Dinesh Trivedi Bangladesh High Commissioner | বেনাপোল দিয়ে বাংলাদেশে পা, ‘দুই ভাইয়ের দেশ’! নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর আগমনে জোর কূটনীতিতে

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ ঢাকা: ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে চলেছে, এই বার্তাই যেন নিয়ে এলেন ভারতের নবনিযুক্ত হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী (Dinesh Trivedi)। শুক্রবার সকালে বেনাপোল-পেট্রাপোল (Benapole-Petrapole) স্থলবন্দর পেরিয়ে বাংলাদেশের মাটিতে প্রথমবার পা রাখলেন তিনি। দায়িত্ব গ্রহণের আগে এই সফরকে ঘিরে দুই দেশের কূটনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। সীমান্তে তাঁকে স্বাগত জানান বাংলাদেশের প্রশাসনিক আধিকারিকেরা, পরে তিনি ঢাকার (Dhaka) উদ্দেশ্যে রওনা দেন। বাংলাদেশে পা রাখার সঙ্গে সঙ্গেই ত্রিবেদীর মন্তব্য নজর কেড়েছে। তিনি বলেন, ‘ভারত ও বাংলাদেশ দুই ভাইয়ের দেশ। ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং আত্মিক বন্ধনে আমরা জড়িত। আমি এখানে বন্ধুত্বের হাত বাড়াতে এসেছি।’ তাঁর এই মন্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, দায়িত্ব নেওয়ার শুরুতেই তিনি সম্পর্ক মজবুত করার বার্তা দিতে চাইছেন। তিনি আরও জানান, দুই দেশের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহযোগিতা বাড়ানোই তাঁর প্রধান লক্ষ্য।

আরও পড়ুন : Narendra Modi Yogi Adityanath meeting | দিল্লিতে মুখোমুখি মোদী-যোগী: রাজনৈতিক মহলে জল্পনা, বৈঠকের তাৎপর্য নিয়ে বাড়ছে আগ্রহ

দীনেশ ত্রিবেদী শুধু একজন কূটনীতিক নন, তিনি দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদও। ভারতের প্রাক্তন রেলমন্ত্রী (Former Railway Minister) এবং ব্যারাকপুরের (Barrackpore) প্রাক্তন সাংসদ হিসেবে তাঁর রাজনৈতিক জীবন দীর্ঘ। চলতি বছরের এপ্রিল মাসে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক (Ministry of External Affairs) -এর তরফে তাঁকে বাংলাদেশে হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ করা হয়। সাধারণত এই পদে ক্যারিয়ার কূটনীতিকদের নিয়োগ করা হলেও, এবার এক জন অভিজ্ঞ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে বেছে নেওয়ায় বিষয়টি বিশেষ তাৎপর্য পেয়েছে। ৭৫ বছর বয়সী ত্রিবেদী দায়িত্ব নেবেন পূর্বতন হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা (Pranay Verma) -এর স্থলাভিষিক্ত হবেন। তাঁর আগমনকে অনেকেই দুই দেশের সম্পর্ক নতুন ভাবে গুছিয়ে নেওয়ার প্রয়াস হিসেবে দেখছেন। সাম্প্রতিক সময়ে কিছু ইস্যুতে দুই দেশের মধ্যে টানাপোড়েনের আবহ তৈরি হয়েছিল। সীমান্ত নিরাপত্তা, অবৈধ অনুপ্রবেশ, জলবণ্টন এবং বাণিজ্য নিয়ে নানা আলোচনা সামনে এসেছে। সেই প্রেক্ষাপটে এই নিয়োগ যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।

ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক ঐতিহাসিকভাবে ঘনিষ্ঠ। মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতের ভূমিকা থেকে শুরু করে পরবর্তী কূটনৈতিক সহযোগিতা—সব ক্ষেত্রেই দুই দেশের বন্ধন গভীর। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কিছু জটিলতাও তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে গঙ্গার জল বণ্টন চুক্তির মেয়াদ ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে নতুন হাইকমিশনারের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। ত্রিবেদীর ব্যক্তিগত পরিচিতি ও আঞ্চলিক অভিজ্ঞতা এই দায়িত্বে তাঁকে আলাদা জায়গা দিচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গের (West Bengal) সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ সংযোগ রয়েছে। বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির প্রতি তাঁর আগ্রহ সুপরিচিত। ফলে বাংলাদেশে কাজ করার ক্ষেত্রে এই সাংস্কৃতিক সেতুবন্ধন তাঁকে বাড়তি সুবিধা দিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তিনি নিজেও জানিয়েছেন, মানুষের সঙ্গে মানুষের যোগাযোগ বাড়ানোই সম্পর্ক উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি।

রেলমন্ত্রী থাকাকালীন সময়েও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে তিনি গুরুত্ব দিয়েছিলেন। সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে পরিবহণ, বাণিজ্য এবং অবকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রেও নতুন উদ্যোগ দেখা যেতে পারে। বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ ১৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি। এই বাণিজ্য আরও বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। বাংলাদেশের বিদেশ মন্ত্রক (Ministry of Foreign Affairs Bangladesh) -এর তরফেও তাঁর আগমনকে স্বাগত জানানো হয়েছে। সূত্রের খবর, ঢাকায় পৌঁছে খুব শীঘ্রই তিনি দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন এবং সরকারের বিভিন্ন স্তরের সঙ্গে বৈঠক শুরু করবেন। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নানা দিক নিয়ে আলোচনা এগোতে পারে বলে জানা যাচ্ছে।

এই সফরকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও আগ্রহ রয়েছে। কারণ, বর্তমান সময়ে দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতি দ্রুত বদলাচ্ছে। সেই প্রেক্ষাপটে ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক কতটা সুদৃঢ় থাকে, তা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। ত্রিবেদীর মতো অভিজ্ঞ নেতার উপস্থিতি সেই সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। বেনাপোল সীমান্তে তাঁর আগমন ছিল এক ধরনের প্রতীকী সূচনা। স্থলবন্দর দিয়ে প্রবেশ করা মানেই দুই দেশের মানুষের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগের প্রতীক। এই পথ দিয়েই প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ এবং পণ্য আদানপ্রদান হয়। সেই জায়গা থেকেই দায়িত্ব শুরু করায় বিষয়টি আলাদা তাৎপর্য পেয়েছে। আগামী দিনে তাঁর কূটনৈতিক পদক্ষেপ কী হয়, সেটাই এখন নজরে। রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, সাংস্কৃতিক বোঝাপড়া এবং প্রশাসনিক দক্ষতার মিশেলে দীনেশ ত্রিবেদীর এই দায়িত্ব পালন দুই দেশের সম্পর্কের ভবিষ্যৎকে কোন পথে নিয়ে যায়, তা সময়ই বলবে।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Virat Kohli IPL Final 2026, RCB Champion News | স্বপ্ন সত্যি হল বিরাটের : কোহলির ব্যাটেই আইপিএল চাম্পিয়ন বেঙ্গালুরু

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন