ছিল বলে জানা যাচ্ছে। তবুও একাধিক পরিষেবায় একসঙ্গে সমস্যা তৈরি হওয়ায় উদ্বেগ বেড়েছে সাধারণ ব্যবহারকারীদের মধ্যে। এই পরিস্থিতিতে ব্যবহারকারীরা বিকল্প প্ল্যাটফর্মে ভিড় জমাতে শুরু করেন। বিশেষ করে এক্স (X, পূর্বতন Twitter) -এ #FacebookDown, #InstagramDown এবং #MetaOutage হ্যাশট্যাগ দ্রুত ট্রেন্ড করতে শুরু করে। অনেকে সেখানে নিজেদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন। কেউ লেখেন, ‘হঠাৎ লগ-আউট হয়ে গেলাম, ভাবলাম অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়েছে।’ আবার কেউ বলেন, ‘সব কিছু ঠিক আছে, কিন্তু কিছুই লোড হচ্ছে না।’
মেটা সংস্থার পক্ষ থেকেও এই সমস্যার কথা স্বীকার করা হয়েছে। সংস্থা জানিয়েছে, একটি অভ্যন্তরীণ প্রযুক্তিগত ত্রুটির জেরে এই বিভ্রাট তৈরি হয়েছে। সংস্থার প্রকৌশলীরা সমস্যার উৎস খুঁজে বের করতে এবং পরিষেবা দ্রুত স্বাভাবিক করতে কাজ শুরু করেছেন। যত দ্রুত সম্ভব পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে বলে জানানো হয়েছে।
এ ধরনের বৈশ্বিক বিভ্রাট নতুন নয়, তবে এর প্রভাব প্রতিবারই ব্যাপক হয়। কারণ, ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মতো প্ল্যাটফর্ম শুধু সামাজিক যোগাযোগ নয়, ব্যবসা, বিপণন, সংবাদ প্রচার, সব ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ফলে এই ধরনের সমস্যায় বহু সংস্থার কাজও ব্যাহত হয়। প্রযুক্তি মহলের মতে, এত বড় পরিসরে একাধিক প্ল্যাটফর্ম একসঙ্গে বিকল হয়ে যাওয়ার পিছনে সাধারণত সার্ভার অবকাঠামো বা কেন্দ্রীয় সিস্টেমে ত্রুটি দায়ী থাকে। এই ধরনের সিস্টেম অত্যন্ত জটিল এবং একাধিক স্তরে কাজ করে। কোনও একটি স্তরে সমস্যা তৈরি হলে তার প্রভাব দ্রুত অন্য পরিষেবাগুলিতেও ছড়িয়ে পড়ে।
এখনও পর্যন্ত কোনও সাইবার হামলা বা তথ্য ফাঁসের প্রমাণ সামনে আসেনি। ফলে ব্যবহারকারীদের আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এই ধরনের সমস্যার সমাধান প্রযুক্তিগত স্তরেই করা সম্ভব হয় এবং কিছু সময়ের মধ্যেই পরিষেবা স্বাভাবিক হয়ে যায়। তবে এই ঘটনার পর আবারও উঠে এল একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন, ডিজিটাল দুনিয়ায় অতিরিক্ত নির্ভরতা কতটা নিরাপদ? কোটি কোটি মানুষ প্রতিদিন এই প্ল্যাটফর্মগুলির উপর নির্ভর করেন যোগাযোগ, কাজ এবং বিনোদনের জন্য। সেই জায়গায় এমন হঠাৎ বিঘ্ন তৈরি হলে তার প্রভাব পড়ে ব্যক্তিগত জীবন থেকে শুরু করে পেশাগত ক্ষেত্রেও। শুক্রবারের এই ঘটনা মনে করিয়ে দিল, প্রযুক্তি যত উন্নতই হোক, ত্রুটির সম্ভাবনা কখনও পুরোপুরি দূর হয় না। মেটা-র তরফে সমস্যার সমাধানের কাজ দ্রুত এগোলেও, এই বিভ্রাট বিশ্বজুড়ে ব্যবহারকারীদের মনে নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিল ডিজিটাল নিরাপত্তা ও নির্ভরতার ভবিষ্যৎ নিয়ে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Social Media Addiction, Meta Google Case | ‘আসক্তি তৈরির ফাঁদে ফেসবুক-ইনস্টাগ্রাম-ইউটিউব!’ মার্কিন আদালতের রায়ে চাপে মেটা ও গুগ্ল




