Suvendu Adhikari Assembly Live News, Bengal Assembly Live Streaming | বিধানসভা এবার লাইভ! জনগণের সামনে সরাসরি আসবে বিতর্ক, বিল ও বাজেট, ঐতিহাসিক ঘোষণা শুভেন্দুর

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। শুক্রবার বিধানসভা (West Bengal Assembly) অধিবেশনে দাঁড়িয়ে তিনি ঘোষণা করেন, ভবিষ্যতে বিধানসভার কার্যক্রম সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে রাজ্যের মানুষ প্রথমবারের মতো সরাসরি দেখতে পারবেন তাঁদের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা কীভাবে আইন প্রণয়ন, বিতর্ক এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ করছেন। বিধানসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বিধায়কেরা কী কাজ করছেন, তা নিয়ে সাধারণ মানুষ অনেক সময় অন্ধকারে থাকেন। আমরা চাই জনগণের সামনে সব কিছু পরিষ্কারভাবে তুলে ধরা হোক। সেই কারণেই লাইভ সম্প্রচারের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।’ তাঁর এই ঘোষণাকে অনেকেই গণতান্ত্রিক স্বচ্ছতার দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।

শুভেন্দু আরও জানান, শুধু প্রশ্নোত্তর বা গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য নয়, বিধানসভার প্রায় সমস্ত কার্যক্রমই সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। তিনি বলেন, ‘বিল, বাজেট, জিরো আওয়ার, প্রাইভেট মেম্বার বিল, সব কিছুই সরাসরি সম্প্রচারের আওতায় আনা হবে।’ ফলে আইন প্রণয়নের প্রতিটি ধাপ নাগরিকদের কাছে আরও সহজলভ্য হয়ে উঠবে বলে মনে করা হচ্ছে। এই ঘোষণা এমন এক সময় এল, যখন সদ্য পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার নতুন স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন কোচবিহার দক্ষিণের বিজেপি (BJP) বিধায়ক রথীন্দ্র বসু (Rathindra Basu)। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার পর প্রথা অনুযায়ী তাঁকে স্পিকারের আসনে পৌঁছে দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং বিরোধী দলনেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় (Shovan Deb Chattopadhyay)। এরপরই শুরু হয় অধিবেশন, যেখানে মুখ্যমন্ত্রী তাঁর এই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেন।

বক্তব্যের শুরুতেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘বিধানসভা কখনও মারামারির জায়গা হতে পারে না। এটি আলোচনার, মতবিনিময়ের এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার কেন্দ্র।’ তিনি আগের প্রশাসনের দিকে ইঙ্গিত করে মন্তব্য করেন, ‘শাসক ও বিরোধী, উভয় পক্ষই যেন নিজেদের বক্তব্য যথাযথভাবে রাখতে পারেন, সেটাই আমাদের লক্ষ্য।’ তিনি আরও বলেন, ‘বিরোধী দলকে মর্যাদা দিয়ে তাদের কথা বলার যথেষ্ট সুযোগ দেওয়া হবে।’ উল্লেখ্য, বিধানসভার লাইভ সম্প্রচার নিয়ে বিরোধী পক্ষ থেকেও ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া এসেছে। ভাঙড়ের বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি (Nausad Siddiqui) বক্তব্য রাখতে উঠে মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, ‘এই উদ্যোগের ফলে সাধারণ মানুষ সরাসরি দেখতে পাবেন তাঁদের প্রতিনিধি কীভাবে কাজ করছেন।’ উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভায় এর আগে কখনও নিয়মিত লাইভ সম্প্রচারের ব্যবস্থা ছিল না। তৃণমূল কংগ্রেস (Trinamool Congress) -এর আমলে বিশেষ কিছু দিনে, বিশেষ করে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য থাকলে সীমিত আকারে সম্প্রচার করা হত। সেই ক্ষেত্রেও স্পিকারের অনুমতি প্রয়োজন হত। তারও আগে বামফ্রন্ট (Left Front) সরকারের আমলে কোনও দিনই এই ধরনের সম্প্রচারের ব্যবস্থা চালু হয়নি।

অন্যদিকে, দেশের সংসদীয় ব্যবস্থায় লোকসভা (Lok Sabha) এবং রাজ্যসভা (Rajya Sabha)-র কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরেই নির্দিষ্ট টেলিভিশন চ্যানেলের মাধ্যমে সরাসরি দেখানো হয়। ফলে জাতীয় স্তরে যে স্বচ্ছতা রয়েছে, রাজ্য স্তরে তা এত দিন অনুপস্থিত ছিল। এবার সেই ঘাটতি পূরণের পথে এগোচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ। প্রশাসনিক সূত্রে খবর, লাইভ সম্প্রচারের জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত অবকাঠামো গড়ে তোলার কাজ দ্রুত শুরু হতে পারে। টেলিভিশন চ্যানেলের পাশাপাশি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মেও এই সম্প্রচার উপলব্ধ করা হতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে। এর ফলে রাজ্যের যে কোনও প্রান্ত থেকে মানুষ সহজেই বিধানসভার অধিবেশন দেখতে পারবেন। রাজনৈতিক মহলে এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। অনেকেই মনে করছেন, এর ফলে জনপ্রতিনিধিদের উপর জবাবদিহি আরও বাড়বে। জনগণ সরাসরি দেখতে পাবেন কে কী বলছেন, কোন বিষয়ে কী অবস্থান নিচ্ছেন। এতে করে রাজনৈতিক স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পাবে এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া আরও শক্তিশালী হবে।

একই সঙ্গে এই উদ্যোগের ফলে রাজনৈতিক বিতর্কও আরও দায়িত্বশীল হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ, ক্যামেরার সামনে আচরণ ও বক্তব্যের উপর স্বাভাবিকভাবেই বাড়তি নজর থাকবে। ফলে অপ্রাসঙ্গিক বা উত্তেজনাপূর্ণ আচরণ কমার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। শুভেন্দু অধিকারীর এই ঘোষণা রাজ্যের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে। জনগণ এবং সরকারের মধ্যে দূরত্ব কমিয়ে আনার ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, এই সিদ্ধান্ত কত দ্রুত বাস্তবায়িত হয় এবং তার প্রভাব কতটা বিস্তৃত হয়।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Suvendu Adhikari Nandigram seat | ‘ভদ্রাসন ছাড়লেন, সম্পর্ক নয়’ নন্দীগ্রাম থেকে সরে ভবানীপুরে শপথ শুভেন্দুর, রাজনৈতিক অঙ্কে নতুন মোড়

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন