Annapurna Scheme, 7th Pay Commission WB | অন্নপূর্ণা যোজনা অনুমোদন, সপ্তম বেতন কমিশন গঠন, ডিএ নিয়ে সিদ্ধান্ত হল না মন্ত্রিসভার বৈঠকে

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা: নতুন সরকারের দ্বিতীয় মন্ত্রিসভার বৈঠক ঘিরে প্রত্যাশা ছিল তুঙ্গে। সোমবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) -এর নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত সেই বৈঠকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও মহার্ঘভাতা বা ডিএ নিয়ে কোনও ঘোষণা না হওয়ায় সরকারি কর্মীদের মধ্যে কৌতূহল আরও বেড়েছে। অন্যদিকে, অন্নপূর্ণা যোজনা, মহিলাদের বিনামূল্যে বাসযাত্রা এবং সপ্তম বেতন কমিশন গঠনের মতো একাধিক পদক্ষেপের কথা জানানো হয়েছে। মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাজ্যের উপ-মুখ্যমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল (Agnimitra Pal) একে একে সরকারের সিদ্ধান্তগুলি তুলে ধরেন। তিনি জানান, নারী ও শিশু উন্নয়ন এবং সমাজকল্যাণ দফতরের অধীনে ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ নীতিগত অনুমোদন পেয়েছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে আর্থিক সহায়তা সরাসরি উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হবে। অগ্নিমিত্রা বলেন, ‘যাঁরা আগে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, তাঁদের নাম অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারে স্থানান্তরিত করা হবে। পাশাপাশি নতুন আবেদনকারীদের জন্যও শীঘ্রই পোর্টাল চালু করা হবে।’

আরও পড়ুন : Felicitation of Toppers, Suvendu Adhikari | কৃতীদের সংবর্ধনায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ঘোষণা, আসছে ‘বিবেকানন্দ মেরিটস স্কলারশিপ

এই প্রকল্পের আওতায় সিএএ (CAA)-র জন্য আবেদনকারী এবং ট্রাইবুনালে আবেদন করা ব্যক্তিরাও অন্তর্ভুক্ত হবেন বলে জানানো হয়েছে। ফলে প্রকল্পের পরিধি আরও বিস্তৃত হতে চলেছে। প্রশাসনিক সূত্রে জানা যাচ্ছে, অন্নপূর্ণা যোজনা রাজ্যের সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থায় নতুন মাত্রা যোগ করবে। মহিলাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা হিসেবে সামনে এসেছে বিনামূল্যে সরকারি বাসে যাতায়াতের সিদ্ধান্ত। আগামী ১ জুন থেকে রাজ্যের সমস্ত সরকারি বাসে মহিলারা বিনামূল্যে ভ্রমণ করতে পারবেন। এই সিদ্ধান্তকে নারীদের চলাচলে সহায়ক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে আপাতত বাসের সংখ্যা বাড়ানো নিয়ে কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। অগ্নিমিত্রা জানান, ‘বর্তমান পরিকাঠামো দিয়েই পরিষেবা চালানো হবে। পরে বৈদ্যুতিক বাস সংযোজনের পরিকল্পনা রয়েছে।’ সবচেয়ে আলোচিত সিদ্ধান্তগুলির মধ্যে রয়েছে সপ্তম রাজ্য বেতন কমিশন গঠন। দীর্ঘদিন ধরেই সরকারি কর্মীরা নতুন বেতন কাঠামোর দাবি জানিয়ে আসছিলেন। সেই প্রেক্ষিতে কমিশন গঠনের সিদ্ধান্তকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে ধরা হচ্ছে। যদিও কমিশনের কাজ কবে শেষ হবে বা সুপারিশ কবে কার্যকর হবে, তা নিয়ে এখনও নির্দিষ্ট সময়সীমা জানানো হয়নি।

কিন্তু এই বৈঠকে ডিএ বা মহার্ঘভাতা নিয়ে কোনও আলোচনা বা সিদ্ধান্ত সামনে না আসায় কর্মীদের মধ্যে প্রশ্ন থেকেই গেছে। পূর্বতন সরকারের সময় ডিএ ইস্যুতে দীর্ঘ আইনি টানাপোড়েন চলেছিল। নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর এই বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তা নিয়ে প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু দ্বিতীয় বৈঠকেও সে বিষয়ে নীরবতা বজায় থাকায় জল্পনা আরও বেড়েছে। মন্ত্রিসভার এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী। তাঁদের মধ্যে ছিলেন দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh), নিশীথ প্রামাণিক (Nisith Pramanik), অশোক কীর্তনিয়া (Ashok Kirtania) এবং ক্ষুদিরাম টুডু (Khudiram Tudu)। পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন মুখ্যসচিব মনোজকুমার আগারওয়াল (Manoj Kumar Agarwal)। বৈঠকে রাজ্যের প্রশাসনিক এবং আর্থিক বিষয়গুলি নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয় বলে সূত্রের খবর। এদিন আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে ধর্মীয় শ্রেণিবিন্যাসের ভিত্তিতে প্রদত্ত কিছু সহায়ক প্রকল্প বন্ধ করার বিষয়ে। অগ্নিমিত্রা বলেন, ‘তথ্য ও সংস্কৃতি দফতর এবং সংখ্যালঘু বিষয়ক ও মাদ্রাসা শিক্ষা দফতরের অধীনে যে প্রকল্পগুলি ধর্মীয় ভিত্তিতে দেওয়া হত, সেগুলি এই মাস পর্যন্ত চলবে। পরের মাস থেকে তা বন্ধ করা হবে।’ এই সিদ্ধান্ত নিয়েও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।

ওবিসি (OBC) তালিকা নিয়েও মন্ত্রিসভায় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। রাজ্যের সরকারি চাকরি এবং পদে সংরক্ষণের হার পুনর্বিবেচনা করা হবে এবং উপশ্রেণিবিভাগ বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অগ্নিমিত্রা জানান, ‘নতুন করে অনুসন্ধান করা হবে। হাই কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’ উল্লেখ্য, প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকের সময় মুখ্যমন্ত্রী ‘সুশাসন, সুরক্ষা এবং ডবল ইঞ্জিন সরকারের’ কথা উল্লেখ করেছিলেন। দ্বিতীয় বৈঠকের সিদ্ধান্তগুলিও সেই দিশাতেই এগোচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে। সংবিধানপ্রণেতা ড. বি. আর. অম্বেডকর (B. R. Ambedkar) -এর ‘জনগণের জন্য, জনগণের দ্বারা, জনগণের’ আদর্শ অনুসরণের কথাও আবার উঠে এসেছে প্রশাসনিক আলোচনায়। অন্যদিকে, রাজ্যের আগামী বাজেট অধিবেশনেও এই সিদ্ধান্তগুলির আর্থিক প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হতে পারে বলে ধারণা। বিশেষ করে অন্নপূর্ণা যোজনা এবং বিনামূল্যে বাসযাত্রার মতো প্রকল্পগুলির জন্য কীভাবে অর্থ বরাদ্দ করা হবে, সে দিকে নজর থাকবে। মোটের উপর, দ্বিতীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে একাধিক জনমুখী প্রকল্পের অনুমোদন মিললেও ডিএ ইস্যুতে সিদ্ধান্ত না আসায় সরকারি কর্মীদের অপেক্ষা আরও দীর্ঘ হল। এখন নজর পরবর্তী বৈঠক এবং বাজেট অধিবেশনের দিকে।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : DilipGhosh, AgnimitraPaul, DeputyCM: দিলীপ ঘোষ ও অগ্নিমিত্রা পাল উপ মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন | বাংলার রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন