সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা: অষ্টাদশ পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা গঠনের পর প্রথম অধিবেশন শেষ হলেও বিরোধী দলনেতার মর্যাদা নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন রাজনৈতিক জট। বালিগঞ্জের তৃণমূল বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় (Sovandeb Chattopadhyay) অভিযোগ তুলেছেন, বিধানসভার সচিবালয় এখনও তাঁকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়নি। এই পরিস্থিতিতে তিনি তথ্য জানার অধিকার আইনের (RTI) দ্বারস্থ হয়েছেন। ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে চর্চা শুরু হয়েছে। তৃণমূল পরিষদীয় দলের তরফে জানানো হয়েছে, গত ১৩ মে স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বসু -এর (Rathindranath Bose) উদ্দেশে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছিল। সেই চিঠিতে ৮০ জন বিধায়কের সমর্থনের ভিত্তিতে শোভনদেবকে পরিষদীয় দলের নেতা হিসেবে মনোনীত করার কথা উল্লেখ ছিল। তবে স্পিকার অফিসে অনুপস্থিত থাকায় চিঠিটি জমা দেওয়া হয় বিধানসভার সচিব সমরেন্দ্রনাথ দাস (Samarendranath Das) -এর কাছে। অভিযোগ, চিঠি জমা দেওয়ার পাঁচ দিন পেরিয়ে গেলেও সচিবালয়ের তরফে কোনও স্বীকৃতি বা আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি।
এই পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে শোভনদেব বলেন, ‘বিধানসভার বিরোধী দলনেতা নিয়োগের ক্ষেত্রে সাধারণত আলাদা করে চিঠিপত্র আদান-প্রদান হয় না। সচিবালয় থেকেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে জানিয়ে দেওয়া হয়। এখানে সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি।’ তিনি আরও জানান, ‘বিধানসভায় বিরোধী দলের জন্য নির্দিষ্ট অফিস ঘরটি এখনও তালাবন্ধ অবস্থায় রয়েছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।’ শুধু মৌখিক অভিযোগেই থেমে থাকেননি শোভনদেব। তিনি আরটিআই আবেদন করে জানতে চেয়েছেন, ২০১১, ২০১৬ এবং ২০২১ সালের বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা নির্বাচনের ক্ষেত্রে কী ধরনের নিয়ম ও প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছিল। তাঁর বক্তব্য, ‘আমি বাধ্য হয়েই আরটিআই করেছি। অতীতের নজির অনুযায়ী এবার কেন ব্যতিক্রম ঘটছে, সেটাই জানতে চাইছি।’
অন্যদিকে, স্পিকারের দফতরের তরফে ভিন্ন ব্যাখ্যা সামনে এসেছে। সেখানে বলা হয়েছে, তৃণমূল পরিষদীয় দল তাদের দলনেতার নাম জানিয়ে একটি চিঠি জমা দিয়েছে ঠিকই, তবে সেই বৈঠকের প্রস্তাবে ৮০ জন বিধায়কের স্বাক্ষরিত সমর্থনপত্র জমা দেওয়ার জন্য সচিবালয় থেকে পাল্টা অনুরোধ জানানো হয়েছে। অর্থাৎ, প্রক্রিয়াগত কিছু নথি এখনও জমা না পড়ায় স্বীকৃতি দেওয়া সম্ভব হয়নি বলে ইঙ্গিত মিলেছে। উল্লেখ্য, ২৯৪ আসনের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় বিরোধী দলের মর্যাদা পেতে কমপক্ষে ৩০ জন বিধায়কের সমর্থন প্রয়োজন হয়। সেই নিরিখে তৃণমূলের কাছে ৮০ জন বিধায়কের সমর্থন থাকা সত্ত্বেও কেন এই জটিলতা তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে রাজনৈতিক মহল। তৃণমূলের অভিযোগ, নানা অজুহাতে তাদের প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে।
সোমবার বিধানসভায় উপস্থিত ছিলেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। কিন্তু বিরোধী দলনেতার নির্ধারিত ঘরে তালা ঝুলতে দেখে তিনি দীর্ঘ সময় লবিতে বসেই কাজ সারেন এবং পরে ফিরে যান। এই ঘটনা রাজনৈতিক মহলে আরও জল্পনা বাড়িয়েছে। উল্লেখ্য, যে চিঠিতে শোভনদেবকে বিরোধী দলনেতা হিসেবে মনোনীত করার কথা জানানো হয়েছে, সেই একই চিঠিতে ফিরহাদ হাকিমকে (Firhad Hakim) মুখ্যসচেতক এবং নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় (Nayana Bandyopadhyay) ও অসীমা পাত্রকে (Asima Patra) উপ-দলনেতা হিসেবে মনোনীত করার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, পুরো পরিষদীয় দলের কাঠামো একসঙ্গে জানানো হলেও শুধুমাত্র বিরোধী দলনেতার স্বীকৃতি নিয়েই তৈরি হয়েছে জট।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিধানসভার মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে এমন প্রশাসনিক টানাপোড়েন ভবিষ্যতের কার্যপ্রণালীর উপর প্রভাব ফেলতে পারে। বিরোধী পক্ষের নেতৃত্ব নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলে আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় সমন্বয় বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কাও থেকে যায়। এই পরিস্থিতিতে আরটিআই-এর মাধ্যমে তথ্য সামনে এলে বিষয়টি নতুন মোড় নিতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে। শোভনদেবের এই পদক্ষেপ প্রশাসনিক স্বচ্ছতা এবং বিধানসভার প্রক্রিয়া নিয়ে আরও আলোচনা তৈরি করবে বলেই ধারণা রাজনৈতিক মহলের একাংশের। এখন নজর রয়েছে বিধানসভার সচিবালয়ের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। প্রয়োজনীয় নথি জমা পড়ার পর কি দ্রুত স্বীকৃতি দেওয়া হবে, নাকি বিতর্ক আরও দীর্ঘায়িত হবে, সেটাই দেখার।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Narendra Modi convoy reduction, fuel saving India | জ্বালানি বাঁচাতে নিজের গাড়ির সংখ্যা কমাচ্ছেন নরেন্দ্র মোদী, বৈদ্যুতিক যান ব্যবহারে জোর




