সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ বীড় : মহারাষ্ট্রের বীড় (Beed) জেলায় ভয়াবহ নৌকাডুবির ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বুধবার দুপুরে মাজলগাঁও (Majalgaon) এলাকায় নদী পারাপারের সময় প্রায় ৩৫ জন যাত্রী নিয়ে একটি নৌকা আচমকাই উল্টে যায়। দুর্ঘটনায় অন্তত এক মহিলার মৃত্যু হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, পাশাপাশি কয়েক জন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। উদ্ধারকাজ জোরদার করা হয়েছে, তবে সঠিকভাবে কত জনের খোঁজ মিলছে না তা নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা রয়েছে। স্থানীয় সূত্রে খবর, নৌকাটির নির্ধারিত ধারণক্ষমতার তুলনায় অনেক বেশি যাত্রী তোলা হয়েছিল। সেই কারণেই নদীর মাঝপথে ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে নৌকাটি। ঘাট ছাড়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই সেটি একদিকে কাত হয়ে যায় এবং তারপর দ্রুত উল্টে যায়। নদীর স্রোত প্রবল থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।
দুর্ঘটনার সময় নদীর ধারে উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুরু থেকেই মাঝিকে সতর্ক করা হয়েছিল যাতে অতিরিক্ত যাত্রী না তোলা হয়। কিন্তু সেই সতর্কবার্তা উপেক্ষা করেই প্রায় ৩০ জনের বেশি যাত্রী নিয়ে নৌকাটি যাত্রা শুরু করে। এক প্রত্যক্ষদর্শীর কথায়, ‘বারবার বলা হয়েছিল, এত লোক তুলবেন না। কিন্তু কেউ শোনেনি। মাঝনদীতে গিয়ে হঠাৎ নৌকাটা কাত হয়ে যায়।’ ঘটনার পরপরই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। নৌকা উল্টে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যাত্রীরা প্রাণ বাঁচাতে চিৎকার করতে থাকেন। কেউ কেউ সাঁতার কেটে পাড়ে উঠতে সক্ষম হন, আবার অনেকেই স্রোতের টানে ভেসে যান। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত উদ্ধারকাজে ঝাঁপিয়ে পড়েন এবং বহু মানুষকে নিরাপদে তোলেন। তাঁদের তৎপরতায় বেশ কয়েক জনের প্রাণ রক্ষা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
প্রশাসনের তরফে খবর পেয়ে পুলিশ ও বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। উদ্ধার অভিযান শুরু হয় যুদ্ধকালীন তৎপরতায়। নদীতে তল্লাশি চালানো হচ্ছে, নিখোঁজদের খোঁজে ডুবুরিদের নামানো হয়েছে। একই সঙ্গে আশপাশের ঘাট ও নদীতীর এলাকাতেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। এই দুর্ঘটনায় এক মহিলার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। তাঁর পরিচয় এখনও প্রকাশ করা হয়নি। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে কয়েক জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে।
প্রশাসনিক স্তরে ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। কী ভাবে এত বেশি যাত্রী নিয়ে নৌকা চলাচল করছিল, সেই প্রশ্ন উঠছে। নিরাপত্তা বিধি মানা হয়েছিল কি না, মাঝির বিরুদ্ধে কোনও অবহেলার অভিযোগ রয়েছে কি না, সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিক ভাবে মনে করা হচ্ছে, অতিরিক্ত যাত্রী এবং নদীর প্রবল স্রোত, এই দুইয়ের মিলিত প্রভাবেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য, ওই এলাকায় প্রায়ই নৌকা দিয়ে নদী পারাপার করা হয় এবং অনেক সময়ই নির্ধারিত সংখ্যার বেশি যাত্রী তোলা হয়। ফলে নিরাপত্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ ছিল। এই ঘটনার পর সেই বিষয়টি আবার সামনে এল। এই দুর্ঘটনা শুধু একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা নয়, বরং নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রশ্নও তুলে দিয়েছে। নিয়ম না মেনে যাত্রী পরিবহণ কতটা বিপজ্জনক হতে পারে, তারই মর্মান্তিক উদাহরণ এই নৌকাডুবি। প্রশাসন ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়াতে কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
এদিকে নিখোঁজদের পরিবার উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছেন। উদ্ধার অভিযান যত এগোচ্ছে, ততই উৎকণ্ঠা বাড়ছে। নদীর স্রোত কমলে তল্লাশি আরও দ্রুত করা সম্ভব হবে বলে জানানো হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে এবং উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছে। বুধবারের এই দুর্ঘটনা মহারাষ্ট্রের বীড় জেলায় গভীর শোকের পরিবেশ তৈরি করেছে। এক মুহূর্তে আনন্দমুখর যাত্রা পরিণত হল বিপর্যয়ে। এখন নজর উদ্ধারকাজের দিকে, নিখোঁজদের খোঁজ কবে মেলে, সেটাই দেখার।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Messi seven word message, Argentina match Messi goal | ‘এগিয়ে চলো, আরও কাছে যেতে হবে’! মেসির সাত শব্দে বার্তায় বিশ্বকাপ জয়ের ইঙ্গিত, মাঠে নেমেই গোল করে ছন্দে আর্জেন্টিনা




