সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি: দ্রুত নগরায়ণের যুগে শহর গড়ার নতুন দিশা খুঁজতে ভারতের নেতৃত্বে শুরু হল ব্রিকস আরবানাইজেশন ফোরাম (BRICS Urbanisation Forum) -এর ১৩তম অধিবেশন। রাজধানী দিল্লিতে আয়োজিত এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে ব্রিকস দেশগুলির মন্ত্রীরা একত্রিত হয়ে ভবিষ্যতের শহর পরিকল্পনা, পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং টেকসই নগর গঠনের নানা দিক নিয়ে আলোচনা করছেন। এই বৈঠককে ঘিরে আন্তর্জাতিক স্তরে আগ্রহ তৈরি হয়েছে, কারণ এখানে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলি আগামী দিনের নগর উন্নয়নের পথে প্রভাব ফেলতে পারে।
এই ফোরামে অংশগ্রহণকারী দেশগুলির প্রতিনিধিরা শহরকে আরও বাসযোগ্য, সুরক্ষিত এবং পরিবেশবান্ধব করে তোলার লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করেন। মূল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন এবং স্থিতিশীল নগর কাঠামো গড়ে তোলা। শহরের বৃদ্ধি যাতে সব শ্রেণির মানুষের জন্য সমান সুযোগ তৈরি করে, সেই লক্ষ্যেই বিভিন্ন দিক নিয়ে মতবিনিময় হয়। বৈঠকে উঠে আসে নগর পরিকল্পনার আধুনিক পদ্ধতি, সাশ্রয়ী মূল্যের আবাসন প্রকল্প, পৌর পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং পরিবেশবান্ধব নির্মাণ প্রযুক্তির প্রসঙ্গ। প্রতিনিধিরা জানান, দ্রুত শহর বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে নতুন চ্যালেঞ্জও তৈরি হচ্ছে। তাই সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় উন্নত প্রযুক্তি এবং নীতি নির্ধারণে সমন্বয় জরুরি।
এই সম্মেলনে বিভিন্ন দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়। ইরান (Iran) ও রাশিয়া (Russia), ইরান ও চিন (China), এবং রাশিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহি (United Arab Emirates)-এর প্রতিনিধিদের মধ্যে পৃথক আলোচনা হয়। এই বৈঠকগুলিতে পারস্পরিক স্বার্থে নগর উন্নয়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মতবিনিময় করা হয়। এতে করে ভবিষ্যতে যৌথ উদ্যোগের সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে। শহর উন্নয়নের ক্ষেত্রে শুধু পরিকল্পনা নয়, বাস্তব প্রয়োগের দিকেও জোর দেওয়া হয়েছে এই ফোরামে। সেই লক্ষ্যেই প্রতিনিধিদের জন্য বিশেষ পরিদর্শনের আয়োজন করা হয়। তাঁরা দিল্লি ও আশেপাশের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নগর উন্নয়ন প্রকল্প ঘুরে দেখেন। এর মধ্যে ছিল নতুন সংসদ ভবন কমপ্লেক্স (New Parliament Complex) এবং ইন্ডিয়া গেট, কর্তব্য পথ (India Gate, Kartavya Path) এলাকা। এই পরিদর্শনের মাধ্যমে বিদেশি প্রতিনিধিরা ভারতের সাম্প্রতিক নগর উন্নয়ন প্রকল্পগুলি কাছ থেকে দেখার সুযোগ পান। বিশেষ করে রাজধানীর আধুনিকীকরণ এবং ঐতিহ্যের সংরক্ষণ, এই দুইয়ের সমন্বয় কীভাবে করা হচ্ছে, তা তাঁদের সামনে তুলে ধরা হয়। এতে করে ভারতীয় মডেল সম্পর্কে আন্তর্জাতিক স্তরে আগ্রহ বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
ফোরামের আলোচনায় দক্ষতা বৃদ্ধি এবং প্রশাসনিক সক্ষমতা গঠনের দিকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতা ও পদ্ধতি একে অপরের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার মাধ্যমে উন্নত পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথ আরও সহজ হতে পারে বলে অংশগ্রহণকারীরা মত দেন। ব্রিকস দেশগুলির মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর ক্ষেত্রেও এই ফোরাম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। নগরায়ণের সঙ্গে যুক্ত সমস্যাগুলি যেমন যানজট, দূষণ, আবাসনের অভাব এবং পরিকাঠামোর চাপ, এই সব বিষয়ে একসঙ্গে কাজ করার প্রয়োজনীয়তা উঠে এসেছে আলোচনায়। পাশাপাশি প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে স্মার্ট সিটি গড়ার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
দিনভর বৈঠক ও আলোচনা শেষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং নেটওয়ার্কিং ডিনারের আয়োজন করা হয়। সেখানে অংশগ্রহণকারী প্রতিনিধিরা একে অপরের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে মতবিনিময়ের সুযোগ পান। এই ধরনের আয়োজন ভবিষ্যতে যৌথ প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে। ভারতের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত এই ফোরাম দেশের নগর উন্নয়ন নীতিকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে তুলে ধরার একটি বড় সুযোগ এনে দিয়েছে। একই সঙ্গে অন্য দেশগুলির অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতের পরিকল্পনা আরও শক্তিশালী করার পথও খুলে দিয়েছে।
বর্তমান সময়ে যখন বিশ্বজুড়ে শহরগুলির উপর চাপ ক্রমশ বাড়ছে, তখন এই ধরনের আন্তর্জাতিক ফোরামের গুরুত্ব অনেকটাই বেড়েছে। নগর উন্নয়নকে শুধু পরিকাঠামোর মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে মানবিক, পরিবেশগত এবং প্রযুক্তিগত দিকগুলিকেও সমান গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা উঠে এসেছে এই সম্মেলনে। দিল্লিতে শুরু হওয়া এই ব্রিকস আরবানাইজেশন ফোরাম ভবিষ্যতের শহর গঠনের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। এখানে হওয়া আলোচনা এবং সিদ্ধান্তগুলি আগামী দিনে বিভিন্ন দেশের নগর উন্নয়ন নীতিতে প্রতিফলিত হতে পারে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : BRICS Summit Delhi, Vladimir Putin India Visit 2026 | দিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলন, দু’দিনের সফরে আসছেন ভ্লাদিমির পুতিন! বৈশ্বিক রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত




