Meenakshi Natarajan nomination rejected, MP Rajya Sabha election | মীনাক্ষীর মনোনয়ন বাতিল ঘিরে তোলপাড়, কমিশনের দ্বারস্থ কংগ্রেস নেতৃত্ব

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি : মধ্যপ্রদেশ রাজ্যসভা নির্বাচন ঘিরে নতুন রাজনৈতিক সংঘাত তৈরি হল মীনাক্ষী নটরাজন (Meenakshi Natarajan) -এর মনোনয়ন বাতিলকে কেন্দ্র করে। হলফনামায় ফৌজদারি মামলা গোপনের অভিযোগ তুলে রিটার্নিং অফিসার তাঁর প্রার্থিতা খারিজ করেছেন। কিন্তু কংগ্রেস (Indian National Congress) এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে সরাসরি নির্বাচন কমিশনের (Election Commission of India) দ্বারস্থ হয়েছে। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের দাবি, ‘মীনাক্ষীর বিরুদ্ধে কোনও কার্যকর ফৌজদারি মামলা নেই’, তাই তাঁর মনোনয়ন বাতিল ‘আইনসঙ্গত নয়’। বুধবার দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক করেন কংগ্রেসের প্রতিনিধিদল। সেই দলে ছিলেন এআইসিসির সাধারণ সম্পাদক কেসি বেণুগোপাল (K. C. Venugopal) এবং প্রবীণ আইনজীবী তথা সাংসদ অভিষেক মনু সিঙ্ঘভি (Abhishek Manu Singhvi)। বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সিঙ্ঘভি বলেন, ‘যে যুক্তিতে মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে, সেটি বাস্তবের সঙ্গে মেলে না। মীনাক্ষীর বিরুদ্ধে এমন কোনও বিচারাধীন ফৌজদারি মামলা নেই, যা তাঁকে হলফনামায় উল্লেখ করতে হত।’ তিনি আরও বলেন, ‘এই সিদ্ধান্ত আইনগতভাবে টেকসই নয় এবং তা পুনর্বিবেচনার দাবি রাখে।’

আরও পড়ুন : Murshidabad : নওদা থানার পুলিশের জালে বাইক চোর, উদ্ধার পাঁচটি বাইক 

কংগ্রেসের তরফে আরও জানানো হয়েছে, কমিশন বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিলেও তাৎক্ষণিক কোনও সুরাহা মেলেনি। এর পরেই কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে দল। বেণুগোপাল বলেন, ‘আমাদের বলা হয়েছে বিষয়টি দেখা হবে, তবে এখনই কোনও সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।’ এই অবস্থায় রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে। ঘটনার সূত্রপাত একটি অভিযোগকে ঘিরে। বিজেপি (Bharatiya Janata Party) -এর তরফে দাবি করা হয়েছিল, ২০২৫ সালের ২০ অগস্ট শ্রীলতা নামে এক মহিলা হায়দরাবাদের একটি আদালতে মীনাক্ষী নটরাজন-সহ কয়েক জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। সেখানে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (Bharatiya Nyaya Sanhita) -এর একাধিক ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছিল। সেই ভিত্তিতেই রিটার্নিং অফিসার মনে করেন, প্রার্থী তাঁর হলফনামায় প্রয়োজনীয় তথ্য গোপন করেছেন। যদিও মীনাক্ষী নটরাজনের বক্তব্য ভিন্ন। তাঁর দাবি, আদালত থেকে নোটিস এলেও তাঁর বিরুদ্ধে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক ফৌজদারি মামলা রুজু হয়নি। তিনি জানিয়েছেন, ‘আমার বিরুদ্ধে কোনও প্রতিষ্ঠিত মামলা নেই। তাই কিছু গোপন করার প্রশ্নই ওঠে না।’ তাঁর আইনজীবীও পাল্টা হলফনামা দিয়ে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং বিষয়টিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উল্লেখ করেছেন।

রাজনৈতিক সমীকরণের দিক থেকেও এই ঘটনা গুরুত্বপূর্ণ। ২৩০ আসনের মধ্যপ্রদেশ বিধানসভায় বিজেপির ১৬৩ জন বিধায়ক রয়েছেন, অন্য দিকে কংগ্রেসের সংখ্যা ৬৬। আগামী ১৮ জুন তিনটি রাজ্যসভা আসনে ভোট হওয়ার কথা ছিল। হিসাব অনুযায়ী বিজেপির দুইটি এবং কংগ্রেসের একটি আসনে জয় প্রায় নিশ্চিত ছিল। কিন্তু বিজেপি তিনটি আসনেই প্রার্থী দেওয়ায় পরিস্থিতি বদলে যায়। কংগ্রেস আগেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছিল যে, তাদের কিছু বিধায়ককে প্রভাবিত করে ভোটের সমীকরণ বদলানোর চেষ্টা হতে পারে। সেই কারণেই দল নিজেদের বিধায়কদের কর্নাটকে (Karnataka) সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিল। চার্টার্ড বিমানে করে তাঁদের নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। সেই দলে ছিলেন মীনাক্ষী নটরাজনও। কিন্তু মনোনয়ন বাতিলের খবর আসার পর তাঁদের ফিরিয়ে আনা হয়।

বর্তমান পরিস্থিতিতে বিজেপির তিন প্রার্থী তরুণ চুঘ (Tarun Chugh), রজনীশ অগ্রবাল (Rajnish Agrawal) এবং মহেশ কেওয়াট (Mahesh Kewat) -এর জয় অনেকটাই নিশ্চিত হয়ে গিয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে। ফলে এই মনোনয়ন বাতিলের প্রভাব সরাসরি নির্বাচনের ফলাফলে পড়তে পারে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে জাতীয় রাজনীতিতেও প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব মনে করছে, প্রক্রিয়াগত দিক থেকে প্রার্থিতার ক্ষেত্রে যে নিয়ম রয়েছে, তা সঠিকভাবে প্রয়োগ করা হয়নি। অন্য দিকে বিজেপি দাবি করছে, আইনি নিয়ম মেনেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মীনাক্ষী নটরাজনের রাজনৈতিক জীবনও এই প্রসঙ্গে আলোচনায় এসেছে। কংগ্রেসের তরুণ মুখ হিসেবে তিনি দীর্ঘদিন ধরে সংগঠনে সক্রিয়। তাঁর প্রার্থীপদ বাতিল হওয়া দলের জন্য একটি বড় ধাক্কা বলেই ধরা হচ্ছে। একই সঙ্গে এই সিদ্ধান্তের আইনি দিক নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, সেটাও এখন গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনের সামনে এখন মূল প্রশ্ন, অভিযোগের ভিত্তি কতটা দৃঢ় এবং প্রার্থীর হলফনামা কতটা সঠিক ছিল। কমিশন যদি পুনর্বিবেচনার পথে হাঁটে, তবে পরিস্থিতি বদলাতে পারে। অন্য দিকে, সিদ্ধান্ত বহাল থাকলে রাজ্যসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রায় নির্ধারিত হয়ে যাবে। দিল্লির এই আইনি ও রাজনৈতিক লড়াই এখন জাতীয় স্তরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। মীনাক্ষী নটরাজনের প্রার্থিতা ঘিরে তৈরি হওয়া এই বিতর্ক আগামী দিনে আরও কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই এখন দেখার। নির্বাচনের আগে এই ঘটনাপ্রবাহ যে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়িয়েছে, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Aadhaar Card Update Rules: আধারে ঠিকানা-মোবাইল কতবার বদলানো যায়? UIDAI-র নিয়ম জানলে এড়াবেন ঝামেলা

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন