Mid Day Meal breakfast scheme | মিড ডে মিলেই বিপ্লব! দুপুরের খাবারের সঙ্গে এবার স্কুলে মিলবে ব্রেকফাস্ট, বড় ঘোষণা রেবন্ত রেড্ডির

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ হায়দরাবাদ : দেশের শিক্ষা ও পুষ্টি ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের পথে হাঁটল তেলঙ্গানা  সরকার। এতদিন পর্যন্ত মিড ডে মিল (Mid Day Meal) মানেই ছিল স্কুল পড়ুয়াদের জন্য দুপুরের খাবার। কিন্তু এবার সেই ধারণায় বড় রদবদল আনল রাজ্য সরকার। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মিড ডে মিল প্রকল্পের আওতায় এবার থেকে শুধু মধ্যাহ্নভোজন নয়, পড়ুয়াদের দেওয়া হবে প্রাতঃরাশও (Breakfast)। আগামী ১২ জুন, ২০২৬ থেকে এই নতুন ব্যবস্থা চালু হতে চলেছে, যা দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় এক নতুন দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘোষণা করেন তেলঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী রেবন্ত রেড্ডি (Revanth Reddy)। তিনি জানান, সরকারি স্কুল এবং সরকার-সহায়তাপ্রাপ্ত জুনিয়র কলেজগুলির পড়ুয়াদের জন্য এই প্রকল্প কার্যকর হবে। অর্থাৎ, এখন থেকে একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রছাত্রীরাও মিড ডে মিল সুবিধা পাবেন, যা আগে এই স্তরে চালু ছিল না। সরকারের হিসাব অনুযায়ী, এই সিদ্ধান্তে প্রায় দুই লক্ষ পড়ুয়া সরাসরি উপকৃত হবে।

আরও পড়ুন : Annapurna Yojana form guide | ১২ পাতার অন্নপূর্ণা ফর্মে দিশেহারা? কোথায় মিলবে সাহায্য জানাল প্রশাসন, কীভাবে সহজে আবেদন করবেন জেনে নিন

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘পড়ুয়াদের সার্বিক উন্নতির জন্য পুষ্টিকর খাবার অত্যন্ত জরুরি। তাই আমরা এমন একটি ব্যবস্থা চালু করছি, যেখানে তারা দিনের শুরুতেই পুষ্টিকর প্রাতঃরাশ পাবে এবং দুপুরে পাবে সুষম খাবার।’ তাঁর কথায়, শিক্ষার মানোন্নয়নের পাশাপাশি পড়ুয়াদের স্বাস্থ্যকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তেলঙ্গানার এই পদক্ষেপকে অনেকেই যুগান্তকারী বলে মনে করছেন, কারণ দেশের অন্য কোনও রাজ্যে এখনও পর্যন্ত মিড ডে মিলের সঙ্গে ব্রেকফাস্ট দেওয়ার ব্যবস্থা চালু হয়নি। প্রতিবেশী অন্ধ্র প্রদেশে (Andhra Pradesh) একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির পড়ুয়াদের মিড ডে মিল দেওয়া হলেও প্রাতঃরাশ অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। ফলে এই ক্ষেত্রে তেলঙ্গানা নতুন পথ দেখাল। সরকারি সূত্রের খবর, ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব নিউট্রিশন (National Institute of Nutrition) -এর সুপারিশ মেনেই এই পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পুষ্টিহীনতার সমস্যা দূর করা এবং আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা পরিবারের পড়ুয়াদের পর্যাপ্ত খাবার নিশ্চিত করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। এক আধিকারিকের কথায়, ‘অনেক পড়ুয়াই খালি পেটে স্কুলে আসে, যার ফলে পড়াশোনায় মনোযোগে প্রভাব পড়ে। এই পরিকল্পনা সেই সমস্যার সমাধানে সাহায্য করবে।’

শুধু পুষ্টি নয়, এই উদ্যোগ শিক্ষাক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। নিয়মিত প্রাতঃরাশ ও মধ্যাহ্নভোজন পেলে পড়ুয়াদের উপস্থিতি বাড়তে পারে এবং পড়াশোনায় আগ্রহও বৃদ্ধি পেতে পারে। বিশেষ করে গ্রামীণ ও নিম্ন আয়ের পরিবারের ছাত্রছাত্রীদের জন্য এই প্রকল্প অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। এই প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য রাজ্য সরকার আলাদা বাজেট বরাদ্দের কথাও জানিয়েছে। খাবারের মান বজায় রাখতে এবং সঠিকভাবে বিতরণ নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত নজরদারির ব্যবস্থাও রাখা হবে। স্কুল স্তরে রান্নার পরিকাঠামো উন্নত করার দিকেও নজর দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে শিক্ষা মহলে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। অনেকের মতে, পড়ুয়াদের পুষ্টির ঘাটতি পূরণে এই ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। একই সঙ্গে এটি দেশের অন্যান্য রাজ্যের কাছেও একটি উদাহরণ তৈরি করতে পারে। কিন্তু এই প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। বিপুল সংখ্যক পড়ুয়াকে প্রতিদিন দু’বার খাবার সরবরাহ করা সহজ কাজ নয়। খাদ্যদ্রব্যের গুণমান বজায় রাখা, সময়মতো সরবরাহ এবং পর্যাপ্ত পরিকাঠামো তৈরি—এই সমস্ত বিষয়গুলির দিকে নজর রাখা জরুরি। রাজ্য সরকার জানিয়েছে, এই সমস্ত বিষয় মাথায় রেখেই পরিকল্পনা করা হয়েছে।

তেলঙ্গানার এই সিদ্ধান্ত দেশের মিড ডে মিল প্রকল্পের ধারণাকেই একধাপ এগিয়ে নিয়ে গেল। দীর্ঘদিন ধরে এই প্রকল্প মূলত প্রাথমিক স্তরের পড়ুয়াদের জন্য সীমাবদ্ধ ছিল। এখন তা উচ্চ শ্রেণির পড়ুয়াদের অন্তর্ভুক্ত করে আরও বিস্তৃত করা হচ্ছে। এর সঙ্গে প্রাতঃরাশ যুক্ত হওয়ায় প্রকল্পটি আরও কার্যকর হয়ে উঠবে বলেই মনে করা হচ্ছে। শিক্ষা ও পুষ্টির সমন্বয়ে এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে আরও বড় পরিবর্তনের পথ খুলে দিতে পারে। অন্যান্য রাজ্যও এই মডেল অনুসরণ করবে কি না, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে। আপাতত ১২ জুন থেকে এই প্রকল্প চালুর দিকে তাকিয়ে রয়েছে রাজ্যের লক্ষ লক্ষ পড়ুয়া ও তাদের পরিবার।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : NFST Fellowship India | দেশজুড়ে তফসিলি জনজাতি গবেষকদের জন্য ফেলোশিপে স্থির ৭৫০ আসন, রাজ্যভিত্তিক তথ্য প্রকাশে সামনে এল নতুন চিত্র

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন