breast milk donation India, Jankee Parekh donation | ৯০ প্যাকেট স্তন্যদুগ্ধ দান করে নজির জানকী পারেখ, আবেগঘন অভিজ্ঞতায় ভাসলেন নকুল মেহতার স্ত্রী

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ মুম্বাই : মাতৃত্বের অনুভূতি অনেক সময় ব্যক্তিগত সীমা ছাপিয়ে সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতার এক অনন্য উদাহরণ হয়ে ওঠে। সেই ছবিই আরও একবার সামনে এল টেলিভিশন দুনিয়ার পরিচিত মুখ নকুল মেহতা -এর পরিবারে। তাঁর স্ত্রী জানকী পারেখ (Jankee Parekh) প্রায় ৯০ প্যাকেট স্তন্যদুগ্ধ দান করে আলোচনায় এলেন। সদ্যোজাত শিশুদের, বিশেষত এনআইসিইউ (NICU)-তে থাকা নবজাতকদের সাহায্যের জন্য এই উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি। কিছুদিন আগেই ভারতীয় ব্যাডমিন্টন তারকা জ্বালা গুট্টা (Jwala Gutta) প্রায় ৩০ লিটার স্তন্যদুগ্ধ দান করে প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় এবার জানকীর এই পদক্ষেপ নতুন করে এই বিষয়টিকে সামনে নিয়ে এল। সামাজিক মাধ্যমে তাঁর এই উদ্যোগ নিয়ে ইতিমধ্যেই ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।

আরও পড়ুন : Sonakshi Sinha Maldives Vacation | স্বপ্নের গন্তব্য মালদ্বীপে রোম্যান্টিক ছুটির মেজাজে সোনাক্ষী সিনহা ও জাহির ইকবাল

‘বড়ে অচ্ছে লগতে হ্যায়’ (Bade Achhe Lagte Hain) ধারাবাহিকের মাধ্যমে জনপ্রিয়তা পাওয়া নকুল মেহতা এবং জানকী পারেখের পরিবারে ২০২৫ সালে কন্যাসন্তান আসে। তাঁদের মেয়ের নাম রোমি (Romi)। বর্তমানে প্রায় ৯ মাস বয়স ছোট্ট রোমির। এই দীর্ঘ সময় ধরে নিয়মিতভাবে নিজের স্তন্যদুগ্ধ সংগ্রহ করে সংরক্ষণ করেছেন জানকী। পরে সেই সংরক্ষিত দুধই মিল্ক ব্যাঙ্কে দান করেন। নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানাতে গিয়ে জানকী বলেন, ‘মেয়ের জন্মের পর থেকেই দিনে বহুবার দুধ পাম্প করতাম। শরীর ক্লান্ত হয়ে পড়ত, মানসিক চাপও থাকত। অনেক সময় মনে হত আর পারছি না। তবুও নিজেকে বোঝাতাম, এটা সন্তানের জন্যই করছি।’ তিনি জানান, দুধ সংগ্রহ করা, তা প্যাকেটে ভরা এবং সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা, এই পুরো প্রক্রিয়াই ছিল সময়সাপেক্ষ এবং পরিশ্রমসাধ্য। তাঁর কথায়, ‘প্রথমে ভেবেছিলাম, যদি কখনও আমার সন্তানের প্রয়োজন হয়, তখন কাজে লাগবে। কিন্তু পরে দেখি, আমার মেয়ে সরাসরি স্তন থেকে দুধ পান করছে এবং ধীরে ধীরে শক্ত খাবারও খেতে শুরু করেছে।’ এই উপলব্ধি থেকেই তাঁর মনে হয়, জমিয়ে রাখা দুধ অন্য কোনও শিশুর কাজে লাগতে পারে। স্তন্যদুগ্ধ দানের দিনটি তাঁর কাছে আবেগে ভরা ছিল। জানকী বলেন, ‘এই প্রতিটি ব্যাগের সঙ্গে আমার অনুভূতি জড়িয়ে ছিল। দান করার দিন বারবার কেঁদে ফেলছিলাম। কিন্তু নিজেকে বোঝালাম, এগুলো এমন শিশুদের কাছে যাচ্ছে যাদের সত্যিই এই পুষ্টির প্রয়োজন।’ তাঁর মতে, এই উদ্যোগ শুধু একটি দান নয়, বরং মাতৃত্বের বিস্তৃত এক রূপ।

তিনি আরও বলেন, ‘একজন নারী হিসেবে আমি গর্বিত। নিজের সন্তানের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি দিতে পারছি, আবার অন্য শিশুদেরও সাহায্য করতে পারছি, এটা সত্যিই বিশেষ অনুভূতি।’ তাঁর এই বক্তব্যে ধরা পড়ে মাতৃত্বের গভীরতা এবং মানবিকতার এক অনন্য প্রকাশ। উল্লেখ্য, চিকিৎসা ক্ষেত্রে স্তন্যদুগ্ধের গুরুত্ব অপরিসীম। বিশেষ করে অপরিণত বা অসুস্থ নবজাতকদের জন্য মায়ের দুধ অত্যন্ত প্রয়োজনীয় বলে ধরা হয়। অনেক ক্ষেত্রে শিশুর নিজের মায়ের দুধ পাওয়া সম্ভব না হলে মিল্ক ব্যাঙ্ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। এই ধরনের দান সেই সব শিশুদের জীবনরক্ষায় সহায়ক হতে পারে। জানকীর এই পদক্ষেপ সমাজে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিচ্ছে, যেখানে মাতৃত্ব শুধু নিজের সন্তানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং বৃহত্তর মানবিকতার সঙ্গে যুক্ত। তাঁর উদ্যোগ হয়তো আরও অনেক মাকে এমন পদক্ষেপ নিতে উৎসাহিত করবে।

সামাজিক মাধ্যমে অনুরাগীরা জানকীর প্রশংসায় ভাসছেন। অনেকেই তাঁর এই উদ্যোগকে ‘মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত’ হিসেবে দেখছেন। আবার কেউ কেউ বলছেন, এই ধরনের কাজের মাধ্যমে সচেতনতা বাড়বে এবং আরও মানুষ মিল্ক ব্যাঙ্কের গুরুত্ব বুঝতে পারবেন। বর্তমান সময়ে যখন নানা ধরনের সামাজিক সমস্যা সামনে আসে, তখন এমন উদ্যোগ মানুষের মধ্যে ইতিবাচক ভাবনা জাগিয়ে তোলে। জানকী পারেখের এই দান শুধু একটি ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নয়, বরং সমাজের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হয়ে রইল।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Jwala Gutta breast milk donation | জ্বালা গুট্টা স্তন্যদুগ্ধ দান, অনন্য উদ্যোগ ভারতের ব্যাডমিন্টন তারকা

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন