সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি: দেশের কারিগরি শিক্ষার কাঠামোকে আরও আধুনিক ও কর্মসংস্থানমুখী করতে বড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে কেন্দ্রীয় সরকার। স্কিল ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড এন্টারপ্রেনারশিপ মন্ত্রক ১২ জুন ২০২৬ তারিখে ‘সার্থি’ (SARTHI বা Strategic Advisory and Reforms Taskforce for Holistic ITI Transformation) -এর প্রথম বৈঠক আয়োজন করতে চলেছে। দিল্লির বিজ্ঞান ভবনে (Vigyan Bhavan) অনুষ্ঠিত হতে চলা এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে দেশের আইটিআই (Industrial Training Institutes বা ITIs) ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। এই বৈঠকের সভাপতিত্ব করবেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী জয়ন্ত চৌধুরী (Jayant Chaudhary), তিনি স্কিল ডেভেলপমেন্ট ও উদ্যোক্তা বিষয়ক মন্ত্রকের স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী এবং শিক্ষা মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। এই বৈঠকে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের উচ্চপদস্থ আধিকারিক, শিল্পক্ষেত্রের প্রতিনিধিরা, নিয়ন্ত্রক সংস্থা এবং স্কিলিং ইকোসিস্টেমের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন অংশগ্রহণকারী উপস্থিত থাকবেন।
‘সার্থি’ উদ্যোগটি মূলত একটি উচ্চস্তরের পরামর্শদাতা কাঠামো, যা ক্র্যাফ্টসম্যান ট্রেনিং স্কিম (Craftsmen Training Scheme বা CTS) -এর অধীনে গড়ে তোলা হয়েছে। এর লক্ষ্য হল কারিগরি শিক্ষার ক্ষেত্রে নীতি নির্ধারণ, সমন্বয় এবং বাস্তবায়নের জন্য একটি সুসংগঠিত প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা। বর্তমান সময়ের শিল্পক্ষেত্রের চাহিদা অনুযায়ী আইটিআই প্রশিক্ষণকে সাজিয়ে তোলাই এই উদ্যোগের প্রধান উদ্দেশ্য। ভারতে বর্তমানে ১৩,৮৮৮টি আইটিআই সক্রিয় রয়েছে, যার মধ্যে ৩,৩২৬টি সরকারি এবং ১০,৫৬২টি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানগুলিতে ১৬৯টি এনএসকিউএফ (National Skills Qualifications Framework বা NSQF) অনুমোদিত ট্রেডে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এত বৃহৎ পরিকাঠামোর মধ্যে মান বজায় রাখা এবং আধুনিক প্রয়োজনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। ‘সার্থি’ সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য দীর্ঘস্থায়ী কৌশল নির্ধারণে সাহায্য করবে।
এই প্রথম বৈঠকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। ক্র্যাফ্টসম্যান ট্রেনিং স্কিমের বর্তমান অবস্থা, ন্যাশনাল আইটিআই গ্রেডিং ফ্রেমওয়ার্ক (National ITI Grading Framework) -এর বাস্তবায়ন, সর্বভারতীয় আইটিআই স্কিল প্রতিযোগিতা আয়োজনের প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ এই সব বিষয় আলোচনার তালিকায় রয়েছে। পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর মূল্যায়ন পদ্ধতি চালু করা, প্রশিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধি, মহিলাদের অংশগ্রহণ বাড়ানো এবং শিল্পের সঙ্গে সংযোগ জোরদার করার দিকেও গুরুত্ব দেওয়া হবে। সরকারি সূত্রে খবর, ‘সার্থি’-র মাধ্যমে কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে আরও কার্যকর সমন্বয় গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে শিল্পক্ষেত্রের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং নীতি নির্ধারণে বাস্তব অভিজ্ঞতার প্রতিফলন ঘটানোও এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য। এই বৈঠকে বিভিন্ন রাজ্যের প্রতিনিধিরা তাঁদের অভিজ্ঞতা এবং বাস্তব সমস্যার কথা তুলে ধরবেন। এর মাধ্যমে আইটিআই ব্যবস্থার মানোন্নয়ন এবং প্রশিক্ষণের ফলাফল আরও কার্যকর করার পথ খোঁজা হবে। প্রশিক্ষণ শেষ করে শিক্ষার্থীরা যাতে সহজে কর্মসংস্থানের সুযোগ পান, সেই লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ এগোচ্ছে।
বর্তমান সময়ে দেশের অর্থনীতিতে দক্ষ কর্মীর চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। শিল্পক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহার যেমন বাড়ছে, তেমনই দক্ষতার ধরনেও পরিবর্তন আসছে। এই পরিস্থিতিতে আইটিআই-গুলিকে আরও আধুনিক ও সময়োপযোগী করে তোলা জরুরি হয়ে উঠেছে। ‘সার্থি’ সেই পরিবর্তনের পথপ্রদর্শক হিসেবে কাজ করতে পারে। জয়ন্ত চৌধুরী (Jayant Chaudhary) জানিয়েছেন, ‘দেশের যুবসমাজকে ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করতে হলে কারিগরি শিক্ষার মান উন্নয়ন অত্যন্ত প্রয়োজন।’ তিনি আরও বলেন, ‘এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বিভিন্ন অংশীদারের মতামত একত্রিত করে একটি শক্তিশালী এবং কার্যকর প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হবে।’ এই উদ্যোগের মাধ্যমে পাঠ্যক্রম, মূল্যায়ন পদ্ধতি, প্রশাসনিক কাঠামো এবং শিল্প সংযোগ সব ক্ষেত্রেই সংস্কারের দিশা নির্ধারণ করা হবে। ফলে আইটিআই শিক্ষার্থীরা শুধু প্রশিক্ষণই নয়, বাস্তব কাজের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতাও অর্জন করতে পারবেন। প্রসঙ্গত যে, দেশের স্কিল ডেভেলপমেন্ট ইকোসিস্টেমকে আরও শক্তিশালী করতে ‘সার্থি’ একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উঠে আসছে। এটি ভবিষ্যতে দেশের কর্মসংস্থান ও শিল্পোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : West Bengal opposition leader Ritabrata Banerjee | বিধানসভায় পালাবদল: বিদ্রোহীদের সমর্থনে বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত



