Lakshmir Bhandar controversy, West Bengal scheme fraud news | লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে ‘ভুয়ো’ ঝড়! ৩ বছর টাকা নেওয়ার অভিযোগে আটক রাকিবুল, সামনে এল একাধিক নামের ইঙ্গিত

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : রাজ্যের বহুল আলোচিত সামাজিক প্রকল্প লক্ষ্মীর ভাণ্ডার (Lakshmir Bhandar) ঘিরে নতুন করে বিতর্কের আগুন জ্বলে উঠেছে। অভিযোগ, প্রকল্পের সুবিধা যেখানে শুধুমাত্র মহিলাদের জন্য নির্ধারিত, সেখানে একাধিক ভুয়ো নাম ও অযোগ্য ব্যক্তির অ্যাকাউন্টে দীর্ঘদিন ধরে টাকা ঢুকছে। এই প্রেক্ষাপটে বহরমপুরের (Berhampore) বাসিন্দা রাকিবুল শেখকে (Rakibul Sheikh) আটক করা হয়েছে, যিনি নাকি গত তিন বছর ধরে এই প্রকল্পের টাকা পাচ্ছিলেন। ঘটনাটি সামনে আসতেই প্রশাসনিক স্তরে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।

আরও পড়ুন : Samik Bhattacharya : শমীক ভট্টাচার্যকে খোলা চিঠি

সম্প্রতি অন্নপূর্ণা যোজনার (Annapurna Yojana) ফর্ম প্রকাশ উপলক্ষ্যে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিরোধী নেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে বড়সড় অনিয়মের অভিযোগ তোলেন। তাঁর দাবি, ‘বর্তমানে প্রায় ২ কোটি ৯০ লক্ষ মানুষ এই প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন। কিন্তু অভিযোগের ভিত্তিতে দেখা যাচ্ছে, প্রায় ৩০ লক্ষ ভুয়ো নাম তালিকায় ঢুকে পড়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের কাছে একাধিক অভিযোগ এসেছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে প্রকৃত প্রাপকদের বাইরে অন্যরাও এই সুবিধা পাচ্ছেন।’ এই মন্তব্যের কিছুক্ষণের মধ্যেই সামনে আসে বহরমপুরের রাকিবুল শেখের নাম। অভিযোগ, তিনি কোনওদিন এই প্রকল্পে আবেদন না করলেও গত তিন বছর ধরে তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে নিয়মিত টাকা জমা পড়ছিল। বিষয়টি সামনে আসতেই তাঁকে আটক করা হয়। তদন্তকারীরা জানতে চাইছেন, কীভাবে একজন পুরুষ এই প্রকল্পের সুবিধা পেলেন এবং এর পেছনে কারা জড়িত।

আটকের পর রাকিবুল শেখ দাবি করেন, ‘আমি কোনওদিন লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের জন্য আবেদন করিনি। হঠাৎ একদিন ব্যাঙ্কে গিয়ে দেখি আমার অ্যাকাউন্টে টাকা জমা পড়ছে।’ তিনি জানান, প্রথমে বিষয়টি নিয়ে তিনি বিভ্রান্ত ছিলেন, পরে পরিচিতদের সঙ্গে আলোচনা করেন। তাঁর কথায়, ‘বন্ধুরা বলেছিল, যখন টাকা ঢুকছে তখন আর আলাদা করে কিছু বলার দরকার নেই।’ তবে এখানেই থেমে থাকেননি রাকিবুল। তিনি আরও বলেন, ‘আমি তো একা দুর্নীতি করিনি, আরও অনেকেই আছে যারা এইভাবে টাকা পাচ্ছে। তাদের দিকেও নজর দেওয়া উচিত।’ তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে, প্রকল্পের তালিকায় আর কতজন এইভাবে যুক্ত রয়েছেন। রাকিবুল আরও জানান, তিনি আবাস যোজনার (Awas Yojana) জন্য আবেদন করেছিলেন, কিন্তু লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের ক্ষেত্রে কোনও আবেদন করেননি। তাঁর কথায়, ‘আমি নিজের থেকে কোনওদিন এই প্রকল্পে নাম লেখাইনি। কীভাবে টাকা আসছিল, সেটা জানতাম না।’ যদিও প্রশাসনের তরফে তাঁর এই দাবি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

শুভেন্দু অধিকারী এই ঘটনার প্রসঙ্গে বলেন, ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার মূলত মহিলাদের জন্য চালু করা হয়েছিল। সেখানে একজন পুরুষ কীভাবে সুবিধা পাচ্ছেন, সেটাই বড় প্রশ্ন।’ তিনি আরও অভিযোগ করেন, ‘যথাযথ যাচাই না থাকার কারণেই এই ধরনের ঘটনা ঘটছে। আমরা যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ পেয়েছি, তাদের নাম একে একে সামনে আনা হবে।’
উল্লেখ্য, নবান্নর (Nabanna) তরফে ইতিমধ্যেই এই বিষয়টি নিয়ে নড়েচড়ে বসা হয়েছে। প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রকল্পের তালিকা পুনরায় যাচাই করার প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। বিশেষ করে যেসব অ্যাকাউন্টে সন্দেহজনকভাবে টাকা জমা পড়ছে, সেগুলিকে চিহ্নিত করা হবে। এই ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প রাজ্যের বহু পরিবারের আর্থিক সহায়তার অন্যতম ভরসা। সেখানে যদি ভুয়ো নাম ঢুকে পড়ে, তাহলে প্রকৃত প্রাপকেরা বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা থেকেই যায়।

রাজনৈতিক মহলেও এই ইস্যু নিয়ে চাপানউতোর শুরু হয়েছে। বিরোধীরা এই ঘটনাকে সামনে রেখে সরকারকে কাঠগড়ায় তুলছে, অন্যদিকে শাসক শিবিরের তরফে বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। তদন্ত এগোলে আরও নাম সামনে আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। রাকিবুল শেখের বক্তব্য ইতিমধ্যেই তদন্তের গতি বাড়িয়েছে। তিনি যেহেতু দাবি করেছেন যে আরও অনেকেই একইভাবে সুবিধা পাচ্ছেন, তাই গোটা চক্রের সন্ধান পাওয়া যেতে পারে বলে অনুমান। প্রসঙ্গত লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প চালু হওয়ার পর থেকেই এটি রাজ্যের অন্যতম জনপ্রিয় প্রকল্প হিসেবে পরিচিত। মহিলাদের আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক অভিযোগ সেই ভাবমূর্তিতে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। আগামী দিনে এই তদন্ত কোন দিকে মোড় নেয়, এবং প্রকল্পের তালিকায় কী ধরনের পরিবর্তন আনা হয়, সেদিকেই নজর থাকবে। আপাতত রাকিবুল শেখকে ঘিরে শুরু হওয়া এই বিতর্ক রাজ্যের প্রশাসন ও রাজনীতিতে নতুন আলোড়ন তৈরি করেছে।

ছবি: সংগৃহীত
আরও পড়ুন : PM Narendra Modi cabinet meeting 2026 | মন্ত্রিসভায় মোদীর তিন দিশা: জ্বালানি সঙ্কটের সতর্কবার্তা, দ্রুত প্রশাসন ও ‘বিকশিত ভারত ২০৪৭’ লক্ষ্য সামনে

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন