Matrimonial scam India | বিয়ের ওয়েবসাইটে ‘পুলিশ’ পরিচয়, এআই দিয়ে ভুয়ো নথি বানিয়ে ২১ মহিলাকে প্রতারণা, আহমদাবাদে গ্রেফতার হিমাংশু পাঞ্চাল

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ আহমদাবাদ: প্রযুক্তির অপব্যবহার কীভাবে নতুন ধরনের প্রতারণার রাস্তা খুলে দিচ্ছে, তারই এক চাঞ্চল্যকর উদাহরণ সামনে এল গুজরাতের আহমদাবাদ থেকে। বিবাহ-সংক্রান্ত ওয়েবসাইটে নিজেকে পুলিশ অফিসার পরিচয় দিয়ে একাধিক মহিলার সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলে তাঁদের কাছ থেকে টাকা হাতানোর অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে হিমাংশু ওরফে রকি পাঞ্চাল নামে এক যুবককে। তদন্তে উঠে এসেছে, অন্তত ২১ জন মহিলা এই প্রতারণার শিকার হয়েছেন, যাঁদের অধিকাংশই বিভিন্ন রাজ্যের বাসিন্দা।

আরও পড়ুন : Scam, Safe Travel Tips | বেড়াতে গিয়ে সর্বস্বান্ত! ভ্রমণপ্রেমীরা কীভাবে এড়াবেন স্ক্যামের ফাঁদ?

পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযুক্ত অত্যন্ত পরিকল্পিত ভাবে এই চক্র চালাতেন। তিনি বিভিন্ন জনপ্রিয় ম্যাট্রিমোনিয়াল ওয়েবসাইটে নিজের ভুয়ো প্রোফাইল তৈরি করে নিজেকে গুজরাত পুলিশের সাব-ইনস্পেক্টর হিসেবে পরিচয় দিতেন। শুধু কথার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেননি, বরং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (Artificial Intelligence)-এর সাহায্যে পুলিশের পোশাকে নিজের ছবি তৈরি করে সেটিকে প্রোফাইল ছবিরূপে ব্যবহার করতেন। ফলে প্রথম দেখাতেই অনেকেই তাঁকে বিশ্বাস করে ফেলতেন। তদন্তকারীদের দাবি, হিমাংশু অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে নিজের পরিচয়কে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলেছিলেন। ভুয়ো সরকারি পরিচয়পত্র, নিয়োগপত্র, এমনকি বিভিন্ন অফিসিয়াল নথিও তৈরি করেছিলেন তিনি। এসব নথি দেখিয়ে মহিলাদের আস্থা অর্জন করতে সময় লাগত না। এক আধিকারিকের কথায়, ‘তিনি এমনভাবে সব সাজিয়েছিলেন যাতে কেউ সহজে সন্দেহ না করে।’ পুলিশ জানিয়েছে, ম্যাট্রিমোনিয়াল সাইট ছাড়াও সমাজমাধ্যম ব্যবহার করে সম্ভাব্য শিকারদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করতেন অভিযুক্ত। প্রথমে সাধারণ আলাপচারিতা, তারপর ধীরে ধীরে ব্যক্তিগত সম্পর্ক গড়ে তোলা, এই পদ্ধতিই অনুসরণ করতেন তিনি। কয়েকদিন বা কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই মহিলাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তৈরি করে ফেলতেন। সেই সময় নিজের ব্যক্তিগত জীবন, কর্মক্ষেত্র ও পারিবারিক পরিস্থিতি নিয়ে নানা গল্প শোনাতেন, যাতে বিশ্বাস আরও গভীর হয়।

