সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ লখনউ: বিয়ের নাম করে সুপরিকল্পিত প্রতারণা (Marriage fraud) এবং লুটের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়াল উত্তরপ্রদেশের ললিতপুরে। বহুদিন ধরে সক্রিয় একটি চক্রকে ভেঙে দিয়েছে পুলিশ। এই চক্রের সদস্যরা বিয়ের সম্বন্ধ করে শ্বশুরবাড়িতে প্রবেশ করত, তারপর খাবার বা পানীয়ের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে পরিবারের সদস্যদের অচেতন করে মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে উধাও হয়ে যেত। মঙ্গলবার অভিযানে এই চক্রের ৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার মহম্মদ মুস্তাক (Mohammad Mustaq)। পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃতদের মধ্যে ৫ জন মহিলা এবং ৩ জন পুরুষ রয়েছে। এই দলের নারী সদস্যরা ‘কনে’ সেজে বিয়ের আয়োজনের মাধ্যমে টার্গেট পরিবারের আস্থা অর্জন করত। এরপর ধাপে ধাপে পরিকল্পনা মাফিক লুটের কাজ সম্পন্ন করা হত। এই ধরনের অপরাধের ফলে বহু পরিবার আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি মানসিক আঘাতের সম্মুখীন হয়েছে।
পুলিশ সুপার মহম্মদ মুস্তাক (Mohammad Mustaq) বলেন, ‘বিয়ের আয়োজন করে শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের ঘুমের ওষুধ খাইয়ে ঘরের গয়না ও মূল্যবান সামগ্রী লুট করে পালানোর একটি চক্রকে আমরা গ্রেফতার করেছি।’ তিনি জানান, ‘মঙ্গলবার অভিযান চালিয়ে ৮ জনকে ধরা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে প্রায় ৫ লক্ষ টাকার গয়না, মোবাইল ফোন এবং অন্যান্য সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে।’ তদন্তে উঠে এসেছে, এই চক্রটি অত্যন্ত সংগঠিতভাবে কাজ করত। প্রথমে তারা সম্ভাব্য পরিবার খুঁজে বের করত, যেখানে দ্রুত বিয়ের আয়োজন সম্ভব। এরপর মিথ্যা পরিচয় দিয়ে বিয়ের আলোচনা শুরু করা হত। সবকিছু স্বাভাবিক রাখার জন্য চক্রের সদস্যরা নিজেদের আত্মীয় পরিচয় দিত এবং অনুষ্ঠানের আয়োজনেও অংশ নিত। এতে সন্দেহের অবকাশ কমে যেত। বিয়ের দিন বা তার আশেপাশে সুযোগ বুঝে খাবার বা পানীয়ের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে দেওয়া হত। পরিবারের সদস্যরা অচেতন হয়ে পড়লে শুরু হত লুটপাট। গয়না, নগদ টাকা, মোবাইল ফোন, যা কিছু হাতের কাছে পাওয়া যেত, সব নিয়ে তারা দ্রুত এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যেত। অনেক ক্ষেত্রে কনের সঙ্গেও আর যোগাযোগ করা যেত না।
এই ধরনের প্রতারণা সাধারণ লুটের ঘটনার তুলনায় অনেক বেশি বিপজ্জনক বলে মনে করছে পুলিশ। কারণ এখানে আবেগ এবং সামাজিক বিশ্বাসকে কাজে লাগানো হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ জানিয়েছেন, ‘এই চক্রের জন্য বহু পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিয়ের মতো একটি সামাজিক বন্ধনকে ব্যবহার করে অপরাধ করা হয়েছে।’ পুলিশ জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে এই চক্রের গতিবিধির উপর নজর রাখা হচ্ছিল। একাধিক অভিযোগ জমা পড়ার পর তদন্ত শুরু হয়। বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করে অবশেষে এই অভিযানে সাফল্য আসে। ধৃতদের জেরা করে আরও তথ্য বের করার চেষ্টা চলছে। মহম্মদ মুস্তাক (Mohammad Mustaq) আরও বলেন, ‘তদন্তে যদি আরও কারও যোগসূত্র পাওয়া যায়, তাহলে তাদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ পুলিশ ইতিমধ্যেই সম্ভাব্য অন্যান্য ভুক্তভোগীদের চিহ্নিত করার কাজ শুরু করেছে। একই সঙ্গে এই চক্র অন্য জেলায় সক্রিয় ছিল কি না, সেটাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এই ঘটনায় ললিতপুর জেলায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে। অনেকেই এখন নতুন করে সতর্ক হচ্ছেন। বিয়ের ক্ষেত্রে পরিচয় যাচাই এবং পাত্র-পাত্রীর সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। পুলিশ প্রশাসনের তরফে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার আবেদন জানানো হয়েছে। সাইবার ও অপরাধ দমন শাখার এক আধিকারিক জানিয়েছেন, বর্তমানে এই ধরনের প্রতারণার পদ্ধতি বদলাচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে অপরাধীরা সহজেই মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করছে। ফলে পরিচয় যাচাই না করে কোনও সিদ্ধান্ত না নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার পর প্রশাসনও সক্রিয় হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আরও নজরদারি বাড়ানো হচ্ছে। বিয়ের মতো সামাজিক অনুষ্ঠানে অপরাধ রুখতে স্থানীয় থানাগুলিকে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই গ্রেফতারের ফলে আপাতত স্বস্তি ফিরেছে এলাকায়। তবে পুলিশ মনে করছে, এই ধরনের চক্রের শিকড় আরও গভীরে থাকতে পারে। তাই তদন্ত এখনও চলবে এবং প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে। উল্লেখ্য, বিয়ের মতো পবিত্র সম্পর্ককে হাতিয়ার করে অপরাধ করার এই ঘটনা সমাজে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। মানুষের বিশ্বাসকে কাজে লাগিয়ে সংগঠিত অপরাধ কীভাবে বিস্তার লাভ করছে, এই ঘটনা তারই একটি বড় উদাহরণ হয়ে উঠেছে।
ছবি : প্রতীকী
আরও পড়ুন : NITI Aayog West Bengal plan | পশ্চিমবঙ্গে শিল্পে নতুন জোয়ারের খোঁজে কেন্দ্রের রূপরেখা, নীতি আয়োগের পরিকল্পনায় চার খাতে জোর



