শোভনা মাইতি, সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা: দৈনন্দিন জীবনে একে অপরের জিনিস ব্যবহার করা যেন স্বাভাবিক অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। বন্ধুর কলম দিয়ে সই করা, কারও ঘড়ি হাতে পরে দেখা কিংবা পরিচিত কারও পোশাক ধার নেওয়া, এসব বিষয়কে সাধারণ বলেই মনে করেন অধিকাংশ মানুষ। তবে বাস্তুশাস্ত্র (Vastu Shastra) ঘিরে নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে এক ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি, যেখানে বলা হচ্ছে, ‘অন্যের ব্যবহৃত জিনিস ব্যবহার করার অভ্যাস আপনার জীবনে অশুভ প্রভাব ডেকে আনতে পারে।’ বাস্তু মতে, প্রত্যেক মানুষের শরীরে একটি স্বতন্ত্র শক্তিক্ষেত্র বা এনার্জি (Energy) থাকে, যা তাঁর ব্যবহার করা জিনিসের সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে যায়। সেই কারণে অন্যের জিনিস ব্যবহার করলে সেই ব্যক্তির ইতিবাচক বা নেতিবাচক প্রভাব অন্যের জীবনে প্রবেশ করতে পারে বলেই বিশ্বাস করা হয়।
সবচেয়ে বেশি যে বিষয়টি নিয়ে সতর্ক করা হচ্ছে, তা হল অন্যের বিছানা ব্যবহার করা। অনেকেই অতিথি হিসেবে গিয়ে বা ঘনিষ্ঠতার কারণে অন্যের বিছানায় শুয়ে পড়েন। কিন্তু বাস্তুশাস্ত্রে বলা হচ্ছে, ‘অন্যের বিছানায় বিশ্রাম নিলে সেই ব্যক্তির মানসিক চাপ বা আর্থিক সমস্যার প্রভাব নিজের জীবনে পড়তে পারে।’ ফলে ব্যক্তিগত স্থিরতা বজায় রাখতে নিজের ব্যবহারের জায়গাতেই থাকা ভালো বলে মনে করা হচ্ছে। এছাড়া ঘড়ি ব্যবহার নিয়েও রয়েছে আলাদা সতর্কতা। সময়ের সঙ্গে জীবনের অগ্রগতির যোগ রয়েছে বলেই মনে করা হয়। সেই কারণে অন্যের ঘড়ি ব্যবহার করলে নিজের সময়চক্রে ব্যাঘাত ঘটতে পারে, এমন ধারণাও প্রচলিত। একটি মত অনুযায়ী, ‘অন্যের ঘড়ি পরা কাজের ক্ষেত্রে বাধা তৈরি করতে পারে এবং আর্থিক দিকেও প্রভাব ফেলতে পারে।’
পোশাকের ক্ষেত্রেও একই ধরনের সতর্কতা উঠে এসেছে। অনেকেই বিশেষ অনুষ্ঠান বা প্রয়োজনের সময় অন্যের জামা বা পোশাক ব্যবহার করেন। কিন্তু বাস্তুশাস্ত্রের মতে, ‘অন্যের পোশাক শরীরে ধারণ করলে তাঁর জীবনের নানা সমস্যা বা শারীরিক অসুস্থতার প্রভাব নিজের উপর পড়তে পারে।’ যদিও এই বিষয়টি বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত নয়, তবুও বিশ্বাসের জায়গা থেকে অনেকেই বিষয়টি গুরুত্ব দেন। ছোট একটি রুমাল নিয়েও রয়েছে উল্লেখযোগ্য মত। সাধারণভাবে রুমাল ব্যবহার খুবই ব্যক্তিগত বিষয় হলেও অনেক সময় তা আদান-প্রদান হয়। বাস্তু মতে, ‘রুমাল ভাগ করে ব্যবহার করলে সম্পর্কের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি বা দূরত্ব তৈরি হতে পারে।’ ফলে এই ছোট অভ্যাসও বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
অফিস বা জনসমাগমের জায়গায় অন্যের কলম ব্যবহার করা প্রায় নিত্যদিনের ব্যাপার। তবে এটিও এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। ‘অন্যের কলম ব্যবহার করে নিজের কাছে রেখে দিলে তা আর্থিক অগ্রগতিতে বাধা আনতে পারে’ এমন মতও শোনা যাচ্ছে। এর সঙ্গে সামাজিক দিক থেকেও শালীনতার প্রশ্ন জড়িয়ে রয়েছে। এরপর উঠে আসে অর্থ লেনদেনের বিষয়টি। অনেক সময় প্রয়োজনে টাকা ধার নেওয়া হয়, যা স্বাভাবিক। কিন্তু তা সময়মতো ফেরত না দিলে তার প্রভাব শুধুমাত্র সম্পর্কেই নয়, ব্যক্তির আর্থিক অবস্থাতেও পড়তে পারে। একটি প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, ‘অন্যের টাকা ফেরত না দিলে দীর্ঘমেয়াদে আর্থিক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়।’
এই সমস্ত বিষয়কে ঘিরে নানা মত রয়েছে। কেউ কেউ একে বিশ্বাসের জায়গা থেকে দেখেন, আবার কেউ একে কুসংস্কার বলেও উড়িয়ে দেন। তবে বাস্তুশাস্ত্রের অনুসারীরা মনে করেন, দৈনন্দিন জীবনে ছোট ছোট সচেতনতা বজায় রাখলে মানসিক ও পারিবারিক স্থিতি বজায় রাখা সহজ হয়। উল্লেখ্য, বর্তমান সময়ে যখন মানুষ দ্রুতগতির জীবনে অভ্যস্ত, তখন ব্যক্তিগত পরিসর ও ব্যবহার নিয়ে সচেতন হওয়া জরুরি বলেই মত অনেকের। অন্যের জিনিস ব্যবহার করার আগে একবার ভাবা, এই অভ্যাসই অনেক ক্ষেত্রে অপ্রত্যাশিত সমস্যা এড়াতে সাহায্য করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। কিন্তু এ কথাও মনে রাখা প্রয়োজন, এই সমস্ত মতামত মূলত বিশ্বাস ও প্রাচীন ধারণার উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। তবুও সমাজের একটি বড় অংশ এই নিয়মগুলি মেনে চলেন এবং নিজেদের জীবনে তার প্রভাব অনুভব করেন বলে দাবি করেন। অতএব, আপনি বিশ্বাস করুন বা না করুন, অন্যের জিনিস ব্যবহার করার আগে একটু সতর্ক থাকা হয়ত খারাপ নয়। ব্যক্তিগত অভ্যাসে ছোট পরিবর্তন অনেক সময় বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলেই মনে করছেন অনেকেই।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Vastu Tips | বাস্তুর আশীর্বাদে বদলে যাচ্ছে ভাগ্য! ঘরে দেখা দিচ্ছে সুখের ৫টি শুভ সংকেত, জানুন কোন লক্ষণ জানায় খারাপ সময় শেষের বার্তা