এই বিশ্বাসের সুযোগ নিয়েই শুরু হত প্রতারণা। কখনও জরুরি প্রয়োজনে টাকা দরকার বলে, কখনও পরিবারের অসুস্থতার অজুহাত তুলে, আবার কখনও চাকরি সংক্রান্ত সমস্যার কথা বলে অর্থ সাহায্য চাইতেন। একবার টাকা হাতে পেলেই তিনি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিতেন। ফোন নম্বর বন্ধ, সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট নিষ্ক্রিয়, সব মিলিয়ে সম্পূর্ণভাবে উধাও হয়ে যেতেন।সম্প্রতি আহমদাবাদের দুই মহিলা পৃথক ভাবে অভিযোগ দায়ের করার পর বিষয়টি সামনে আসে। তাঁদের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। তদন্ত যত এগিয়েছে, ততই বেরিয়ে এসেছে এই প্রতারণার বিস্তার। চারটি ভিন্ন রাজ্যে অন্তত ২১ জন মহিলার সঙ্গে একই কৌশলে প্রতারণা করেছেন হিমাংশু, এমনটাই জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশের অপরাধদমন শাখা জানিয়েছে, অভিযুক্ত মূলত অহমদাবাদের বাসিন্দা হলেও দীর্ঘদিন উদয়পুর (Udaipur)-এ বসবাস করতেন। সেখান থেকেই এই চক্র পরিচালনা করতেন তিনি। বিভিন্ন সিম কার্ড, একাধিক অনলাইন অ্যাকাউন্ট এবং ডিজিটাল টুল ব্যবহার করে নিজের পরিচয় গোপন রাখার চেষ্টা করতেন। তদন্তকারীরা আরও জানিয়েছেন, এআই প্রযুক্তির ব্যবহার এই প্রতারণাকে আরও জটিল করে তুলেছে। ভুয়ো ছবি বা নথি এতটাই নিখুঁতভাবে তৈরি করা হয়েছিল যে সাধারণ মানুষের পক্ষে তা যাচাই করা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। এই ঘটনা সামনে আসার পর থেকেই অনলাইন প্রতারণা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তের কাছ থেকে একাধিক ইলেকট্রনিক ডিভাইস উদ্ধার করা হয়েছে, যেগুলিতে ভুয়ো নথি তৈরির প্রমাণ মিলেছে। পাশাপাশি, বিভিন্ন মহিলার সঙ্গে তাঁর কথোপকথনের রেকর্ডও উদ্ধার হয়েছে বলে জানা গেছে। সেই সব তথ্য খতিয়ে দেখে আরও ভুক্তভোগীর সন্ধান পাওয়া যেতে পারে বলেও মনে করা হচ্ছে। এই ঘটনার পর সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে পুলিশ। বিশেষ করে ম্যাট্রিমোনিয়াল ওয়েবসাইট বা সোশ্যাল মিডিয়ায় নতুন পরিচয়ের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের কথা বলা হয়েছে। অপরিচিত কারও কাছে ব্যক্তিগত তথ্য বা অর্থ লেনদেন করার আগে যথাযথ যাচাই করার উপর জোর দেওয়া হয়েছে। একজন তদন্তকারী আধিকারিকের কথায়, ‘অনলাইনে পরিচয়ের ক্ষেত্রে শুধু ছবি বা কথার উপর নির্ভর করা ঠিক নয়। সরকারি পরিচয় দাবি করলে তা যাচাই করা জরুরি।’ এই ধরনের প্রতারণা রুখতে প্রযুক্তিগত সচেতনতা বাড়ানোই একমাত্র উপায় বলেও মনে করছে পুলিশ।

ঘটনাটি প্রমাণ করে দিচ্ছে, ডিজিটাল যুগে প্রতারণার ধরন দ্রুত বদলাচ্ছে। প্রযুক্তি যেমন মানুষের জীবন সহজ করছে, তেমনই তার অপব্যবহার বিপদের কারণ হয়ে উঠছে। ফলে সতর্কতা এবং সচেতনতা, এই দুই-ই এখন সবচেয়ে বড় হাতিয়ার।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : COD scam India, QR code fraud online shopping | ক্যাশ অন ডেলিভারি ফাঁদে বড় চক্র, ফোনেই উধাও টাকা! কলকাতায় ১৭ জন গ্রেফতার, সতর্ক করল পুলিশ

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন