সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি : ফুটবল বিশ্বকাপ ঘিরে বিশ্বজুড়ে উত্তেজনা তুঙ্গে। বহু বছর পর আবার বিশ্বকাপের অন্যতম আয়োজক দেশ হিসেবে সামনে এসেছে মেক্সিকো (Mexico)। সেই বড় মঞ্চকে ঘিরে প্রস্তুতিতে কোনও ফাঁক রাখতে চাইছে না প্রশাসন। তাই রাজধানী মেক্সিকো সিটিতে (Mexico City) নজিরবিহীন নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা কার্যকর করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ক্লদিয়া শিনবাউম (Claudia Sheinbaum) কড়া নির্দেশ জারি করে জানিয়েছেন, আপাতত সরকারি কর্মীদের অফিসে না গিয়ে বাড়ি থেকে কাজ করতে হবে। পাশাপাশি বন্ধ রাখা হয়েছে সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ ঘিরে যে বিপুল সংখ্যক দর্শক ও সমর্থক মেক্সিকোয় ভিড় করবেন, তা মাথায় রেখেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের লক্ষ্য একটাই, শহরের রাস্তাঘাটে যানজট কম রাখা এবং নিরাপত্তা বজায় রাখা। বিশ্বকাপের মতো আন্তর্জাতিক আসরে যাতে কোনও ধরনের বিশৃঙ্খলা না ঘটে, সে দিকেই বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে।
আরও পড়ুন : Cristiano Ronaldo : রোনাল্ডোর ৯০০ গোল, সম্মান জানাল আল নাসের
সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী, মেক্সিকো সিটিতে থাকা বিভিন্ন দফতরের কর্মীদের আপাতত ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’-এ থাকতে বলা হয়েছে। তবে জরুরি পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত বিভাগ যেমন স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও পরিকাঠামো এই নির্দেশের বাইরে রাখা হয়েছে। অর্থাৎ, এই ক্ষেত্রগুলিতে কর্মীরা নিয়মমাফিক কাজ চালিয়ে যাবেন। শুধু সরকারি ক্ষেত্র তা-ই নয়, বেসরকারি সংস্থাগুলিকেও একই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে প্রশাসন। সংস্থাগুলিকে বলা হয়েছে, সম্ভব হলে কর্মীদের বাড়ি থেকে কাজের সুযোগ করে দিতে। এর ফলে শহরের যানবাহনের চাপ অনেকটাই কমবে বলে মনে করা হচ্ছে। অন্যদিকে, শিক্ষা ক্ষেত্রেও বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রাক-প্রাথমিক থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় সব স্তরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আপাতত বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যদিও অনলাইন ক্লাস চালু করা হবে কি না, সে বিষয়ে এখনও কোনও নির্দিষ্ট ঘোষণা করা হয়নি। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা এবং শহরের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতেই এই পদক্ষেপ বলে জানা যাচ্ছে। বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে মেক্সিকোর ঐতিহ্যবাহী অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামে (Azteca Stadium)। এই স্টেডিয়াম ইতিহাসের সাক্ষী। এর আগে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ এখানে হয়েছে। সেই মঞ্চে আবার বিশ্বকাপের সূচনা হওয়ায় প্রস্তুতি আরও জোরদার করা হয়েছে।
এবারের বিশ্বকাপ নানা দিক থেকে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। প্রথমত, এটি হতে চলেছে সবচেয়ে বড় বিশ্বকাপ, যেখানে ৪৮টি দেশ অংশ নিচ্ছে। মোট ১২৪৮ জন ফুটবলার এই প্রতিযোগিতায় খেলবেন। ফলে দর্শক সংখ্যা ও সমর্থকদের উপস্থিতিও আগের তুলনায় অনেক বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই বিপুল জনসমাগম সামলাতে প্রশাসনের তরফে আগে থেকেই সতর্কতা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মেক্সিকো সিটির রাস্তায় ইতিমধ্যেই নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি বাড়ানো হয়েছে। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়, স্টেডিয়ামের আশপাশ এবং পর্যটনকেন্দ্রগুলিতে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাও নতুন করে সাজানো হয়েছে, যাতে যাতায়াত নির্বিঘ্ন থাকে। বিশ্বকাপ উপলক্ষ্যে বিভিন্ন দেশ থেকে সমর্থকেরা মেক্সিকোয় আসবেন। তাঁদের জন্য পরিবহণ, নিরাপত্তা এবং অন্যান্য পরিষেবা যাতে নির্বিঘ্ন থাকে, সে দিকেও প্রশাসন নজর রাখছে। হোটেল, পরিবহণ সংস্থা এবং অন্যান্য পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলির সঙ্গেও সমন্বয় করা হচ্ছে।
এই ধরনের পদক্ষেপ সাধারণত বড় আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রেই দেখা যায়, তবে এত বড় পরিসরে শহরজুড়ে ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ এবং স্কুল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত বেশ নজর কেড়েছে। প্রশাসনের মতে, এই ব্যবস্থা সাময়িক হলেও এর ফলে সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হবে। বিশ্বকাপ শুধু একটি ক্রীড়া প্রতিযোগিতা নয়, বরং আন্তর্জাতিক স্তরে একটি বড় উৎসব। সেই উৎসবকে নির্বিঘ্ন করতে মেক্সিকো প্রশাসনের এই উদ্যোগ ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। সমর্থকদের কাছে এই আয়োজন আরও উপভোগ্য করে তুলতে নিরাপত্তা ও সুবিধার দিকে জোর দেওয়া হচ্ছে। শহরের নাগরিকদেরও সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে এই বড় আয়োজন সফলভাবে সম্পন্ন করা যায়। আগামী কয়েক দিন মেক্সিকো সিটি বিশ্ব ফুটবলের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠবে। সেই প্রস্তুতিতেই এখন ব্যস্ত প্রশাসন। বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচের দিকে তাকিয়ে রয়েছে গোটা বিশ্ব, আর সেই ম্যাচকে ঘিরে মেক্সিকো সিটির এই কড়াকড়ি এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Messi seven word message, Argentina match Messi goal | ‘এগিয়ে চলো, আরও কাছে যেতে হবে’! মেসির সাত শব্দে বার্তায় বিশ্বকাপ জয়ের ইঙ্গিত, মাঠে নেমেই গোল করে ছন্দে আর্জেন্টিনা



