সাশ্রয় নিউজ স্পোর্টস ডেস্ক ★ দোহা: বিশ্ব ফুটবলের মঞ্চে খেলার থেকেও বেশি আলোচনায় উঠে এলেন একজন রেফারি। দক্ষিণ আফ্রিকা বনাম মেক্সিকো ম্যাচে একের পর এক কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়ে শিরোনামে উঠে এসেছেন ব্রাজিলের রেফারি উইল্টন সাম্পাইয়ো (Wilton Sampaio)। একটি ম্যাচে তিনটি লাল কার্ড দেখানোর নজির ঘিরে ইতিমধ্যেই সমর্থক থেকে বিশ্লেষক সব মহলে শুরু হয়েছে বিতর্ক। অনেকের মতে, তাঁর কঠোর মনোভাব ম্যাচের স্বাভাবিক ছন্দে প্রভাব ফেলেছে, আবার কেউ কেউ তাঁর সিদ্ধান্তকে নিয়ম মেনে নেওয়া বলেও দাবি করছেন।
৪৪ বছর বয়সী সাম্পাইয়ো আন্তর্জাতিক ফুটবলে নতুন মুখ নন। দীর্ঘ এক দশকের বেশি সময় ধরে তিনি ফিফা (FIFA) অনুমোদিত রেফারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ২০০৯ সালে ব্রাজিলের শীর্ষ লিগে ম্যাচ পরিচালনা শুরু করার পর ২০১৩ সালে ফিফার ব্যাজ পান তিনি। এরপর থেকে কোপা আমেরিকা (Copa America) সহ একাধিক বড় টুর্নামেন্টে দায়িত্ব সামলেছেন। আগের দু’টি বিশ্বকাপেও ম্যাচ পরিচালনার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। কাতার বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড (England) বনাম ফ্রান্স (France) কোয়ার্টার ফাইনালে তাঁর সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল। এই ম্যাচে প্রথম বিতর্কিত মুহূর্ত আসে ৬৫ মিনিটে। দক্ষিণ আফ্রিকার ব্রায়ান গুতিয়েরেজ় (Brian Gutierrez) গোলের সামনে পৌঁছে গিয়েছিলেন। ঠিক সেই সময় পিছন থেকে তাঁকে ফাউল করেন ইয়াইয়া সিথোলে (Yaya Sithole)। সাম্পাইয়ো সরাসরি লাল কার্ড দেখান সিথোলে-কে। অনেকের মতে, এটি সঠিক সিদ্ধান্ত হলেও পেনাল্টির বদলে বক্সের বাইরে ফ্রিকিক দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে কিছু প্রশ্ন ওঠে। এরপর ম্যাচের শেষভাগে উত্তেজনা আরও বাড়ে। ৮৫ মিনিটে একটি ক্লিয়ারেন্সের সময় এনজ়োয়ানে (Nzowané) প্রতিপক্ষ আরভারাল্দোকে (Arvaraldo) ধাক্কা দেন। প্রথমে রেফারি কোনও ব্যবস্থা নেননি। কিন্তু ভার (VAR)-এর হস্তক্ষেপে তিনি মাঠের বাইরে গিয়ে রিপ্লে দেখেন। এরপরই সিদ্ধান্ত বদলে এনজ়োয়ানে-কে লাল কার্ড দেখান। ফলে দক্ষিণ আফ্রিকা ন’জন খেলোয়াড় নিয়ে মাঠে লড়াই চালাতে বাধ্য হয়।
ম্যাচের শেষদিকে আরও একটি লাল কার্ড দেখানো হয় মেক্সিকোর সিজ়ার মন্তেস (Cesar Montes)-কে। তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার মুদাউ (Mudau)-কে ফেলে দেন, যিনি গোলের সুযোগ তৈরি করতে পারতেন। সাম্পাইয়ো এটিকে গোলের সম্ভাবনা নষ্ট করার ঘটনা হিসেবে ধরে সরাসরি লাল কার্ড দেখান। তবে এই সিদ্ধান্ত নিয়েও মতভেদ রয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, এই পরিস্থিতিতে হলুদ কার্ড দিলেও চলত। একটি ম্যাচে তিনটি লাল কার্ড দেখানোর ঘটনা বিশ্বকাপে বিরল। ২০০৬ সালে পর্তুগাল (Portugal) বনাম নেদারল্যান্ডস (Netherlands) ম্যাচের পর এমন দৃশ্য আর দেখা যায়নি। ফলে এই ম্যাচটি শুধু ফলাফলের জন্য নয়, রেফারিং নিয়েও ইতিহাসে জায়গা করে নিল।
সাম্পাইয়োর রেফারিং স্টাইল বরাবরই কঠোর বলে পরিচিত। ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে রাখতে তিনি কার্ড ব্যবহারে দ্বিধা করেন না। এর আগে বহু ম্যাচেই তাঁর বিরুদ্ধে ‘অতিরিক্ত কার্ড’ দেখানোর অভিযোগ উঠেছে। ফলে এই ম্যাচে তাঁর সিদ্ধান্তগুলি অনেকের কাছে অপ্রত্যাশিত নয়। সমাজমাধ্যমে এই ম্যাচের পর থেকেই সাম্পাইয়োকে নিয়ে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। কেউ তাঁকে ‘ম্যাচের আসল নায়ক’ বলে ব্যঙ্গ করেছেন, আবার কেউ ‘খলনায়ক’ তকমা দিয়েছেন। তাঁর কঠোর মুখভঙ্গি ও মাঠে উপস্থিতি নিয়েও তৈরি হয়েছে অসংখ্য মিম। কিছু সমর্থক মজা করে লিখেছেন, ‘আজকের ম্যাচে খেলোয়াড়দের থেকেও বেশি প্রভাব ছিল রেফারির।’ ১৯৮১ সালে ব্রাজিলের টেরেসিনা ডি গোয়াস-এ (Teresina de Goias, Brazil) জন্মগ্রহণ করেন সাম্পাইয়ো। দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা থাকলেও বিতর্ক যেন তাঁর পিছু ছাড়ে না। বড় ম্যাচে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে তিনি কখনও পিছিয়ে যান না, কিন্তু সেই সিদ্ধান্তই অনেক সময় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে।
বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে রেফারির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। খেলার গতি বজায় রাখা এবং সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার মধ্যে ভারসাম্য রাখা সহজ নয়। সাম্পাইয়োর এই ম্যাচ সেই কঠিন বাস্তবকেই সামনে এনে দিল। আগামী ম্যাচগুলিতেও তাঁর দিকে নজর থাকবে। তিনি আবার মাঠে নামলে সমর্থকরা তাঁর প্রতিটি সিদ্ধান্ত খুঁটিয়ে দেখবেন, তা বলাই যায়। বিশ্বকাপের শুরুতেই এমন বিতর্ক তৈরি হওয়ায় ফুটবলপ্রেমীদের আগ্রহ আরও বেড়েছে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Virat Kohli Injury, Kohli Out Afghanistan Series | হ্যামস্ট্রিং চোটে ধাক্কা! আফগানিস্তান সিরিজে নেই বিরাট কোহলি, চিন্তায় ভারতীয় শিবির




