সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা: প্রশাসনিক কাজের গতি বাড়ানো এবং দফতরগুলির মধ্যে সমন্বয় আরও শক্তিশালী করতে বড় পদক্ষেপ নিল রাজ্য সরকার। সোমবার নবান্নে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দেন, যার মধ্যে অন্যতম হল গ্রামীণ কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে ১০০ দিনের কাজ পুনরায় চালু করার নির্দেশ। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় থাকা ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যান (Ghatal Master Plan) বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। রাজ্যের ৩৪টি দফতরের সচিবদের নিয়ে আয়োজিত এই বৈঠকে প্রশাসনিক কাজের অগ্রগতি, উন্নয়নমূলক প্রকল্প এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়। সূত্রের খবর, মুখ্যমন্ত্রী পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দেন, দফতরগুলির মধ্যে সমন্বয় না থাকলে প্রকল্প বাস্তবায়ন ব্যাহত হয়, তাই নিয়মিত সমন্বয় বৈঠকের মাধ্যমে সেই ঘাটতি দূর করা হবে। সিদ্ধান্ত হয়েছে, প্রতি মাসে সচিবদের সঙ্গে এই ধরনের বৈঠক করা হবে, যাতে কাজের অগ্রগতি সরাসরি পর্যালোচনা করা যায়।
এই বৈঠকের অন্যতম প্রধান দিক ছিল গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার উদ্যোগ। মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশ দেন, দ্রুত ১০০ দিনের কাজ (100 Days Work Scheme) চালু করতে হবে, যাতে গ্রামীণ এলাকায় কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি পায়। প্রশাসনিক মহলের মতে, এই পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে গ্রামের অর্থনৈতিক প্রবাহে নতুন গতি আসতে পারে এবং কর্মহীন মানুষের হাতে কাজ পৌঁছবে।
ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যান নিয়েও বৈঠকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। পশ্চিম মেদিনীপুর (Paschim Medinipur) ও সংলগ্ন অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে বন্যা সমস্যার সমাধানের জন্য এই প্রকল্প অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়। আগের সরকারের আমলে প্রকল্পের সূচনা হলেও বাস্তব ক্ষেত্রে অগ্রগতি খুব সীমিত ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। নতুন সরকার এই প্রকল্পকে দ্রুত বাস্তবায়নের দিকে এগোতে চায়। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যান কেন্দ্র ও রাজ্যের যৌথ উদ্যোগে বাস্তবায়িত হবে। প্রকল্পের মোট ব্যয়ের ৫০ শতাংশ কেন্দ্র সরকার এবং বাকি ৫০ শতাংশ রাজ্য সরকার বহন করবে। সেই অনুযায়ী আর্থিক পরিকল্পনা চূড়ান্ত করার জন্য সংশ্লিষ্ট দফতরগুলিকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে। প্রশাসনিক মহলের ধারণা, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বহু বছরের বন্যা সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব হবে এবং কৃষি ও স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
স্বাস্থ্য পরিষেবার ক্ষেত্রেও বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আয়ুষ্মান ভারত (Ayushman Bharat) প্রকল্প কার্যকর করার বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার উপর জোর দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি স্বাস্থ্য দফতরের সচিবকে নির্দেশ দেন, আগামী ৮ জুনের মধ্যে এই প্রকল্প সংক্রান্ত সমস্ত চুক্তি চূড়ান্ত করতে হবে। এতে রাজ্যের মানুষ কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য পরিষেবার সুবিধা পেতে পারেন বলে আশা করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি আগামী ১১ জুন দিল্লিতে (New Delhi) অনুষ্ঠিত হতে চলা নীতি আয়োগ (NITI Aayog) বৈঠক নিয়েও প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী প্রথমবারের মতো এই বৈঠকে যোগ দিতে চলেছেন বলে জানা গিয়েছে। ফলে রাজ্যের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প, আর্থিক অবস্থা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে একটি বিস্তারিত রিপোর্ট তৈরি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সব দফতরকে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এই রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে, যাতে কেন্দ্রীয় স্তরে রাজ্যের উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরা যায়। বৈঠকে প্রশাসনিক দক্ষতা বাড়ানোর উপরও জোর দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, প্রকল্পের কাজ দ্রুত শেষ করতে হলে দফতরগুলির মধ্যে তথ্য আদানপ্রদান এবং সমন্বয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই লক্ষ্যেই নিয়মিত বৈঠকের মাধ্যমে কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হবে।
এই বৈঠককে নতুন সরকারের প্রশাসনিক রূপরেখার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ১০০ দিনের কাজ চালু করা থেকে শুরু করে ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়ন, সব ক্ষেত্রেই দ্রুত পদক্ষেপের ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য ও পরিকাঠামো উন্নয়নেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই বৈঠক থেকে প্রশাসনের সক্রিয়তা বাড়ানোর একটি বার্তা দেওয়া হয়েছে। দফতরগুলিকে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে কাজ শেষ করার নির্দেশ দেওয়ায় প্রকল্প বাস্তবায়নে গতি আসতে পারে। আগামী দিনে এই সিদ্ধান্তগুলির বাস্তবায়ন কতটা সফল হয়, তার উপরই নির্ভর করবে রাজ্যের উন্নয়ন প্রকল্পগুলির ভবিষ্যৎ। তবে নবান্নের এই বৈঠক থেকেই পরিষ্কার যে, প্রশাসনিক ক্ষেত্রে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং কার্যকরী বাস্তবায়নের উপর জোর দিচ্ছে রাজ্য সরকার।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : OBC Certificate West Bengal, Suvendu Adhikari OBC decision | ওবিসি শংসাপত্রে বড় রদবদল, ৪ মাসের মধ্যে নতুন সমীক্ষার নির্দেশ, নবান্ন বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর কড়া সিদ্ধান্ত



